৫ বছরে ছানিজনিত অন্ধত্ব নির্মূলের লক্ষ্য, প্রান্তিক মানুষের কাছে পৌঁছাবে হাইটেক চক্ষুসেবা: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী
আগামী চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে দেশে ছানিজনিত অন্ধত্ব (ক্যাটারাক্ট ব্লাইন্ডনেস) পুরোপুরি নির্মূলের আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত। সরকারি, বেসরকারি ও এনজিও খাতের সমন্বিত উদ্যোগে জাতীয় রোডম্যাপ বাস্তবায়নের মাধ্যমে এ লক্ষ্য অর্জন সম্ভব বলে জানিয়েছেন তিনি।
একই সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর চক্ষুসেবা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের দরিদ্র মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে আয়োজিত 'বাংলাদেশে উন্নত চক্ষুসেবা: দৃষ্টিপ্রতিবন্ধকতা হ্রাস এবং অন্ধত্ব প্রতিরোধে কর্মপরিকল্পনা' শীর্ষক স্টেকহোল্ডার কনসালটেশন কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. এম এ মুহিত বলেন, দেশে সরকারি, বেসরকারি ও এনজিও—তিন খাতেই চক্ষুসেবায় উল্লেখযোগ্য কাজ হচ্ছে। তবে এসব উদ্যোগের মধ্যে সমন্বিত ও অভিন্ন রিপোর্টিং ব্যবস্থা নেই। এ কারণে একটি জাতীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, 'এই খাতে একদিনে পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়। তাই আমরা পাঁচ বছর মেয়াদি একটি পার্সপেক্টিভ প্ল্যান নিয়ে এগোচ্ছি।'
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জানান, পরিকল্পনার প্রথম বছরেই জেলা হাসপাতালগুলোর বিদ্যমান চক্ষুসেবা সুবিধা ও কার্যক্রম পুনর্মূল্যায়ন করা হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন জনবল নিয়োগ এবং জেলা পর্যায়ের হাসপাতালের সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, দেশের সব বয়সী মানুষের কাছে চক্ষুসেবা পৌঁছে দিতে বিশেষ কর্মসূচি নেওয়া হবে। স্কুলগামী শিশুদের চোখের সমস্যা শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় চশমা সরবরাহের জন্য সমন্বিত ক্যাম্পেইন চালানো হবে।
এ ছাড়া কলকারখানা, অফিস ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত মানুষের চোখের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় উদ্যোগ নেওয়া হবে। কর্মীদের প্রয়োজনীয় চশমা সরবরাহ করা গেলে তাদের উৎপাদনশীলতা বাড়ে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বয়স্কদের ছানি চিকিৎসায় বড় পরিসরে ক্যাটারাক্ট সার্জারি কর্মসূচি নেওয়ার কথা জানিয়ে ডা. মুহিত বলেন, প্রতি বছর কয়েক লাখ সফল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে আগামী চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে দেশকে ছানিজনিত অন্ধত্বমুক্ত করা সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথির মতো চক্ষু সমস্যার চিকিৎসায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। এআই-ভিত্তিক উন্নত স্ক্রিনিং ব্যবস্থা চালু করা যেতে পারে। প্রযুক্তির ব্যবহারে মাঠপর্যায়ে মানুষের কাছে চক্ষুসেবা পৌঁছে দেওয়া আগের চেয়ে সহজ হয়েছে।
'হাইটেক আই কেয়ার শুধু শহরের ধনীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, এটি প্রান্তিক মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে হবে'—বলেন তিনি।
চক্ষুসেবা খাতের বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দক্ষ জনবলের ঘাটতির কথা উল্লেখ করে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। সরকারি-বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠানের প্রশিক্ষণ সক্ষমতা ও মান বাড়ানোর মাধ্যমে চিকিৎসকদের দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ তৈরি করতে হবে।
কর্মশালায় জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক অধ্যাপক ডা. এ এস এম এবং ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক (অফথালমোলজি) ডা. সৈয়দ মেহবুব উল কাদির বক্তব্য দেন। এ ছাড়া এআরকে ফাউন্ডেশন ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রতিনিধিরা মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
