গাজীপুর নয়, ঢাকার তাঁতীবাজার থেকে পালিয়েছিলেন ‘পিচ্চি রাজা’, দুই পুলিশ গ্রেপ্তার
ঢাকার আদালত থেকে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে নেওয়ার পথে শীর্ষ মাদক কারবারি হিসেবে পরিচিত রাজা ওরফে 'পিচ্চি রাজা'র (৩০) প্রিজন ভ্যান থেকে পালানো নিয়ে এবার নতুন তথ্য সামনে এসেছে। তদন্তে উঠে এসেছে, তার পালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে ওই সময় দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা যে ঘটনার বর্ণনা দিয়েছিলেন, তা ছিল মিথ্যা।
প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে, পিচ্চি রাজা গাজীপুরের বাইমাইল বা নাওজোড় হাইওয়ে থানার সামনে থেকে নয়, বরং ঢাকার তাঁতীবাজার এলাকা থেকেই পালিয়ে গিয়েছিলেন। এ ঘটনার প্রায় সাত দিন পেরিয়ে গেলেও তাকে এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
এদিকে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে পিচ্চি রাজার পালিয়ে যাওয়াও সহায়তা করা ও দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে ইতোমধ্যে দুই পুলিশ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে গাজীপুর মহানগর পুলিশ (জিএমপি)।
তারা হলেন- প্রিজন ভ্যানের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা উপ-পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) প্রবীর কুমার এবং প্রিজন ভ্যানের চালক নায়েক কামাল হোসেন। এ ঘটনায় তাদের আগেই সামরিক দরখাস্ত করা হয়েছিল।
একই ঘটনায় সাময়িক বরখাস্ত হওয়া অন্য তিন পুলিশ সদস্য— কনস্টেবল মো. জাকির হোসেন, কনস্টেবল মো. সাকিব ও কনস্টেবল শাকিল হোসেনকে কড়া নজরদারিতে রাখা হয়েছে। এ ছাড়াও এই পাঁচজনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়েছে।
গত ২৭ সেপ্টেম্বর সকালে গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ৩০ জন আসামিকে ঢাকার আদালতে শুনানির জন্য নেওয়া হয়। ফেরার পথে প্রিজন ভ্যানটি রাত ৮টার দিকে গাজীপুরের নাওজোড় বা বাইমাইল এলাকায় পৌঁছালে সঙ্গে থাকা পুলিশের এক উপপরিদর্শক (এসআই) পিচ্চি রাজাকে শৌচকর্ম করানোর জন্য নিচে নামান। ওই সময়ই তিনি কৌশলে দৌড়ে পালিয়ে যান। অন্য ২৯ আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়।
ঘটনার পর কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-১-এর জেলার জাহাঙ্গীর আলম জানিয়েছিলেন, পলাতক পিচ্চি রাজাকে গ্রেপ্তারে জোরালো অভিযান চলছে। কিন্তু ঘটনার সাত দিন পার হতে চললেও তাকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
পিচ্চি রাজা পালিয়ে যাওয়ার পর গঠিত তদন্ত ও পর্যবেক্ষণ কমিটি ওই পাঁচ পুলিশ সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। জিজ্ঞাসাবাদে তাদের বক্তব্যে অসঙ্গতি ধরা পড়ে। তদন্ত কমিটি নিশ্চিত হয়, আসামির পালানোর জায়গা নিয়ে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা একেক সময় একেক তথ্য দিচ্ছেন।
পর্যবেক্ষণ কমিটির প্রধান ও গাজীপুর মহানগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (সিটি এসবি) মোহাম্মদ মহিউল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ''সাময়িক বরখাস্ত পাঁচ পুলিশ সদস্যকে বিভিন্নভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। কিন্তু তারা সঠিক কোনো তথ্য দিচ্ছেন না। আসামি কোন জায়গা থেকে পালিয়েছে, তা নিয়েও তারা একেক সময় একেক কথা বলছেন। যে জায়গা থেকে পালিয়ে যাওয়ার কথা বলা হচ্ছে, সেটিও সঠিক নয় বলে আমরা জেনেছি।
তিনি আরো জানান, পাঁচ পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করে বিভাগীয় মামলা করা হয়েছে এবং পর্যবেক্ষণ শেষ হলে প্রতিবেদন দাখিল করে পরবর্তী কার্যক্রম শুরু করা হবে।
পিচ্চি রাজা ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকার শীর্ষ মাদক কারবারি হিসেবে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানাসহ বিভিন্ন থানায় মাদক ও অবৈধ অস্ত্র সংক্রান্ত প্রায় ২৫টি মামলা রয়েছে।
