বন থেকে আসা প্রতিবেশী: বন্য হাতির সঙ্গে যেভাবে সহাবস্থান গড়ে তুলেছে বরকলের মানুষ
লেকের পানি আর চিরসবুজ পাহাড়ি বনের মধ্যে দল বেঁধে ঘুরে বেড়ায় এশীয় বন্য হাতি। কখনো পাহাড়ের ঢালে, কখনো আমলকী, পেয়ারা, কলা কিংবা লিচুবাগানে খাবারের সন্ধানে বিচরণ করে তারা।
খাবারের খোঁজে কখনো বনের সীমানা পেরিয়ে লোকালয়েও ঢুকে পড়ে। পাহাড়, বন আর মানুষের বসতির কাছাকাছি এই বিচরণই হাতিগুলোর টিকে থাকার সংগ্রামের অংশ।
আবাসস্থল সংকুচিত হওয়া, খাবারের সংকট ও মানুষের বসতি বাড়ার মধ্যেও রাঙামাটির বরকলের চিরসবুজ পাহাড়ি বন ও কাপ্তাই হ্রদ ঘিরে টিকে আছে এশীয় বন্য হাতির একটি দল।
হাতি লোকালয়ে এলেও বরকলের বরুণাছড়ির মানুষের মধ্যে তেমন আতঙ্ক বা তাড়াহুড়ো দেখা যায় না। হাতি বাগানে ঢুকে ফল খায়, কখনো গাছ ভাঙে, কখনো বাড়ির আশপাশে রাত কাটায়। তারপরও স্থানীয়রা চিৎকার করে তাড়ান না বা উত্ত্যক্ত করেন না। হাতি আসে, ঘুরে বেড়ায়, আবার চলে যায়। হাতি দেখেও হইচই করেন না তারা।
বরুণাছড়ির বাসিন্দারা দীর্ঘদিনের এই আসা-যাওয়াকে নিজেদের জীবনের স্বাভাবিক অংশ হিসেবেই মেনে নিয়েছেন। তারা জানেন, বনে খাবারের সংকট দেখা দিলে হাতি খাবারের সন্ধানে লোকালয়ের কাছাকাছি আসে। প্রয়োজন মিটলে আবার ফিরে যায় গহিন পাহাড়ি বনে। তাই হাতি লোকালয়ে এলেই তাড়িয়ে দেওয়ার বদলে পরিস্থিতি বুঝে তাকে চলাচলের সুযোগ দেন স্থানীয়রা।
চলতি বছরের সেপ্টেম্বরের শুরুর দিকে বৃষ্টির এক রাতে বাড়ির আশপাশে একটি হাতি ঘোরাঘুরি করছিল। স্থানীয় বাসিন্দা পারভীন বেগম চিৎকার বা তাড়ানোর চেষ্টা না করে অপেক্ষা করেন। হাতিটি নিজের মতো খাবার খেয়ে একসময় চলে যায়। পারভীনের মতো বরুণাছড়ির অনেক বাসিন্দাই ক্ষয়ক্ষতি মেনে নিয়েও হাতিকে প্রতিপক্ষ হিসেবে না দেখে বনেরই একটি অংশ হিসেবে দেখেন।
প্রয়োজনে যেভাবে সরানো হয় হাতি
কখনো নিজেদের নিরাপত্তা বা প্রয়োজনেই হাতিকে লোকালয় থেকে সরিয়ে দিতে হয়। তবে আতঙ্কিত হয়ে বা আক্রমণ করে নয়; আলো ও শব্দের মাধ্যমে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে তা করা হয়। প্রয়োজনে এলাকাবাসী এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিমের (ইআরটি) সদস্য ও বন বিভাগের সহযোগিতা নেন।
টর্চের আলো বা শব্দ ব্যবহার করে হাতিকে নিরাপদে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। প্রয়োজন হলে ঢোল ও অন্যান্য বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে শব্দ তৈরি করে হাতিকে বনের দিকে ফিরে যেতে সহায়তা করেন তারা। বছরের পর বছর এমন আচরণের মধ্য দিয়ে মানুষ ও হাতির মধ্যে গড়ে উঠেছে এক ধরনের সহাবস্থান।
ইআরটি সদস্যদের মতে, খাবারের সন্ধানে হাতির এভাবে বিচরণ স্বাভাবিক। স্থানীয় মানুষের সহনশীল আচরণ এবং নিরাপদে হাতি সরিয়ে দেওয়ার এই প্রক্রিয়া মানুষ ও হাতির দীর্ঘদিনের সহাবস্থান ধরে রাখতে ভূমিকা রাখছে।
এই বনই যেন তাদের নিরাপদ ঠিকানা
একসময় হাতির এই আবাসস্থল ছিল আরও বিস্তৃত। পাহাড় কাটা, গাছপালা উজাড়, বনে আগুন এবং মানুষের বসতি বাড়ার কারণে ধীরে ধীরে সংকুচিত হয়েছে তাদের আবাসস্থল। তারপরও রাঙামাটির বরকল উপজেলার বরুণাছড়ির পাহাড়ি বন, ফলের বাগান ও কাপ্তাই হ্রদ ঘিরে টিকে আছে ১০ থেকে ১২টি এশীয় বন্য হাতি।
এক দশকেরও বেশি সময় ধরে এ এলাকায় হাতিগুলোর বিচরণ রয়েছে। বনে খাবার ও পানির ব্যবস্থা থাকলেও ঋতু ও খাবারের প্রাপ্যতা অনুযায়ী তারা কখনো পাহাড়ের ঢাল পেরিয়ে আমলকী, পেয়ারা, কলা কিংবা লিচুবাগানে ঢুকে পড়ে। তাই লোকালয়ে তাদের এই আসা-যাওয়া স্থানীয়দের কাছে নতুন কোনো ঘটনা নয়।
একটি পূর্ণবয়স্ক হাতির প্রতিদিন প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ কেজি খাবার এবং অন্তত ১০০ লিটার পানি প্রয়োজন হয়। বরুণাছড়ির পাহাড়ি বন ও কাছের কাপ্তাই হ্রদ সেই চাহিদার বড় অংশ মেটায়। তবে খাবারের সংকট দেখা দিলে লোকালয়ের ফলের বাগানও হাতির জন্য সহজলভ্য খাদ্যের উৎস হয়ে ওঠে।
বরুণাছড়ির বাসিন্দা পারভীন বেগমের আমলকী ও পেয়ারা গাছ ভেঙেছে হাতি। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পাকঘরও। কখনো কখনো বাড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকার চেষ্টাও করেছে। তারপরও হাতির উপস্থিতিতে আতঙ্কিত হয়ে তাকে আক্রমণ বা উত্ত্যক্ত করেননি তিনি।
পারভীন বেগম টিবিএসকে বলেন, "আমাদের আমলকী গাছ ভাঙে, পেয়ারা গাছ ভাঙে, পাকঘর ভেঙে ফেলেছে। ওরা সব সময় লোকালয়ে আসে না, তবে খাবারের সংকট হলে আসে। তখন অনেকক্ষণ সজাগ থাকতে হয়। রাত জেগে হাতিকে পাহারা দিয়ে থাকি। হাতি গ্রামে ঢুকলে সবাই সতর্ক থাকে, উত্ত্যক্ত করি না। আমরা কখনো হাতিকে আক্রমণ করি না। টর্চ মারলে ওরা দূরে সরে যায়।"
কখনো সপ্তাহে এক-দুবারও বাড়ির আশপাশে হাতির উপস্থিতি টের পান পারভীন। ক্ষয়ক্ষতির জন্য বন বিভাগে আবেদন করলেও এখনো ক্ষতিপূরণ পাননি বলে জানান তিনি।
একই অভিজ্ঞতা জাফর উদ্দিনের। তার বাগানেও নিয়মিত হাতির আনাগোনা রয়েছে। কখনো ফল খেয়ে যায়, কখনো গাছপালা ভেঙে ক্ষতি করে।
জাফর উদ্দিন বলেন, "হাতির কারণে আমাদের বিভিন্ন সময় বেশ ক্ষতি হয়েছে। বাগানের নানা ফলফলাদিও নষ্ট করে। ক্ষতিপূরণের জন্য আবেদন করলেও এখনো পাইনি। তবে হাতি লোকালয়ে এলে টর্চের আলো ও টিন বাজিয়ে নিরাপদে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করি।"
ক্ষয়ক্ষতি হলেও হাতিকে সরানোর ক্ষেত্রে স্থানীয়দের মধ্যে একধরনের সতর্কতা তৈরি হয়েছে। তারা সাধারণত হাতিকে ঘিরে ফেলেন না বা খুব কাছে যান না। দূর থেকে টর্চের আলো কিংবা টিন ও ধাতব বস্তু বাজিয়ে শব্দ করেন। পরিস্থিতি জটিল হলে খবর দেন এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিমকে (ইআরটি)।
বরকল ও লংগদু উপজেলার হাতির বিচরণক্ষেত্রে কাজ করছে ইআরটি। হাতির অবস্থান সম্পর্কে স্থানীয়দের সতর্ক করা, ঝুঁকি কমাতে পরামর্শ দেওয়া এবং লোকালয়ে ঢুকে পড়লে নিরাপদে হাতি সরিয়ে দিতে সহায়তা করা তাদের কাজের অংশ।
ইআরটি সদস্য মোহাম্মদ জহাঙ্গীর আলম বাবু টিবিএসকে বলেন, হাতি সরাতে প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের ঘাটতি রয়েছে তাদের।
তিনি বলেন, "হাতি তাড়ানোর জন্য আমাদের তেমন কোনো সরঞ্জাম নেই। যেমন বাঁশি, টর্চ—এগুলোও পর্যাপ্ত নেই। হঠাৎ দেখা গেল, আমার পাশেই হাতি বাড়িঘর ভাঙছে। আমি সেখানে যাব, কিন্তু আমার একটা ছাতা নেই, টর্চ নেই, নৌকা নেই।"
তিনি বলেন, "অল্প কিছু সরঞ্জাম আছে। সেগুলো ব্যবহার করে বিভিন্ন সময় বাদ্যযন্ত্র বা উচ্চ শব্দের মাধ্যমে হাতিকে সরানোর চেষ্টা করি। যতটা আমাদের পক্ষে সম্ভব হয়, আমরা করি।"
প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম দেওয়ার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, "ইআরটি সদস্যদের পক্ষ থেকে আবেদন থাকবে, বাদ্যযন্ত্রসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী যেন আমরা যথাযথভাবে পাই।"
স্থানীয়দের বর্ণনা অনুযায়ী, বরুণাছড়ির হাতিগুলো সবসময় একসঙ্গে থাকে না। কখনো কয়েকটি এক দলে থাকে, আবার অন্যগুলো আলাদা জায়গায় বিচরণ করে।
এলাকায় হাতির চলাচল পর্যবেক্ষণের সঙ্গে যুক্ত এক ব্যক্তি বলেন, "কখনো পাঁচটা, কখনো চারটা, কখনো তিনটা—আলাদা আলাদা দল দেখা যায়। আজও দেখলাম, ভাগে ভাগে আছে। এক জায়গায় পাঁচটা, এক জায়গায় চারটা, আরেক জায়গায় দুইটা।"
সেপ্টেম্বরের শুরুর দিকে বরুণাছড়ির একটি লিচুবাগানে হাতির চলাচলের চিহ্ন দেখা যায়। পাহাড়ের ঢাল ও বাগানের বিভিন্ন স্থানে ছিল তাদের যাতায়াতের চিহ্ন। লতাপাতা, কলাগাছ ও কচি বাঁশ খেয়ে কিছু সময় কাটানোর পর হাতিগুলো কাপ্তাই হ্রদের দিকে নেমে যায়।
পার্বত্য চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রফিকুজ্জামান শাহ টিবিএসকে বলেন, বরুণাছড়ি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ১০ থেকে ১২টি হাতি রয়েছে।
তিনি বলেন, "ঠিক কত বছর ধরে আছে, তার সুনির্দিষ্ট তথ্য আমাদের কাছে নেই। তবে ১০-১২ বছরেরও আগে থেকে হাতিগুলো সেখানে রয়েছে বলে আমরা জানি।"
হাতিগুলো অন্য এলাকায় চলে গেছে—এমন কোনো তথ্য বন বিভাগের কাছে নেই জানিয়ে তিনি বলেন, সব হাতি সবসময় একসঙ্গে চলাচল করে না।
রফিকুজ্জামান শাহ বলেন, "কখনো চারটি, কখনো ছয়টি বা আটটি হাতিকে একসঙ্গে দেখা যায়। তারা বিচ্ছিন্নভাবে চলাচল করে। তাই জরিপ ছাড়া সুনির্দিষ্টভাবে পুরুষ, নারী ও বাচ্চা হাতির সংখ্যা বলা ঠিক হবে না।"
হাতির নিরাপদ বিচরণ নিশ্চিত করতে স্থানীয় স্কুলের শিক্ষার্থী, সাধারণ মানুষ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে সচেতনতামূলক সভা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। হাতি ও তাদের আবাসস্থল রক্ষায় স্থানীয়দের সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন এই বন কর্মকর্তা।
তবে সহাবস্থান শুধু মানুষের সহনশীলতার ওপর নির্ভর করে না। হাতির কারণে ক্ষয়ক্ষতির শিকার মানুষের পাশে দাঁড়ানোও এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর বন্য হাতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের কাছ থেকে ৪২টি আবেদন জমা পড়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে বিধিমালা অনুযায়ী তাদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
ডিএফও রফিকুজ্জামান শাহ বলেন, "ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা আমাদের অফিসে আবেদন করছেন। এ পর্যন্ত প্রায় ৪২টি আবেদন জমা পড়েছে। আমরা সেগুলো প্রক্রিয়া করছি। যাচাই-বাছাই শেষে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।"
বরকল এলাকায় বন বিভাগের উদ্যোগে তিনটি এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিম রয়েছে বলেও জানান তিনি।
প্রাণী অধিকারকর্মী রাকিবুল হক এমিলের মতে, বরুণাছড়ির মানুষের সঙ্গে হাতির দীর্ঘদিনের সম্পর্ক স্থানীয়দের মধ্যে একধরনের সহনশীলতা তৈরি করেছে। বন ও প্রকৃতিনির্ভর জীবনযাপনের কারণে তারা হাতিকে প্রতিপক্ষের বদলে প্রতিবেশী হিসেবেই দেখছেন।
এমিল টিবিএসকে বলেন, "বরুণাছড়ির হাতিরা যেমন বন্যপ্রাণী, তেমনি এখানকার মানুষও বন ও প্রকৃতিনির্ভর। ফলে যুগ যুগ ধরে তারা হাতিগুলোকে নিজেদের প্রতিবেশী হিসেবেই দেখে আসছে। এখানকার মানুষের হাতির প্রতি সহনশীলতা বাংলাদেশের অন্য অঞ্চল থেকে ভিন্ন।"
তিনি বলেন, মানুষের বসতির ধরন, অপরিকল্পিত উন্নয়ন, হাতির চলাচলের পথ সংকুচিত হওয়া এবং ক্ষয়ক্ষতির পর মানুষের প্রতিক্রিয়া—এসব বিষয় মানুষ-হাতি সংঘাতের মাত্রা নির্ধারণে ভূমিকা রাখে।
এই সহাবস্থানের পেছনে প্রাকৃতিক পরিবেশেরও ভূমিকা রয়েছে। হাতির জন্য বন শুধু আশ্রয় নয়; এটি খাবারের উৎস ও চলাচলের পথও। আর কাপ্তাই হ্রদ তাদের পানির চাহিদা পূরণে ভূমিকা রাখে। বনে চলাচলের সময় হাতি বিভিন্ন স্থানে বীজ ছড়িয়ে দেয়, যা বনের স্বাভাবিক পুনর্জন্মে সহায়তা করে। এ কারণেই হাতিকে অনেক সময় 'ফরেস্ট ইঞ্জিনিয়ার' বলা হয়।
ক্রমেই সংকুচিত হয়ে আসা বিচরণক্ষেত্রের কারণে এশীয় বন্য হাতির জন্য এ ধরনের আবাসস্থল গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশে এশীয় হাতি 'ক্রিটিক্যালি এনডেঞ্জার্ড' বা অতি বিপন্ন হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ। আবাসস্থল সংকোচন, বনভূমিতে মানুষের কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি এবং মানুষ-হাতি সংঘাত তাদের জন্য বড় হুমকি।
আইইউসিএনের ২০১৬ সালের জাতীয় হাতি জরিপে দেশে ২৬৮টি আবাসিক বন্য হাতি, ৯৩টি আন্তঃসীমান্তীয় হাতি ও ৯৬টি বন্দী হাতির তথ্য পাওয়া যায়। দীর্ঘদিন নতুন জরিপ না হওয়ায় বর্তমানে দেশে মোট কত হাতি রয়েছে, তা জানতে হালনাগাদ জরিপ প্রয়োজন।
হাতির আবাসস্থল রক্ষা ও মানুষ-হাতি সংঘাত কমাতে সরকার ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত প্রায় ৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে 'এলিফ্যান্ট কনসারভেশন প্রকল্প' বাস্তবায়ন করছে। প্রকল্পের আওতায় হাতির খাদ্যোপযোগী বাগান ও বাঁশবাগান তৈরি, জলাধার খনন, ১০ কিলোমিটার বায়োফেন্সিং, ১৬টি ট্রি টাওয়ার, দুটি হাতি উদ্ধারকেন্দ্র এবং আহত হাতির চিকিৎসার জন্য চারটি শেড স্থাপনের উদ্যোগ রয়েছে।
এ ছাড়া হাতির করিডোর চিহ্নিত করতে জরিপ, জিপিএস কলার ব্যবহার, এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিমকে (ইআরটি) সহায়তা এবং স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রমও প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত।
প্রকল্প পরিচালক এ এস এম জহির উদ্দিন আকন টিবিএসকে বলেন, মানুষ ও হাতির সংঘাতের পেছনে খাদ্যসংকট, হাতির চলাচলের পথে প্রতিবন্ধকতা এবং হাতিকে উত্ত্যক্ত করার মতো বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এসব কারণ কমানো গেলে সংঘাতও অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।
তিনি বলেন, "শুধু একটি প্রকল্পের মাধ্যমে মানুষ-হাতির দ্বন্দ্ব পুরোপুরি সমাধান করা সম্ভব নয়। হাতি সংরক্ষণে স্থানীয় জনগণকে সচেতন করার পাশাপাশি তাদের সরাসরি সম্পৃক্ত করতে হবে। মানুষের নিরাপত্তা, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের স্বার্থ এবং হাতির আবাসস্থল—তিনটি বিষয়কেই একসঙ্গে বিবেচনায় নিতে হবে।
ছবি: সমির মল্লিক