পরপর দুইবার ব্যর্থতার পর ক্রিস্টা পাইকের মৃত্যুদণ্ড বন্ধের আহ্বান জানালেন জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান
'একাধিকবার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ব্যর্থ প্রচেষ্টার ফলে যে দীর্ঘস্থায়ী শারীরিক ও মানসিক যন্ত্রণার সৃষ্টি হয়েছে, তা অত্যন্ত ঘৃণ্য ও নিষ্ঠুর' বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক প্রধান ভলকার তুর্ক।
ক্রিস্টা পাইকের ন্যায্য বিচার হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে এখনো অমীমাংসিত থাকা প্রশ্নগুলোর দিকে ইঙ্গিত করে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক প্রধান বলেন, এসব প্রশ্নের কারণে তার বিরুদ্ধে আবারও মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা চালানো নিয়ে আরও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট দপ্তর যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সংখ্যা বাড়ছে বলে যে তথ্য জানিয়েছে, সেই প্রেক্ষাপটে ভুলকার তুর্ক এই বিবৃতি দেন। পাইকের ঘটনা দেশটিতে মৃত্যুদণ্ডের মানবাধিকারগত প্রভাবের বিষয়টি আবারও আলোচনার সামনে নিয়ে এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে ন্যায্য বিচার নিশ্চিত করার সুরক্ষা এবং একাধিকবার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টার মুখোমুখি হওয়া ব্যক্তিদের সঙ্গে আচরণের বিষয়টিও।
'কোনো সমাজেই এর স্থান নেই'
ভলকার তুর্ক মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে জাতিসংঘের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, "কোনো সমাজেই মৃত্যুদণ্ডের কোনো স্থান নেই।"
জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের নিয়োগ দেওয়া নয়জন বিশেষজ্ঞও একই আহ্বান জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার ওই বিশেষজ্ঞরা বলেন, "টেনেসি অঙ্গরাজ্যকে অবিলম্বে এবং স্থায়ীভাবে ক্রিস্টা পাইকের মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে দিয়ে এই নিষ্ঠুরতা বন্ধ করতে হবে।"
তারা বলেন, "একবার নয়, দুইবার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়া নির্যাতন নিষিদ্ধ করার নীতির এবং বিচারবহির্ভূতভাবে জীবন কেড়ে নেওয়া নিষিদ্ধ করার নীতির স্পষ্ট লঙ্ঘন। এই ঘটনা দেখিয়ে দেয় কেন বিশ্বের সর্বত্র মৃত্যুদণ্ড নিষিদ্ধ করা উচিত।"
