গান গেয়ে ভাইরাল শিক্ষক তাশরিককে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গান গেয়ে ভাইরাল হওয়া এবং তা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক চৌধুরী মো. তাশরিক-ই-হাবিবকে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
সোমবার (২৩ জুন) রাতে অনুষ্ঠিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেটের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মঙ্গলবার দুপুরে বিষয়টি দ্য বিজনেজ স্ট্যান্ডার্ডকে নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, একাডেমিক কাউন্সিলের সুপারিশের ভিত্তিতে তাশরিক-ই-হাবিবকে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গান গেয়ে তিনি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেন এবং সমালোচনার মুখে পড়েন।
এ বিষয়ে অধ্যাপক আবদুস সালাম বলেন, 'আমাদের কাছে অভিযুক্তদের বিষয়ে যে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনগুলো এসেছে, আমরা তা গ্রহণ করেছি। এসব প্রতিবেদনের আলোকে পরবর্তী প্রক্রিয়া অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
একই সভায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় বিতর্কিত কর্মকাণ্ড ও শিক্ষার্থীদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে তিন শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত এবং একজন শিক্ষককে সাময়িকভাবে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে বিরত রাখার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।
সাময়িকভাবে বরখাস্ত হওয়া শিক্ষকরা হলেন লোক প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক নাজমুল আহসান কলিম উল্লাহ, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আ ক ম জামাল উদ্দীন এবং ব্যাংকিং অ্যান্ড ইনস্যুরেন্স বিভাগের অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম। এছাড়া উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ আজমল হোসেন ভূঁইয়াকে সাময়িকভাবে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের একজন শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে জানান, আর্থিক অনিয়ম, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সাম্প্রতিক নেতিবাচক ভূমিকা ও অতীতের বিভিন্ন অভিযোগ আমলে নিয়ে বাংলা বিভাগের একাডেমিক কমিটি তাশরিক-ই-হাবিবকে চাকরি থেকে অপসারণের ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অনুরোধ জানায়। একাডেমিক কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে সিন্ডিকেট তাশরিক-ই-হাবিবকে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
একই অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা লাভলু মোল্লা শিশিরকেও সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
এদিকে, ২০১৯ সালের ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রত্ব না থাকায় সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর ডাকসুর জিএস পদ বাতিলের সিদ্ধান্তও হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক সালাম।
এর আগে গত বছরের নভেম্বরে একাডেমিক কাউন্সিল গোলাম রাব্বানীর এমফিল প্রোগ্রামে ভর্তি যথাযথ প্রক্রিয়ায় হয়নি উল্লেখ করে তা বাতিলের সুপারিশ করে। একই সঙ্গে ২০১৯ সালের ডাকসু নির্বাচনে তার জেনারেল সেক্রেটারি (জিএস) পদ অবৈধ ঘোষণারও সুপারিশ করা হয়।
