চট্টগ্রাম-১৪ ও ১৬: বহিষ্কারাদেশ মাথায় নিয়েই ভোটের লড়াইয়ে বিএনপির ৩ বিদ্রোহী প্রার্থী
চট্টগ্রামে একাধিক আসনে বিএনপির আলোচিত হেভিওয়েট বিদ্রোহী প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। তবে শেষ পর্যন্ত দুটি আসনে দলটির তিনজন বিদ্রোহী প্রার্থী নির্বাচনি মাঠে রয়ে গেছেন।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) তাদের প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় বহিষ্কারাদেশ মাথায় নিয়েই আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়বেন তারা।
চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ ও সাতকানিয়ার আংশিক) আসনে বিএনপির দলীয় প্রার্থীর বাইরেও দুইজন বিদ্রোহী প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন— চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি মিজানুল হক চৌধুরী (প্রতীক: ফুটবল) এবং দক্ষিণ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি শফিকুল ইসলাম (প্রতীক: মোটরসাইকেল)।
এই আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জসীম উদ্দীন আহমেদকে। উল্লেখ্য, এই আসনে বরাবরই এলডিপির (লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি) কর্নেল (অব.) অলি আহমদ নির্বাচন করে আসলেও এবার বিএনপির সঙ্গে সমঝোতা না হওয়ায় উভয় দলই আলাদা প্রার্থী দিয়েছে। তবে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্টতার পুরনো অভিযোগ থাকায় আসনটিতে বিদ্রোহী প্রার্থীরা মাঠে অনড় রয়েছেন।
এই আসনের অন্য ৫ প্রার্থীর মধ্যে রয়েছেন— এলডিপির ওমর ফারুক (ছাতা), বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মো. সোলাইমান (মোমবাতি), জাতীয় পার্টির বাদশা মিয়া (লাঙল), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মোহাম্মদ আবদুল হামিদ (হাতপাখা) এবং ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের এইচএম ইলিয়াছ (আপেল)।
অন্যদিকে, চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনে বিএনপির দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহী হিসেবে লড়ছেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. লেয়াকত আলী (প্রতীক: ফুটবল)। এই আসনে খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভার সাবেক পরিবেশ ও বন প্রতিমন্ত্রী প্রয়াত জাফরুল ইসলাম চৌধুরীর ছেলে এবং দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরীকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। বাঁশখালী আসনে মোট চূড়ান্ত প্রার্থী সাতজন। বিএনপি ও বিদ্রোহী প্রার্থী ছাড়াও অন্য প্রার্থীরা হলেন— জামায়াতে ইসলামীর মুহাম্মদ জহিরুল ইসলাম (দাঁড়িপাল্লা), ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের আবদুল মালেক (চেয়ার), বাংলাদেশ মুসলিম লীগের এহছানুল হক (হারিকেন), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাফেজ রুহুল্লাহ (হাতপাখা) এবং গণ অধিকার পরিষদের মো. আরিফুল হক (ট্রাক)।
এর আগে চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ১৪টিতে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী থাকলেও দলীয় নির্দেশে অধিকাংশই মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেন। তবে দুটি আসনে এই তিনজন প্রার্থী অনড় থাকায় দলীয় প্রার্থীদের জন্য অভ্যন্তরীণ দূরত্ব ও কোন্দল বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দলীয় সূত্রগুলো আশা করছে, আগামী ২৫ জানুয়ারি তারেক রহমানের নির্বাচনি সফর থেকে সকলকে একযোগে 'ধানের শীষের' পক্ষে কাজ করার চূড়ান্ত নির্দেশনা আসবে। এছাড়া মাঠ পর্যায়ের কাজের মূল্যায়ন করেই দলীয় পদ-পদবি নির্ধারণ করা হবে— এমন ঘোষণার পর নেতা-কর্মীরা পূর্ণ সাংগঠনিক শক্তি নিয়ে মাঠে নামবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) সকালে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ দেন। চট্টগ্রামের ১৬টি আসনে বর্তমানে চূড়ান্ত প্রার্থীর সংখ্যা ১১১ জন। শুরুতে ১৪৩ জন মনোনয়নপত্র জমা দিলেও যাচাই-বাছাইয়ে ৪২ জন বাদ পড়েন। পরবর্তীতে আপিল ও আদালতের রায়ে প্রার্থিতা ফিরে পান ২২ জন। গত মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিনে বিভিন্ন দলের ১২ জন প্রার্থী তাদের নাম প্রত্যাহার করেন।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য ও চূড়ান্ত তালিকা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, চট্টগ্রামের ১৬টি আসনের মধ্যে ২টিতে বিএনপির এবং ২টিতে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১০-দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন। এছাড়া বিএনপির একজন প্রার্থীর প্রার্থিতা নির্বাচন কমিশনে বাতিল হয়েছে এবং জামায়াত দুটি আসনে কোনো প্রার্থী দেয়নি। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।
