মার্কিন রণতরীতে ৩০ ঘণ্টা ধরে জ্বলেছে আগুন, অসুস্থ কয়েক সেনা, মেঝেতে ঘুমাচ্ছেন ৬০০ নাবিক
গত সপ্তাহে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী 'ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড'-এর লন্ড্রি কক্ষে লাগা আগুন ৩০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে জ্বলেছে। এই ঘটনায় রণতরীতে থাকা কয়েক ডজন সেনাসদস্য ধোঁয়াজনিত শ্বাসকষ্টে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। সোমবার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নাবিক ও সামরিক কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমস এই প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
গত সপ্তাহে আমেরিকার এই বৃহত্তম যুদ্ধজাহাজে আগুন লাগার বিষয়টি জানিয়েছিল মার্কিন নৌবাহিনী। সে সময় এক বিবৃতিতে তারা বলেছিল, লন্ড্রি কক্ষের ওই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে এবং এটি কোনো যুদ্ধকালীন আক্রমণের ফল নয়। এছাড়া অগ্নিকাণ্ডে দুই নাবিক আহত হলেও তাদের আঘাত গুরুতর ছিল না বলে জানানো হয়েছিল।
নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছিল যে, ইরানের সাথে চলমান উত্তেজনার মধ্যে লোহিত সাগরে মোতায়েন থাকা ১ লাখ টন ওজনের এই রণতরীর যুদ্ধকালীন কার্যক্রম ব্যাহত হয়নি। তবে জাহাজটিতে থাকা প্রায় ৪ হাজার ৫০০ ক্রু ও এয়ার উইং সদস্যদের বর্তমান অবস্থা মোটেও স্বস্তিদায়ক নয়।
নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৩ বিলিয়ন ডলার মূল্যের এই রণতরীর প্রায় ৬০০ নাবিক অগ্নিকাণ্ডের কারণে তাদের বিছানা হারিয়েছেন। তারা বর্তমানে ডাইনিং টেবিল বা মেঝেতে ঘুমাচ্ছেন। এছাড়া জাহাজের লন্ড্রি ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়ায় অনেকেই কাপড় পরিষ্কার করতে পারছেন না।
নিউ ইয়র্ক টাইমসের এই প্রতিবেদনের বিষয়ে মন্তব্যের জন্য সিএনএনের পক্ষ থেকে পঞ্চম নৌবহরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। পারস্য উপসাগর ও লোহিত সাগরের নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করে এই নৌবহর।
জেরাল্ড আর. ফোর্ডের বর্তমান মোতায়েনের আজ ১০ মাস পূর্ণ হয়েছে। দীর্ঘ এই সময়জুড়ে জাহাজটি নানা সমস্যায় জর্জরিত ছিল, যার মধ্যে অন্যতম হলো টয়লেট বা শৌচাগারের সমস্যা। গত জানুয়ারিতে এনপিআর প্রথম এই সমস্যার কথা জানিয়েছিল। প্রতিবেদনে বলা হয়, গত কয়েক বছরে জাহাজটির প্লাম্বিং সমস্যার সমাধানে কয়েক ডজন বার বাইরের সাহায্য নিতে হয়েছে, যার মধ্যে অন্তত ১২ বার সাহায্য নেওয়া হয়েছে বর্তমান মোতায়েন চলাকালীন।
গত বছরের জুনে যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ার নরফোক বন্দর ছাড়ার পর ফোর্ড আটলান্টিক পেরিয়ে ভূমধ্যসাগরে যায়। সেখান থেকে পুনরায় আটলান্টিক হয়ে ভেনিজুয়েলা অভিযানে সহায়তা করতে ক্যারিবীয় অঞ্চলে এবং বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থান করছে।
নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, জেরাল্ড আর. ফোর্ডের বর্তমান মোতায়েন যদি আগামী এপ্রিলের মাঝামাঝি পর্যন্ত স্থায়ী হয়, তবে এটি হবে ভিয়েতনাম যুদ্ধের পর কোনো মার্কিন বিমানবাহী রণতরীর দীর্ঘতম সময় ধরে মোতায়েন থাকার রেকর্ড।
