স্বাধীনতা দিবস উদযাপনে ২৩টি হাতি নিধনের অনুমতি দিল বোতসোয়ানা; সমালোচনা
স্বাধীনতা দিবস উদযাপন উপলক্ষে ২৩টি হাতি নিধনের অনুমতি দিয়েছে বোতসোয়ানা সরকার। সরকারের এমন সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করেছেন পরিবেশবাদীরা এবং দেশটির একজন সাবেক প্রেসিডেন্ট।
হাতি শিকারের এই লাইসেন্সগুলো দেশের বিভিন্ন জেলাজুড়ে জারি করা হয়, যেখানে মোট কোটার নির্দিষ্ট অংশ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার নেওয়া এই পদক্ষেপের পক্ষে কর্তৃপক্ষ জানায়, এই হাতিগুলোর মাংস দুস্থ গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে সরবরাহ করা হবে।
আইইউসিএন-এর বিপন্ন প্রজাতির তালিকায় আফ্রিকান সাভানা হাতি অন্তর্ভুক্ত থাকলেও, দক্ষিণ আফ্রিকার দেশ বোতসোয়ানায় আনুমানিক ১ লাখ ৩০ হাজার হাতি রয়েছে—যা বিশ্বের যেকোনো দেশের তুলনায় সর্বোচ্চ।
দেশটির বার্ষিক নিয়ন্ত্রিত হাতি শিকারের কোটা নিয়ে আগেও সমালোচনা হয়েছে। তবে হাতির জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ ও মানুষ-হাতি দ্বন্দ্ব কমানোর লক্ষ্যে এটিকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ হিসেবে বরাবরই রক্ষা করে এসেছে সরকার। অতিরিক্ত সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে ২০১৯ সালে বোতসোয়ানা হাতি শিকারের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়।
সম্প্রতি বোতসোয়ানা প্রতি বছর ২০০ থেকে ৪০০টিরও বেশি হাতি শিকারের বার্ষিক কোটা অনুমোদন করে আসছে।
বুধবার ব্রিটেনের কাছ থেকে স্বাধীনতা পাওয়ার ৬০তম বার্ষিকী উদযাপনের এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে হাতি ছাড়াও বেশ কয়েকটি হরিণ হত্যার অনুমোদন দিয়েছে বোতসোয়ানা সরকার।
বোতসোয়ানা এলিফ্যান্ট প্রটেকশন সোসাইটি জানায়, হাতি হত্যার এই সিদ্ধান্ত চরম দায়িত্বজ্ঞানহীন এবং এর ফলে হাতির দল আশপাশের মানুষের ওপর আরও হিংস্র হয়ে উঠতে পারে। সংগঠনটি জানায়, 'যখন একটি হাতিকে গুলি করা হয়, তখন পুরো দলটি প্রতিরক্ষাত্মক ও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে।'
হাতি অত্যন্ত ধ্বংসাত্মক ও বিপজ্জনক হতে পারে। আফ্রিকার বেশ কয়েকটি দেশকে প্রতি বছরই হাতির পালের হাতে কৃষকের ফসল ও অবকাঠামো বিনাশের পাশাপাশি মানুষের হতাহত হওয়ার মতো সংকটের মুখোমুখি হতে হয়।
আফ্রিকার বহু দেশের জন্যই মানুষ-বন্যপ্রাণী দ্বন্দ্ব একটি বড় সমস্যা। পার্শ্ববর্তী দক্ষিণ আফ্রিকাসহ অন্যান্য দেশগুলোও প্রতি বছর নির্দিষ্ট কোটায় হাতি শিকারের অনুমোদন দিয়ে থাকে।
প্রচুর বন্যপ্রাণীর উপস্থিতি থাকায় বোটসোয়ানা আন্তর্জাতিক পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ। মানুষ-বন্যপ্রাণী দ্বন্দ্বের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয় অধিবাসীদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার একটি নির্দিষ্ট নীতি রয়েছে দেশটির এবং প্রতি বছর এমন শত শত কেস নথিভুক্ত হয়।
২০২৪ সালে বোতসোয়ানার হাতির সংখ্যা নিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছিল। তখন দেশটির তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মোকগউইটসি মাসিসি এবং তার সরকার ট্রফি হান্টিং (শখের শিকার) নিয়ে যুক্তরাজ্য ও জার্মানির সমালোচনার মুখে তাদের দেশে হাজার হাজার হাতি পাঠিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন।
জার্মান পত্রিকা 'বিল্ড'-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মাসিসি বলেন— 'বার্লিনে বসে বোতসোয়ানার অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে মতামত দেওয়া খুবই সহজ এবং তিনি আরও বলেন, 'হাতি ব্যবস্থাপনা কোনো হাসির বিষয় নয়।'
চলতি সপ্তাহের হাতি শিকারের সিদ্ধান্তের সমর্থন জানিয়ে দেশটির বন্যপ্রাণী ও জাতীয় উদ্যান বিভাগের উপ-পরিচালক ডিমাকাতসো এনতশেবে শুক্রবার বলেন, 'বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের সুবিধা অবশ্যই সেইসব সম্প্রদায়ের কাছে পৌঁছানো উচিত যারা বন্যপ্রাণীর পাশে বসবাস করে এবং তাদের সুরক্ষায় ভূমিকা রাখে।'
তবে ২০০৮ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত বোটসোয়ানার প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এবং বর্তমানে আঞ্চলিক প্রধানের ঐতিহ্যবাহী প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা ইয়ান খামা এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন। তিনি বলেন, এটি এমন একটি খারাপ "প্রত্যাশা" তৈরি করছে, ভবিষ্যতের যেকোনো জাতীয় অনুষ্ঠানেও হাতি নিধন করা হবে।
