১০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি পর আদানির বিরুদ্ধে জালিয়াতির মামলা তুলে নিল ট্রাম্প প্রশাসন
ট্রাম্প প্রশাসন সোমবার ভারতীয় ধনকুবের গৌতম আদানির বিরুদ্ধে আনা ফৌজদারি জালিয়াতির অভিযোগ খারিজের উদ্যোগ নেয়। একই সঙ্গে তার একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের অভিযোগও নিষ্পত্তি করা হয়।
বিশ্বের অন্যতম ধনী ব্যক্তির বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর নিষ্পত্তি এমন সময় এলো, যখন আদানির আইনজীবী—যিনি একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যক্তিগত আইনজীবী—গত মাসে বলেছিলেন, তার মক্কেল যুক্তরাষ্ট্রে ১০ বিলিয়ন (এক হাজার কোটি) ডলার বিনিয়োগ করতে চান, কিন্তু মামলাগুলো চলমান থাকায় তা করতে পারছেন না বলে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র জানিয়েছে।
এটি ট্রাম্পের বিচার বিভাগের পক্ষ থেকে তার ডেমোক্র্যাট পূর্বসূরি জো বাইডেনের আমলে আনা একটি আলোচিত মামলা থেকে সরে আসার সর্বশেষ উদাহরণ।
ফোর্বস সাময়িকীর তথ্যমতে, আদানির আনুমানিক সম্পদের পরিমাণ ৮ হাজার ২০০ কোটি ডলার।
আদানির বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, আদানি গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান আদানি গ্রিন এনার্জিকে ভারতের সবচেয়ে বড় সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের অনুমোদন পাইয়ে দিতে ভারতীয় সরকারি কর্মকর্তাদের ২৬ কোটি ৫০ লাখ ডলার ঘুষ দেওয়ার বিষয়ে তিনি সম্মত হয়েছিলেন। এরপর প্রতিষ্ঠানটির দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রম সম্পর্কে আশ্বস্তমূলক তথ্য দিয়ে মার্কিন বিনিয়োগকারীদের বিভ্রান্ত করা হয়েছিল।
প্রসিকিউটররা বলেন, আদানি এবং তার কথিত সহযোগীরা ঋণদাতা ও বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে তাদের দুর্নীতির তথ্য গোপন করে ৩০০ কোটি ডলারের বেশি অর্থ সংগ্রহ করেছিলেন।
আদানি গ্রুপ ধারাবাহিকভাবে সব ধরনের অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। আদানি প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান।
সোমবারের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ জানায়, আদানি গ্রুপের অংশ আদানি এন্টারপ্রাইজেস ইরান-সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের অভিযোগ নিষ্পত্তিতে ২৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার পরিশোধে সম্মত হয়েছে। অভিযোগ ছিল, আদানি এন্টারপ্রাইজেস দুবাইভিত্তিক এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের চালান কিনেছিল। ওই ব্যবসায়ী দাবি করেছিলেন সেগুলো ওমান ও ইরাকের গ্যাস, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে সেগুলোর উৎস ছিল ইরান।
আদানি এন্টারপ্রাইজেস ভারতে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস আমদানিও বন্ধ করেছে এবং ট্রেজারি বিভাগের নির্দেশনা অনুসরণ নিশ্চিত করতে কমপ্লায়েন্স প্রধানের একটি পদ সৃষ্টি করেছে।
আলাদাভাবে, ভারতীয় সরকারি কর্মকর্তাদের ঘুষ দেওয়ার কথিত পরিকল্পনা নিয়ে আদানির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার দায়ের করা দেওয়ানি মামলাও সমঝোতার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়েছে বলে গত সপ্তাহের আদালতের নথিতে দেখা গেছে। তবে এই সমঝোতা কার্যকর হতে আদালতের অনুমোদন প্রয়োজন।
