দলীয় প্রধান হিসেবে প্রথমবার চট্টগ্রাম সফরে যাচ্ছেন তারেক রহমান, অংশ নেবেন ৭ কর্মসূচিতে
দীর্ঘ দুই দশক পর চট্টগ্রামে যাচ্ছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আগামীকাল শনিবার (২৪ জানুয়ারি) রাতে বন্দরনগরীতে পৌঁছাবেন তিনি। সফরকালে পরদিন অর্থাৎ রোববার (২৫ জানুয়ারি) তার সাতটি রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, রোববার সকাল সাড়ে ৯টায় চট্টগ্রামের হোটেল রেডিসনে তরুণদের সঙ্গে 'পলিসি ডায়ালগ' শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় যোগ দেবেন তারেক রহমান। এরপর বেলা ১১টায় চট্টগ্রাম নগরীর ঐতিহাসিক পলোগ্রাউন্ড মাঠে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন তিনি। চট্টগ্রাম সফর শেষে তিনি ফেনীর পাইলট কলেজ ময়দান, কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম, সুয়াগাজী ও দাউদকান্দি এবং নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর বালুর মাঠে আয়োজিত পথসভা ও সমাবেশে অংশ নেবেন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামে দলমত–নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত জনসমাগম হবে। এখানে শুধু বিএনপির নেতা–কর্মী নয়, সাধারণ মানুষও অংশ নেবেন। দীর্ঘদিন পর তারেক রহমান চট্টগ্রামে আসছেন—এই বিষয়টি সাধারণ মানুষের মাঝেও আলাদা আবেগ ও আগ্রহের জন্ম দিয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সর্বশেষ দলীয় প্রধান হিসেবে ২০১২ সালের ৯ জানুয়ারি চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ড মাঠে ভাষণ দিয়েছিলেন বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। এরপর কারাবরণ, দীর্ঘ অসুস্থতা এবং সরকারি নানা বিধিনিষেধের কারণে তিনি আর চট্টগ্রাম সফর করতে পারেননি। প্রায় ১৪ বছর পর সেই একই মাঠে দলীয় প্রধান হিসেবে এবার ভাষণ দেবেন খালেদা জিয়ার উত্তরসূরি ও সন্তান তারেক রহমান।
এর আগে ২০০৫ সালের ৬ মে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে সর্বশেষ চট্টগ্রাম সফর করেছিলেন তারেক রহমান। তখন তিনি বিএনপির তৎকালীন মেয়র প্রার্থী মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিনের পক্ষে নির্বাচনি প্রচারণায় অংশ নেন। গত বছরের শেষে বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণের পর চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি তারেক রহমানকে দলের চেয়ারম্যান ঘোষণা করা হয়। ফলে দলীয় প্রধান হিসেবে এটিই হবে তার প্রথম চট্টগ্রাম সফর।
বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক (চট্টগ্রাম বিভাগ) মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, 'চট্টগ্রাম নগর, দক্ষিণ ও উত্তর জেলা, তিন পার্বত্য জেলা এবং কক্সবাজার থেকে দলীয় নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষ সমাবেশে যোগ দেবেন। সমাবেশে গণ মানুষকে সম্পৃক্ত করা হবে। সিলেট-হবিগঞ্জের মতো সাধারণ মানুষ যোগ দেবেন সমাবেশে। অতীতের সকল জনসমাগমের রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছি।'
দীর্ঘ সময় পর দলীয় প্রধানের এই সফরকে কেন্দ্র করে বন্দরনগরীসহ পুরো চট্টগ্রামে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। বিএনপি ও এর অঙ্গ-সংগঠন ছাড়াও বিভিন্ন আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থীরা ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা করছেন। চলছে জনসমাগমের সর্বাত্মক প্রস্তুতি।
চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি মোশাররফ হোসেন দীপ্তি টিবিএসকে বলেন, 'বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে ট্রাকে করে সমাবেশ নিয়ে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। স্বাগত মিছিল করা হচ্ছে। পাড়া-মহল্লায় গানের মাধ্যমে ব্র্যান্ডিং করা হচ্ছে। তরুণ, যুবকদের সম্পৃক্ত করতে কাজ চলছে। দলীয় নেতা-কর্মীর বাইরেও তরুণ-যুবকরা এতে অংশ নেবেন। তারা তারেক রহমানের বক্তব্য শুনতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।'
এদিকে, বিশাল জনসমাগমের লক্ষ্য সামনে রেখে পলোগ্রাউন্ড মাঠে চলছে মঞ্চ তৈরির কাজ। মূল মঞ্চটি ১০০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৬০ ফুট প্রশস্ত করে নির্মাণ করা হচ্ছে। মঞ্চের ঠিক সামনে নিরাপত্তারক্ষীদের জন্য জায়গা রেখে এরপর নারী ও গণমাধ্যমকর্মীদের বসার স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ''আজ শুক্রবার বিএনপির নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনী 'চেয়ারপারসন সিকিউরিটি ফোর্স' (সিএসএফ) চট্টগ্রামে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। শনিবারের মধ্যেই মঞ্চসহ সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হবে।''
চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব নাজিমুর রহমান টিবিএসকে বলেন, 'চট্টগ্রামে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় সমাবেশ করার রেকর্ড আছে আমাদের নেত্রী খালেদা জিয়ার। তার ওই জনসমাগম ছাড়াতে পারবেন একমাত্র তারেক রহমান।'
