খয়রাতি অনুদান নয়, দক্ষ জনশক্তি গড়াই আমাদের রাজনীতির মূল লক্ষ্য: ডা. শফিকুর রহমান
রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বিএনপির 'পরিবার ও কৃষক কার্ড' দেওয়ার প্রতিশ্রুতির কড়া সমালোচনা করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, কোনো প্রকার খয়রাতি অনুদান নয়, বরং দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলে যুবসমাজকে সম্মানের সাথে দেশ গড়ার কাজে যুক্ত করাই তাদের মূল লক্ষ্য।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর মিরপুরের কাফরুল এলাকায় ঢাকা-১৫ আসন ভিত্তিক এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এই জনসভার মধ্য দিয়েই ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে ১০-দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু করল জামায়াতে ইসলামী।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, 'আসন্ন নির্বাচনে জনগণের বিজয় কোনো নির্দিষ্ট পরিবার বা গোষ্ঠীর ক্ষমতা দখল নয়, বরং এটি হবে আপামর জনসাধারণের বিজয়। গত দেড় দশকে দেশে ইনসাফ বা ন্যায়বিচার ছিল না বলেই দুর্নীতিবাজরা ব্যাংক লুট করে জনগণের আমানত পাচার করার সাহস পেয়েছে। তারা বিদেশে "বেগম পাড়া" গড়েছে আর দেশে কায়েম করেছে ত্রাসের রাজত্ব। দেশে ইনসাফ থাকলে এই লুণ্ঠনকারীরা পালানোর পথ পেত না।'
দেশের ব্যাংক খাত ও শেয়ার বাজারের বিপর্যয়ের কথা উল্লেখ করে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, 'ব্যাংক লুট করে কোটি গ্রাহকের টাকা যারা চুরি করেছে, তাদের কারণে সাধারণ মানুষের জীবন আজ ওষ্ঠাগত। ১০-দলীয় জোট ক্ষমতায় গেলে লুণ্ঠিত অর্থ উদ্ধার করা হবে এবং ইনসাফকে টাকার বিনিময়ে বিক্রি হতে দেওয়া হবে না।'
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতিচারণ করে জামায়াতের আমির বলেন, 'শহীদ আবু সাঈদ ও শহীদ হাদীর রক্ত আমরা বৃথা যেতে দেব না। যারা চব্বিশের বিপ্লবীদের কণ্ঠরোধ করতে চায়, তাদের মনে রাখা উচিত, হাদী একজন ছিল। এখন ১৮ কোটি মানুষ হাদীর চেতনায় উদ্দীপ্ত। আগামী দিনের বাংলাদেশ হবে আধিপত্যবাদমুক্ত এক স্বাধীন ভূখণ্ড।'
ঢাকা-১৫ আসনের স্থানীয় সমস্যা ও নাগরিক দুর্ভোগের চিত্র তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, 'এই এলাকায় ১০ লক্ষ মানুষের বসবাস হলেও একটি মানসম্মত সরকারি হাসপাতাল বা কলেজ নেই। গ্যাস সংকট আর নোংরা ড্রেনেজ ব্যবস্থায় মিরপুরবাসী অতিষ্ঠ। আমরা নির্বাচিত হলে এলাকাবাসীকে সাথে নিয়ে গ্যাস সমস্যার স্থায়ী সমাধান করব এবং বিশ্বমানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলব।'
নারী অধিকার ও নিরাপত্তার বিষয়ে দলীয় অবস্থান পরিষ্কার করে তিনি বলেন, 'নারী-পুরুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা দেশ গড়ব। কর্মক্ষেত্রে ও চলাফেরায় নারীদের শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। মা-বোনদের ইজ্জত নিয়ে কোনো প্রকার ছিনিমিনি বরদাশত করা হবে না।'
উদ্বোধনী এই জনসভায় আমিরে জামায়াত ১০-দলীয় জোটের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন এবং তাদের হাতে নির্বাচনী প্রতীক 'দাঁড়িপাল্লা' ও জোটের সমন্বয়কৃত প্রতীক তুলে দেন।
এসময় তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের হাতে 'শাপলা কলি' ও 'দাঁড়িপাল্লা' প্রতীক তুলে দেন। এছাড়া জামায়াতের অন্যান্য প্রার্থী সাইফুল আলম খান মিলন (ঢাকা-১২), ব্যারিস্টার আহমদ বিন কাসেম আরমান (ঢাকা-১৪), কর্নেল (অব.) আব্দুল বাতেন (ঢাকা-১৬) এবং ডা. খালেদুজ্জামানের (ঢাকা-১৭) হাতে 'দাঁড়িপাল্লা' প্রতীক তুলে দেওয়া হয়।
আগামী ১২ তারিখের নির্বাচনে দলমত নির্বিশেষে জোটের প্রার্থীদের জয়যুক্ত করার আহ্বান জানান ডা. শফিকুর রহমান। একইসাথে আসন্ন গণভোটে 'হ্যাঁ' ভোট প্রদানের আহ্বান জানিয়ে তিনি তার বক্তব্য শেষ করেন।
