ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারসি বিভাগের শিক্ষককে অব্যাহতি, সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি শিক্ষার্থীদের
সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সিন্ডিকেট সভায় নেওয়া ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বাহাউদ্দিন একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছে বিভাগের চারটি ব্যাচের শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীদের দাবি, অধ্যাপক বাহাউদ্দিনের অধীনে পরিচালিত পাঁচটি কোর্সের অধিকাংশ ক্লাস ও মিডটার্ম পরীক্ষা ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। এ অবস্থায় তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিলে তাদের একাডেমিক কার্যক্রম ব্যাহত হবে।
এ দাবিতে গত ৬ আগস্ট ওই বিভাগের চারটি ব্যাচের শিক্ষার্থীরা পৃথক আবেদনপত্রের মাধ্যমে বিভাগের চেয়ারম্যানের কাছে দাবি জানান। পরে গতকাল সোমবার (১০ আগস্ট) তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার অনুরোধ করেন।
আবেদনে শিক্ষার্থীর সর্বসম্মতিক্রমে একাডেমিক স্বার্থ বিবেচনায় অধ্যাপক মোহাম্মদ বাহাউদ্দিনকে দায়িত্ব থেকে বিরত রাখার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা এবং চলমান কোর্সগুলো পরিচালনার জন্য তাকে পুনরায় দায়িত্বে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান।
অধ্যাপক বাহাউদ্দিন বর্তমানে বিভাগের প্রথম বর্ষ, দ্বিতীয় বর্ষ, চতুর্থ বর্ষ ও স্নাতকোত্তর শ্রেণির মোট পাঁচটি কোর্সের পাঠদান করছিলেন।
এর আগে, গত ২৮ জুলাইয়ের বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেট সভায় পৃথক অভিযোগের ভিত্তিতে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিমসহ তিন শিক্ষককে বরখাস্ত এবং চার শিক্ষককে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে বিরত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এদের মধ্যে বিভাগের 'বিভিন্ন অনিয়ম' এবং এমফিল ও পিএইচডি থিসিসে সাদৃশ্যপূর্ণ চৌর্যবৃত্তির অভিযোগের ভিত্তিতে অধ্যাপক মোহাম্মদ বাহাউদ্দিনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে বিরত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
অধ্যাপক মোহাম্মদ বাহাউদ্দিন পূর্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামী পন্থী শিক্ষকদের সংগঠন নীল দলের যুগ্ম আহবায়ক ও বিভাগটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন।
এ বিষয়ে ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের চেয়ারম্যান সহযোগী অধ্যাপক ড. মুমিত আল রশীদ মঙ্গলবার দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে (টিবিএস) বলেন, 'গত বৃহস্পতিবার চারটি ব্যাচের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে একটি লিখিত আবেদন পেয়েছি। সিন্ডিকেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী ফোরাম। তাদের সিদ্ধান্তের প্রতি পূর্ণ সম্মান রেখেই শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়টি বিবেচনা করে বিভাগের একাডেমিক কমিটি সর্বসম্মতিক্রমে উপাচার্য মহোদয়ের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছে।'
তিনি বলেন, 'চিঠিতে শিক্ষার্থীদের দাবির পাশাপাশি শিক্ষক স্বল্পতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে অক্টোবর পর্যন্ত সিদ্ধান্তটি স্থগিত রাখা যায় কি না, সে বিষয়ে বিবেচনার সুপারিশ করা হয়েছে।'
