চার দিনের কর্মসপ্তাহ, আর্থিক সহায়তা: এশিয়ার দেশগুলো যেভাবে জ্বালানি সংকট মোকাবিলা করছে
ইরানে চলমান যুদ্ধের তিন সপ্তাহ পেরিয়ে যাওয়ার পর এশিয়াজুড়ে জ্বালানি তেলের সংকট তীব্র হয়ে উঠেছে। এই পরিস্থিতির নেতিবাচক প্রভাব ও অর্থনৈতিক ক্ষতি সামাল দিতে এশিয়ার বিভিন্ন দেশ নতুন নতুন ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ুং মঙ্গলবার দেশবাসীকে জ্বালানি সাশ্রয় অভিযানে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এর অংশ হিসেবে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে যাত্রীবাহী গাড়ির ব্যবহার কমানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া, ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপে থাকা নাগরিকদের সহায়তার জন্য সরকারকে দ্রুত একটি সম্পূরক বাজেট পাসের তাগিদ দিয়েছেন তিনি।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি মঙ্গলবার ঘোষণা করেছেন, আগামী ২৬ মার্চ থেকে দেশটি তাদের জাতীয় মজুত থেকে তেল বাজারে ছাড়তে শুরু করবে।
এ ছাড়া, এই মাসের শেষ দিকে তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর সঙ্গে থাকা যৌথ মজুত থেকেও তেল ছাড়া হবে। তাকাইচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ জানান, গত ১৬ মার্চ থেকেই জাপান তাদের বেসরকারি খাতের মজুত থেকে তেল ছাড়া শুরু করেছে।
নিউজিল্যান্ড সরকার মঙ্গলবার জানিয়েছে, তারা প্রায় ১ লাখ ৪৩ হাজার নিম্ন ও মধ্যবিত্ত কর্মজীবী পরিবারকে প্রতি সপ্তাহে ৫০ ডলার করে আর্থিক সহায়তা দেবে। যুদ্ধের ফলে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের ওপর যে বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে, তা লাঘব করতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আগামী ৭ এপ্রিল থেকে এই ভর্তুকি দেওয়া শুরু হবে। এটি প্রায় এক বছর বা তেলের দাম স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।
তীব্র জ্বালানি সংকটের মুখে শ্রীলঙ্কা কর্তৃপক্ষ প্রতি বুধবারকে সকল সরকারি প্রতিষ্ঠানের জন্য ছুটি ঘোষণা করেছে। এর ফলে দেশটিতে চার দিনের কর্মসপ্তাহ চালু হলো।
স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিচার বিভাগও এই ছুটির আওতায় থাকবে, তবে হাসপাতাল ও কাস্টমসের মতো জরুরি পরিষেবাগুলো সচল থাকবে। মূলত জ্বালানি সাশ্রয় এবং রাষ্ট্রীয় সেবা সচল রাখতেই এই আগাম ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
