১০ টাকা দামে কেজির মতো কার্ডের লোভ দেখানো হচ্ছে, এগুলো কি আচরণবিধি লঙ্ঘন নয়: জামায়াত আমির
১০ টাকা দামে কেজির মতো কার্ডের 'লোভ' বা ফ্ল্যাট দেওয়ার 'প্রলোভন' যারা দেখাচ্ছে, তারা নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করছে কিনা বলে প্রশ্ন রেখেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।
আজ শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সকালে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণার অংশ হিসেবে উত্তরবঙ্গ সফরে যাওয়ার আগে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এমনটা বলেন।
নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন ও ভোটার আইডি কার্ড বা বিকাশ নম্বর সংগ্রহের অভিযোগ প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, 'বিকাশ নাম্বার নিবে কেন? আমরা তো মানুষকে কেনার চিন্তা করি না। আমরা মানুষের জীবনের প্রতি সম্মান দেখাই। যারা নিজেরাই এই কাজ করেন তারা উদোর পিণ্ডি বুধোর ঘাড়ে এখন চাপানোর চেষ্টা করছেন।'
'১০ টাকা দামের কেজির মতো অনেক কার্ডের মাধ্যমে, মানুষকে লোভ দেখানো হচ্ছে। মানুষকে ফ্ল্যাট এখনই যেন হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে। এগুলা লঙ্ঘন নয় না?', যোগ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, 'আমরা কোথায় কী করেছি, আমরা করি নাই। নিজেদের লোক দিয়ে, এআই-এর মাধ্যমে এই সমস্ত জিনিস তৈরি করে আমাদের বিরুদ্ধে ছাড়া হচ্ছে কিনা সেটাও দেখতে হবে। আমরা কিন্তু ঐ সমস্ত চোরা পথে, জনগণের যে ভোটের বৈধ অধিকার এবং পাওয়ার, এটাকে আমরা প্রভাবিত করাকে ঘৃণা করি। একদম ঘৃণা করি সুষ্পষ্টভাবে।'
শফিকুর রহমান বলেন, 'বাংলাদেশ চোরাবালিতে হারিয়ে গিয়েছিল গত ৫৪ বছর। দেশের লাভ যে কিছুই হয় নাই তা আমরা বলব না, কিন্তু লাভের চেয়ে ক্ষতি হয়েছে অনেক বেশি। বিশেষ করে দেশের সবগুলো সাংবিধানিক গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করা হয়েছে। এবং জাতির ঘাড়ে বিপুল পরিমাণ ঋণের বোঝা রেখে যাওয়া হয়েছে। ব্যাংক ব্যবস্থাপনা, আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো সম্পূর্ণ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।'
প্রবাসীদের ভোটাধিকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'আমরা মূল থেকেই পরিবর্তনের... ২৪-এর পরিবর্তনের গোড়া থেকেই আমরা দাবি তুলেছিলাম যে বিদেশে আমাদের বিপুল পরিমাণ প্রবাসীরা বসবাস করেন। তাদের ভোটের অধিকারটা সেরকম ছিল না। আমরা দাবি তুলেছিলাম যে প্রবাসীদের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। শেষ পর্যন্ত সরকার এবং নির্বাচন কমিশন আমাদের এই দাবির প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেছেন।'
তিনি আরও বলেন, 'সময় একেবারেই ঘনিয়ে এসেছে। আমরা নির্বাচন কমিশনকে এ ব্যাপারে যথাযথ উদ্যোগ দেওয়ার জন্য অনুরোধ করব। এটা যেন নিশ্চিত হয়, এমন সময়ের ভেতরে যাতে করে এই ব্যালট আবার ভোট নিয়ে ফেরত আসতে পারে। যদি তা না আসতে পারে তাহলে এটা জাতির জন্য খুবই দুর্ভাগ্য হবে।'
গণভোট প্রসঙ্গে জামায়াতের আমির বলেন, 'যারা আমরা পরিবর্তন চাই, ৫৪ বছরের বস্তা-পচা রাজনীতি আর চলুক আমরা চাই না। রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসুক আমরা যারা চাই... তারা এই সংস্কারের প্রস্তাব নিয়ে যে গণভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে, সেখানে আমরা আশা করব তারা সকলে "হ্যাঁ" বলবে।'
নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'আমরা ঐক্যবদ্ধ একটা জাতি যেহেতু গঠন করতে চাই, এককভাবে, দলীয়ভাবে নির্বাচনে আমরা যাচ্ছি না। আমরা মূলত বাংলাদেশের সকল দেশপ্রেমিক এবং ইসলামী দলগুলোকে সাথে নিয়ে একসাথেই আমরা যাচ্ছি। আমাদের স্লোগানই হচ্ছে, ''এসো একসাথে গড়ি বাংলাদেশ''। আমরা সবাই মিলে ইনশাল্লাহ এই বাংলাদেশ গড়ব।'
'এই নির্বাচনটা বাংলাদেশের ইতিহাসে একটা গৌরবজনক... একটা স্মরণীয় নির্বাচন হয়ে থাকে। নির্বাচন যেন হয় সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু এবং গ্রহণযোগ্য', আরও বলেন তিনি।
