মৃত্যুদণ্ডের বিধান থাকায় প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য দেয়নি জাতিসংঘ: ট্রাইব্যুনালকে প্রসিকিউশন
২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময় সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় জাতিসংঘের তথ্য-অনুসন্ধান (ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং) প্রতিবেদনে উল্লিখিত প্রত্যক্ষদর্শীদের পরিচয় প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে জাতিসংঘ।
আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন, ১৯৭৩-এ মৃত্যুদণ্ডের বিধান থাকায় এবং জাতিসংঘ মৃত্যুদণ্ডের বিরোধী হওয়ায় সংস্থাটি এই অবস্থান নিয়েছে বলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালকে জানিয়েছে প্রসিকিউশন।
বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ দলটির সহযোগী সংগঠনের সাত নেতার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দ্বিতীয় দিনের যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হোসেন তামিম এ তথ্য জানান।
প্রসিকিউটর তামিম আদালতে বলেন, 'আইনে এখনও মৃত্যুদণ্ডের বিধান বহাল থাকায় আমরা জাতিসংঘের প্রতিবেদনে উল্লেখিত প্রত্যক্ষদর্শীদের পরিচয় সংগ্রহ করতে পারিনি। কারণ জাতিসংঘ বিশ্বজুড়েই মৃত্যুদণ্ডের বিরোধী।' তিনি আরও জানান, এ কারণে প্রসিকিউশন নিজস্ব প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য আদালতের সামনে উপস্থাপন করেছে।
শুনানিতে প্রসিকিউশন পক্ষ থেকে আরও জানানো হয় যে, জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তর (ওএইচসিএইচআর) ইঙ্গিত দিয়েছে যে, যদি আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন থেকে মৃত্যুদণ্ডের বিধান বাতিল করা হয়, তবে তাদের প্রতিবেদনে ব্যবহৃত প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য সরবরাহ করার বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে।
যুক্তিতর্ক চলাকালীন ওএইচসিএইচআরের ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং প্রতিবেদনের উল্লেখযোগ্য অংশ তুলে ধরেন প্রসিকিউটর তামিম। তিনি বলেন, প্রতিবেদনে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে যে, ২০২৪ সালের ১৪ থেকে ১৭ জুলাইয়ের মধ্যে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের নির্দেশে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের সশস্ত্র কর্মীরা আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালায়।
শুনানি শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রসিকিউটর তামিম বলেন, 'নিরাপত্তাজনিত কারণে জাতিসংঘ সাধারণত সাক্ষীদের পরিচয় প্রকাশ করে না। তবে আমাদের ধারণা, বাংলাদেশের আইনে মৃত্যুদণ্ডের বিধান থাকাও এ ক্ষেত্রে একটি বড় কারণ।'
উল্লেখ্য, এই মামলায় ওবায়দুল কাদের ছাড়াও অন্য আসামিরা হলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এএফএম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।
