হেলিকপ্টার ভূপাতিত করার জেরে ইরানে ফের মার্কিন হামলা; জবাবে বাহরাইন, কুয়েত ও জর্ডানে পাল্টা আঘাত তেহরানের
কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির কাছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি 'অ্যাপাচি' হেলিকপ্টার ভূপাতিত করার জেরে ইরানে আবার হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। জবাবে বাহরাইন, কুয়েত এবং জর্ডানে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোতে একযোগে পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীও (আইআরজিসি)। এই হামলার ফলে দুই দেশের মধ্যকার ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি এবং একটি সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির ভবিষ্যৎ এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) জানিয়েছে, তারা হরমুজ প্রণালির কাছে ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, গ্রাউন্ড কন্ট্রোল স্টেশন এবং নজরদারি রাডার সাইটগুলোকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালিয়েছে। মার্কিন বাহিনী এই অভিযানকে তাদের ওপর সাম্প্রতিক হামলা ও বাণিজ্যিক জাহাজে বাধার বিপরীতে একটি 'যৌথ ও আনুপাতিক জবাব' হিসেবে বর্ণনা করেছে।
এ বিষয়ে এবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, 'আমি বিশ্বাস করি এই জবাবটি খুব জোরালো, খুব শক্তিশালী হওয়া উচিত এবং এটি তেমনই হয়েছে।'
সেন্টকমের তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন হামলাটি স্থানীয় সময় মঙ্গলবার বিকেল ৫টায় শুরু হয়ে রাত ৯টার মধ্যে শেষ হয়।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির কেশম দ্বীপ এবং বন্দর নগরী সিরিক-এ হামলা চালানো হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কাছাকাছি বন্দর আব্বাস এবং জাস্ক কাউন্টিতেও বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
অন্যদিকে আইআরজিসি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহর এবং কুয়েতের 'আলি আল সালেম' ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এর পাশাপাশি জর্ডানের 'আজরাক' বিমান ঘাঁটিতে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে।
সংস্থাটির দাবি, তারা ওই অঞ্চলের মোট ২১টি মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে এবং এর মধ্যে ৪টি সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিয়েছে। ধ্বংস হওয়া স্থাপনাগুলোর মধ্যে জর্ডানের ঘাঁটিতে অবস্থিত মার্কিন অত্যাধুনিক 'এফ-৩৫' ফাইটার জেটের একটি হ্যাঙ্গারও রয়েছে। এছাড়াও ইরানের 'জাম' শহরের আকাশে যুক্তরাষ্ট্রের একটি 'এমকিউ-৯' ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে আইআরজিসি।
আইআরজিসি তাদের বিবৃতিতে মার্কিন হামলাকে 'অবৈধ ও বোকামি' হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেছে, 'যুদ্ধবাজ মার্কিন সরকার মিথ্যা অজুহাতে আজ সকালে জাস্ক, সিরিক এবং কেশমের বেশ কয়েকটি স্থানে হামলা চালিয়েছে, যার ফলে সিরিকের একটি টেলিযোগাযোগ টাওয়ার এবং দুটি পানির ট্যাংক ধ্বংস হয়ে গেছে।'
যুক্তরাষ্ট্রের এই বিমান হামলার পর দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিও ওয়াশিংটনকে কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেন, "নিরাপদে থাকতে চাইলে আমাদের অঞ্চল ছেড়ে চলে যান।"
মার্কিন প্রশাসনকে সতর্ক করে আরাগচি আরও বলেন, 'আমাদের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী কোনো হামলা বা হুমকিকে বিনা জবাবে ছেড়ে দেবে না। বহিরাগত অনুপ্রবেশকারীদের করুণ পরিণতির বিষয়ে পারস্য উপসাগরের ইতিহাসে অনেক অধ্যায় রয়েছে।'
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে এই সংঘাত শুরু হওয়ায় বুধবার এশিয়ান বাজারে লেনদেনের শুরুতেই অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম প্রায় ১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
