ইরানে নতুন করে হামলা চালাতে বিলম্ব করব, ‘সম্ভবত আগামী সপ্তাহের শুরু পর্যন্ত’: ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার বলেছেন, পারস্য উপসাগরীয় তিনটি আরব রাষ্ট্রের অনুরোধে গতকাল সোমবার হামলা স্থগিত করার আগে তিনি ইরানে নতুন করে হামলা চালানোর দ্বারপ্রান্তে ছিলেন।
হোয়াইট হাউসে সিএনএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, "আমি এক ঘণ্টা দূরে ছিলাম; আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত ছিলাম। এটা এখনই ঘটার কথা ছিল।"
''মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও অন্যান্য অস্ত্র লোড করা হয়েছিল এবং এসব জাহাজ অগ্রসর হওয়ার জন্য প্রস্তুত ছিল'', যোগ করেন তিনি।
ট্রাম্প সোমবার ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব এবং কাতারের নেতারা একটি কূটনৈতিক সমাধানের দিকে আলোচনা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার আশায় তাকে অপেক্ষা করার জন্য অনুরোধ করেছিলেন। এরপরই পর তিনি হামলাটি স্থগিত করেন।
ট্রাম্প জানিয়েছেন, নতুন করে হামলা চালানোর কথা ভাবার সময় তিনি দুই দিন ধরে আরব রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে কথা বলেছেন। এসব রাষ্ট্র ফোনে তাকে জানিয়েছে যে ইরানের সঙ্গে আলোচনায় "তারা অনেক অগ্রগতি করেছে"।
ট্রাম্প জানান, আলোচনা এগোয় কি না, তা দেখার জন্য তিনি এই সপ্তাহের শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে রাজি আছেন। তবে তিনি পুনরায় যুদ্ধ শুরু করতে পারেন বলে সতর্ক করে বলেন, যুদ্ধ বন্ধে শান্তিচুক্তির চেষ্টা চললেও প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানে ''আরেকটি বড় ধরনের হামলা'' চালাতে হতে পারে।
''আমি বলছি দুই-তিন দিনের কথা, হতে পারে শুক্রবার, শনিবার, রবিবার বা ওইরকম কোনো দিন, হয়তো আগামী সপ্তাহের শুরুর দিকে, একটা সীমিত সময়ের জন্য। কারণ, আমরা তাদের (ইরান) একটা নতুন পারমাণবিক অস্ত্র হাতে পেতে দিতে পারি না'', বলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
সেই সঙ্গে ট্রাম্প দাবি করেন, তেহরান একটি চুক্তির জন্য অনুনয় করছে।
ইরানে কোনো অস্ত্র পাঠাচ্ছে না চীন: ট্রাম্প
ট্রাম্প বলেছেন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং তাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, তিনি ইরানে কোনো অস্ত্র পাঠাচ্ছেন না।
হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, "এটি একটি চমৎকার প্রতিশ্রুতি। আমি তার কথায় বিশ্বাস করি। আমি এর প্রশংসা করি।"
কোনো সামরিক আগ্রাসন মোকাবিলায় প্রস্তুত ইরান: উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী
ইরানের হামলার পরিকল্পনা স্থগিত করেছেন বলে গতকাল সোমবার যে বক্তব্য দিয়েছেন, সেটির প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইরানের আইন ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজিম গারিবাবাদি।
এক্সে এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, "এটি যেকোনো মুহূর্তে একটি ব্যাপক হামলার প্রস্তুতির ইঙ্গিত দেয়। এর অর্থ হলো 'হুমকি'-কে 'শান্তির সুযোগ'নামে অভিহিত করা।''
"ঐক্যবদ্ধ ও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ইরান যেকোনো সামরিক আগ্রাসন মোকাবিলায় প্রস্তুত", বলেন তিনি।
