২০ এপ্রিল থেকে দেশজুড়ে শুরু হচ্ছে হাম-রুবেলার টিকাদান, পাবে ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সি শিশুরা: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত বলেছেন, আগামী ২০ এপ্রিল থেকে সারাদেশে একযোগে হাম ও রুবেলা প্রতিরোধের বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু হবে।
রোববার (১২ এপ্রিল) সকালে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের কড়াইল বস্তির এরশাদ মাঠে 'জরুরি হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন ২০২৬' উদ্বোধনকালে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এই ঘোষণা দেন।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রী জানান, ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী (৫ বছরের কম) শিশুদের এই টিকার আওতায় আনা হবে।
মন্ত্রী বলেন, "আপনারা জানেন গত ১৭ তারিখে (মার্চ) আমরা দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে দিনরাত পরিশ্রম করছি। গত ১লা এপ্রিল আমরা ইউনিসেফ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সাথে জরুরি বৈঠক করি। মাত্র চার দিনের ব্যবধানে ৫ই এপ্রিল থেকে ১৮টি জেলার ৩০টি উপজেলায় (যেখানে প্রাদুর্ভাব বেশি) আমরা টিকা দেওয়া শুরু করেছি। আজ ১২ এপ্রিল সিটি কর্পোরেশনগুলোতে এই কার্যক্রম শুরু হলো এবং ইনশাআল্লাহ ২০ এপ্রিল থেকে গোটা বাংলাদেশে এই কর্মসূচি শুরু হবে।"
'হার্ড ইমিউনটি' বা গোষ্ঠী সুরক্ষা টিকা কেন সবাইকে নিতে হবে, তার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দিয়ে মন্ত্রী বলেন, মেডিকেল সায়েন্সে একটি কথা আছে— 'হার্ড ইমিউনটি'। অর্থাৎ একটি নির্দিষ্ট এলাকার অন্তত ৯৫ শতাংশ শিশুকে যদি টিকার আওতায় না আনা যায়, তবে বাকি শিশুরা সুরক্ষিত থাকবে না। হাম অত্যন্ত ছোঁয়াচে। একজন আক্রান্ত হলে দ্রুত আরও ১৮ জনের মধ্যে তা ছড়িয়ে পড়ে। তাই দুই-চারজন শিশুও যেন টিকার বাইরে না থাকে, তা আমাদের নিশ্চিত করতে হবে।
খেটে খাওয়া মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবা রাজধানীর মানিকদি ও কড়াইল এলাকার শ্রমজীবী মানুষের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, আমরা গণমানুষের রাজনীতি করি। একজন দিনমজুর যখন ডাক্তারের কাছে যান, তখন তার ওই দিনের রোজগার নষ্ট হয়। আমরা এই বাস্তবতা বুঝি। তাই ঢাকা উত্তরের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টনের সাথে আমার আলোচনা হয়েছে—কিভাবে খেটে খাওয়া মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবা আরও সহজলভ্য করা যায়। সিটি কর্পোরেশন ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সমন্বিতভাবে এই কাজ করবে।
গণমাধ্যমকর্মীদের 'স্বাস্থ্যকর্মী' হিসেবে অভিহিত করে মন্ত্রী বলেন, যেকোনো স্বাস্থ্য কর্মসূচির সফলতায় 'হেলথ কমিউনিকেশন' বা সঠিক বার্তা পৌঁছে দেওয়া জরুরি। আপনারা কেবল সংবাদকর্মী নন, জরুরি স্বাস্থ্যবার্তা জনগণের কাছে পৌঁছে দিয়ে আপনারা এই কর্মসূচির অংশীদার হবেন।
এসময় ডিএনসিসি প্রশাসক জনাব মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের রাজনৈতিক অঙ্গীকার অনুযায়ী মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে অতি দ্রুত প্রতিটি ওয়ার্ডের 'নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্র'গুলো সচল করা হবে। আমি আমাদের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছি প্রতিটি কেন্দ্রের বর্তমান অবস্থা নিয়ে প্রতিবেদন জমা দিতে, যাতে নগরবাসী সহজেই সেবা পেতে পারে।
তিনি আরও বলেন, মহাখালীতে আমাদের নিজস্ব জায়গায় অব্যবস্থাপনা রয়েছে। আমরা সেখানে উত্তর সিটি কর্পোরেশনের অধীনে একটি আধুনিক 'জেনারেল হাসপাতাল' গড়ে তুলতে চাই। এ বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী আমাকে আশ্বস্ত করেছেন, যা বাস্তবায়িত হলে মানুষ সুলভে উন্নত চিকিৎসা পাবে।
টিকাদান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শিশুদের ভবিষ্যৎ স্বাস্থ্যঝুঁকি মুক্ত রাখতে হাম ও রুবেলা টিকা নিশ্চিত করা জরুরি। সারা দেশে ১৪ হাজার রোগী পাওয়া গেলেও প্রধানমন্ত্রীর নিবিড় তদারকিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে।
টিকাদান কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন বিশেষ অতিথি বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবদুস সাত্তার পাটোয়ারি, ডিএনসিসির প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান, ইউনিসেফ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধিরা।
