যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইরানের নতুন শান্তি প্রস্তাব পৌঁছে দিল পাকিস্তান
স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নতুন শান্তি প্রস্তাব পাঠিয়েছে ইরান। মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের মাধ্যমে এ প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের একটি প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন এই প্রস্তাবের শর্তগুলো অনেকটাই আগের সেই প্রস্তাবগুলোর মতো, যেগুলো ওয়াশিংটন আগে প্রত্যাখ্যান করেছিল। তবে আজ সোমবার ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, কিছু বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র তাদের অবস্থান কিছুটা নরম করেছে।
পাকিস্তানের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে, ইসলামাবাদ এই নতুন প্রস্তাবটি ওয়াশিংটনের কাছে পৌঁছে দিয়েছে। গত মাসে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ নিয়ে একমাত্র শান্তি বৈঠকের আয়োজন করেছিল পাকিস্তান। এরপর থেকেই তারা দুই পক্ষের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান করাচ্ছে। তবে সূত্রটি ইঙ্গিত দিয়েছে, আলোচনায় অগ্রগতি অর্জন করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
পাকিস্তানি সূত্রটি বলেছে, "দুই পক্ষই বারবার নিজেদের শর্ত বদলাচ্ছে।" তিনি আরও বলেন, "আমাদের হাতে খুব বেশি সময় নেই।"
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাগাই নিশ্চিত করেছেন, তেহরানের অবস্থান "পাকিস্তানের মাধ্যমে আমেরিকার কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে"। তবে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি। অন্যদিকে, ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
জ্যেষ্ঠ ইরানি সূত্রের বর্ণনা অনুযায়ী, নতুন এই প্রস্তাব অনেক দিক থেকেই ইরানের সেই আগের প্রস্তাবটির মতো, যেটিকে গত সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প "আবর্জনা" বলে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।
প্রস্তাবটির মূল লক্ষ্য প্রথমে যুদ্ধ বন্ধ করা, হরমুজ প্রণালি আবার চালু করা এবং নৌ অবোরধ তুলে নেওয়া। আর ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ নিয়ে বিতর্কিত বিষয়গুলো পরবর্তী দফার আলোচনার জন্য রেখে দেওয়া হবে বলে সূত্রটি জানিয়েছে।
তবে ওয়াশিংটনের অবস্থানে কিছুটা নমনীয়তার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। জ্যেষ্ঠ ইরানি সূত্রটি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের জব্দকৃত তহবিলের এক-চতুর্থাংশ ছাড় করতে সম্মত হয়েছে। যদিও ইরান সব সম্পদই ছাড় করার দাবি জানিয়ে আসছে।
সূত্রটি আরও বলেছে, আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার তত্ত্বাবধানে ইরানকে সীমিত পরিসরে শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কার্যক্রম চালিয়ে যেতে দেওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র আগের তুলনায় বেশি নমনীয়তা দেখিয়েছে।
অন্যদিকে, ইরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সি একটি সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, আলোচনা চলাকালে ইরানের ওপর থেকে তেল নিষেধাজ্ঞা শিথিল করতে যুক্তরাষ্ট্র রাজি হয়েছে। তবে এ বিষয়ে ইরানি কর্মকর্তারা তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেননি।
