ময়মনসিংহে নির্বাচনি সম্প্রীতির ডাক: এক মঞ্চে বিএনপি-জামায়াতসহ বিভিন্ন দল
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ময়মনসিংহে এক ব্যতিক্রমী ও নজিরবিহীন বহুদলীয় প্রচারণায় নেমেছে দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো। 'সহিংসতা নয়, শান্তিই আমাদের অঙ্গীকার'—এই স্লোগানকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, গণ অধিকার পরিষদ, গণ সংহতি আন্দোলনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা একই মঞ্চে দাঁড়িয়ে ভোটারদের শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনে উদ্বোধনী পথসভার মাধ্যমে চার দিনব্যাপী এই 'শান্তি ও সম্প্রীতি প্রচারণা' শুরু হয়। মাল্টি-পার্টি অ্যাডভোকেসি ফোরাম (এমএএফ)-ময়মনসিংহ, হারমনি টিম-ময়মনসিংহ এবং ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের যৌথ উদ্যোগে এই কর্মসূচি আয়োজিত হচ্ছে।
প্রচারণায় অংশগ্রহণকারী দলগুলো হলো—বিএনপি, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, গণ অধিকার পরিষদ, গণ সংহতি আন্দোলন, গণফোরাম, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি) এবং বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)।
আয়োজকরা জানান, ময়মনসিংহের ১১টি সংসদীয় আসনেই এই প্রচারণা চালানো হবে। কর্মসূচির সূচি অনুযায়ী, ২৫ জানুয়ারি ময়মনসিংহ-১, ২ ও ৩ আসনে; ২৬ জানুয়ারি ময়মনসিংহ-৮, ৯, ১০ ও ১১ আসনে এবং ২৭ জানুয়ারি ময়মনসিংহ-৫, ৬, ৭ ও ৪ আসনে পথসভাগুলো অনুষ্ঠিত হবে।
এই বহুদলীয় প্রচারণায় সরাসরি অংশ নিচ্ছেন বিএনপি মনোনীত আবু ওয়াহাব আকন্দ, জামায়াতে ইসলামীর মো. কামরুল আহসান ইমরুল, গণ সংহতি আন্দোলনের মুস্তাফিজুর রহমান রাজিব, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির মো. লিয়াকত আলী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রফেসর ড. মো. নাসির উদ্দিন, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির মো. হামিদুল ইসলাম এবং কমিউনিস্ট পার্টির এমদাদুল হক মিল্লাত। এ ছাড়া জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), গণ অধিকার পরিষদ ও গণফোরামের প্রতিনিধিরা প্রার্থী ছাড়াই ফোরামের সদস্য হিসেবে সক্রিয়ভাবে শান্তির বার্তা পৌঁছে দিচ্ছেন।
পথসভাগুলোতে রাজনৈতিক নেতারা দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা দেন যে, নির্বাচনি প্রতিযোগিতা হবে কিন্তু তা কোনোভাবেই সহিংসতায় রূপ নেবে না। তারা ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন, উসকানি পরিহার এবং ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে যৌথ অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ময়মনসিংহের ১১টি আসনের ভোটারদের মধ্যে নির্বাচন নিয়ে যে উৎকণ্ঠা ছিল, শীর্ষ নেতাদের এই যৌথ অবস্থান তা দূর করতে সহায়ক হবে। ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শ থাকা সত্ত্বেও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ রক্ষায় দলগুলোর এই একাট্টা অবস্থানকে একটি 'সময়োপযোগী ও তাৎপর্যপূর্ণ' উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আয়োজক প্রতিষ্ঠানগুলোর মতে, গত অক্টোবর থেকে ধারাবাহিক সংলাপের মাধ্যমে দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আস্থা তৈরি করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় নেতারা এখন সরাসরি জনগণের কাছে গিয়ে আশ্বস্ত করছেন যে, নির্বাচন হবে উৎসবমুখর ও সংঘাতহীন। এই উদ্যোগ কেবল ময়মনসিংহেই নয়, সারা দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির জন্য একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
