মিটিং শেষে বাইরে গিয়ে গালিগালাজ করেন পাটওয়ারী, এতে আমরা অভ্যস্ত, একদমই ক্ষুব্ধ নই: সিইসি
নির্বাচন কমিশনকে গোড়া থেকে আগা পর্যন্ত পরিবর্তন করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি বলেছেন, 'আরেকটি গণ-অভ্যুত্থান হলে প্রথমেই নির্বাচন কমিশনে হাত দেওয়া হবে যাতে এই প্রতিষ্ঠানটিকে আপাদমস্তক পরিবর্তন করা যায়।'
বিগত নির্বাচনে চরম 'ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং' হয়েছে দাবি করে তিনি এর তীব্র সমালোচনা করেন এবং এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িতদের ভবিষ্যতে বাংলাদেশের মাটিতে বিচার করার অঙ্গীকার করেন।
আজ সোমবার (১৮ মে) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের সম্মেলন কক্ষে রিপোর্টার্স ফোরাম ফর ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসি (আরএফইডি) এর নবনির্বাচিত কমি অভিষেক ও বিদায়ী কমিটির সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
তবে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বক্তব্যর পর প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন তার বক্তব্যে বলেছেন, 'উনার (পাটওয়ারী) এ ধরনের কথা শুনে আমরা অভ্যস্ত। আমরা একদমই ক্ষুব্ধ নই। এটা গনতন্ত্রের সৌন্দর্য।'
নাসিরউদ্দীন পাটওয়ারী তার বক্তব্যে বলেন, 'ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করে হারানো হয়েছে কক্সবাজারের হামিদুর রহমান আযাদ ভাইকে, যিনি এখানে আছেন। আরো উপস্থিত আছেন শামীম ওসমানের থেকে উদ্ধার হওয়া একটি আসন, আব্দুল্লাহ আল মামুন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি। এখানে তো অনেকে অনেক পজিটিভ (ইতিবাচক) কথা বললেন, কিন্তু এটা টোটালি একটা ইঞ্জিনিয়ারড ইলেকশন (সম্পূর্ণ একটি পাতানো নির্বাচন) ছিল।'
তিনি আরও বলেন, 'এটাতে আপনারা অনেকে রাগ করবেন, নির্বাচন কমিশন প্রধান এখানে আছেন, হয়তোবা এই বক্তব্যের পরে এই অফিসে আমারে ঢুকতে দিবে কি-না এটা জানি না। তবে ইনশাল্লাহ আরেকটা গণ-অভ্যুত্থান হলে প্রথমেই আমি এটাতে হাত দিব, নির্বাচন কমিশনটা আপাদমস্তক অর্থাৎ গোড়া থেকে আগা পর্যন্ত পরিবর্তন করবো। আমার ফার্স্ট টার্গেট (প্রথম লক্ষ্য) হবে এটা।'
নির্বাচনে দ্বিমুখী নীতির অভিযোগ এনে পাটওয়ারী বলেন, 'আমি একজন প্রার্থী হিসেবে এই ইলেকশনে যেটা দেখেছি, আমি নির্বাচন কমিশনে ফোন দিয়েছিলাম। উনারা মামুনুল হকের আসনে একটা নির্দেশনা দিয়েছিল যে বক্সের বাহিরে যদি সিল পড়ে সেটা কাউন্ট হবে না। কিন্তু আমার আসনে নির্দেশনা দিয়েছিল যে, বক্সের বাহিরে যদি সিল পড়ে সেটা কাউন্ট হবে।'
তিনি বলেন, 'সেখানে নির্বাচনের দিন ডিজিএফআই, এনএসআই এবং অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থা থেকে শুরু করে কিভাবে ডিসি অফিসে নগ্নভাবে একটা ইলেকশনের ইঞ্জিনিয়ারিং করতে পারে, সেটা এই বাংলাদেশ দেখেছে। সে রিপোর্টগুলো আমরা বিভিন্ন জায়গায় ইন্টারন্যাশনাল কমিউনিটির কাছেও দিয়েছি। যেহেতু আমি নিজে এর নগ্ন সাক্ষী ছিলাম, ইনশাল্লাহ এই পরিবর্তনটা হবে। বাংলাদেশে বলা হয়ে থাকে যে, আমাদের নির্বাচন কমিশনের জায়গাটার যদি মেরুদন্ড সোজা থাকে, তাহলে বাংলাদেশটা অনেক দূর এগিয়ে যায়।'
তবে নাসিরউদ্দীন পাটোয়ারী বক্তব্যর পর প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন তার বক্তব্যে বলেছেন, 'উনার এ ধরনের কথা শুনে আমরা অভ্যস্ত। এর আগে আমাদের সঙ্গে যখন মিটিং হতো, মিটিং শেষ করে বাইরে গিয়ে মিডিয়ার সামনে আমাদের গালিগালাজ করেছেন উনি (পাটওয়ারী)। তবে আমরা একদমই ক্ষুব্ধ নই। এটা গনতন্ত্রের সৌন্দর্য।'
সিইসি আরও বলেন, 'নির্বাচন কি রকম হয়েছে আপনারা এবং দেশবাসী দেখেছেন। নাসিরউদ্দিন পাটওয়ারী মিটিং শেষ করে বাইরে গিয়ে গালিগালাজ করলেও আমি ক্ষুব্ধ নই। আমি ব্যক্তিগতভাবে উনাকে পছন্দ করি। উনি মুখের ওপরে হক কথা বলেন। উনার এ ধরনের কথা শুনে আমরা অভ্যস্ত।'
