ট্রাম্পের প্রত্যাবাসন করা ভেনেজুয়েলিয়ানদের তুলনায় নাজিরা আরও ভালো ব্যবহার পেয়েছিল: মার্কিন বিচারক

যুক্তরাষ্ট্রের একটি আপিল আদালতের বিচারক সোমবার মন্তব্য করেছেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নাজি সদস্যদের যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রত্যাবাসনের সময় যেসব অধিকার দেওয়া হয়েছিল, তা বর্তমানে ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে ভেনেজুয়েলান অভিবাসীদের চেয়ে অনেক বেশি ছিল।
এই মন্তব্যটি আসে একটি উত্তপ্ত শুনানির মধ্যে, যেখানে বিচারক প্যাট্রিসিয়া মিলেট সরকারপক্ষের আইনজীবী ড্রু এনসাইনকে ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে ভেনেজুয়েলান অভিবাসীদের প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন করেন।
মিলেট বলেন, 'নাজি সদস্যরা এলিয়েন এনিমিজ অ্যাক্টের অধীনে যেসব অধিকার পেয়েছিল, তা আজকের পরিস্থিতির চেয়ে অনেক ভালো ছিল'।
ট্রাম্প প্রশাসন এলিয়েন এনিমিজ অ্যাক্ট ব্যবহার করার আগে, যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এই আইনটি মাত্র তিনবার ব্যবহার করা হয়েছিল। সর্বশেষ ২য় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে জাপানি, জার্মান এবং ইতালীয় অভিবাসীদের প্রত্যাবাসনের জন্য এটি ব্যবহার করা হয়েছিল।
ট্রাম্প প্রশাসন আপিল কোর্টের কাছে আবেদন করেছে, যেন ১৫ মার্চ মার্কিন ডিস্ট্রিক্ট আদালতের বিচারক জেমস বোসবার্গের দেওয়া দুই সপ্তাহের নিষেধাজ্ঞা বাতিল করা হয়। এই নিষেধাজ্ঞা দিয়ে এলিয়েন এনিমিজ অ্যাক্ট ব্যবহার করে ট্রেন ডে আরাগুয়া গ্যাংয়ের সদস্যদের প্রত্যাবাসন বন্ধের আদেশ দেওয়া হয়েছিল। অভিবাসন বিচারকদের থেকে চূড়ান্ত আদেশ ছাড়াই তাদের প্রত্যাবাসনের চেষ্টা করা হয়েছিল।
সাবেক ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার নিয়োগ করা বিচারক মিলেট যুক্তরাষ্ট্রের ডিসি সার্কিট কোর্টের তিনজন বিচারকের মধ্যে একজন, যিনি ট্রাম্প প্রশাসনের আইনজীবীর করা চ্যালেঞ্জের শুনানি করছেন।
ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে নিয়োগপ্রাপ্ত যুক্তরাষ্ট্রের সার্কিট বিচারক জাস্টিন ওয়াকার সরকারপক্ষের যুক্তির প্রতি বেশি সমর্থন দেখিয়েছেন। প্যানেলের তৃতীয় বিচারক ক্যারেন হেনডারসন, যাকে রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট জর্জ এইচ.ডব্লিউ. বুশ নিয়োগ দিয়েছিলেন, তিনি নিরপেক্ষ ছিলেন। আদালত এখনও রায় ঘোষণার তারিখ জানায়নি।
বোসবার্গ ৩৭ পৃষ্ঠার এক রায়ে সোমবার বলেছেন, ট্রাম্প প্রশাসন যাদের প্রত্যাবাসনে আগ্রহী, তাদের সরকারপক্ষের দাবি চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ দিতে হবে। প্রত্যাবাসনের শিকার হওয়া অনেক ভেনেজুয়েলান অভিবাসীর পরিবার ট্রেন ডে আরাগুয়া গ্যাংয়ের সঙ্গে তাদের স্বজনদের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।
এটি ট্রাম্পের নির্বাহী ক্ষমতার এক বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে। রিপাবলিকানরা সিনেট ও হাউজে সংখ্যাগরিষ্ঠ এবং প্রেসিডেন্টের এজেন্ডার পক্ষে থাকায়, ফেডারেল বিচারকরা প্রায়ই একমাত্র বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন।
বোসবার্গের আদেশে ট্রাম্প প্রশাসন ভীষণ বিরক্ত হয়ে বিচারকের অভিশংসন চেয়েছিল। এর প্রতিক্রিয়ায়, সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস এক বিরল বিবৃতিতে ট্রাম্পকে শাসিয়েছেন এবং বলেছেন, বিচারিক সিদ্ধান্ত নিয়ে অসন্তুষ্ট হলে অভিশংসন নয়, আপিল করা উচিত।
ট্রাম্প প্রশাসন আদেশ অমান্য করে ফেরত পাঠানোর জন্য বিমান পাঠিয়েছে কিনা, বোসবার্গ এখন সেটি তদন্ত করছেন। সোমবারের রায়ে তিনি লিখেছেন, প্রশাসন 'বিপর্যয় এড়ানোর জন্য' অভিযুক্তদের দ্রুত বিমানে উঠিয়ে দিয়েছিল।
বিচারক বোসবার্গ ট্রাম্প প্রশাসনের দুই সপ্তাহের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার আবেদনও নাকচ করেছেন। ট্রাম্প দাবি করেছেন, আদালতই ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করছে, তার প্রশাসন নয়।
আইনজীবী এনসাইন বিচারকদের বলেছিলেন, বোসবার্গের আদেশ স্থগিত করা উচিত, কারণ বিচারক পররাষ্ট্রর নীতির বিষয়ে প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তের পর্যালোচনা করতে পারেন না।