ইরানের সাথে বড় ধরনের সমঝোতার দাবি ট্রাম্পের: জানালেন ১৫ বিষয়ে ঐকমত্যের কথা
জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্য 'সাময়িক', দাবি মার্কিন জ্বালানি সচিবের
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের বর্তমান অস্থিরতা ও উচ্চমূল্যকে 'সাময়িক' বলে অভিহিত করেছেন মার্কিন জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট। সোমবার এক বিবৃতিতে তিনি জানান, বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়াটা মূলত উৎপাদনকারীদের জন্য একটি সংকেত, যাতে তারা সরবরাহ বাড়াতে উদ্যোগী হয়।
ক্রিস রাইট বলেন, 'বাজার তার নিজস্ব নিয়মেই চলে। বর্তমানে তেলের দাম যে পর্যায়ে আছে, তা এখনও 'চাহিদার ব্যাপক পতন' ঘটানোর মতো অবস্থায় পৌঁছায়নি।'
সাধারণত তেলের দাম অতিরিক্ত বেড়ে গেলে বা সরবরাহ কমে গেলে যখন মানুষ দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি ব্যবহার কমিয়ে দেয়, তখন তাকে 'ডিমান্ড ডেসট্রাকশন' বলা হয়। রাইটের মতে, পরিস্থিতি এখনও ততটা ভয়াবহ হয়নি।
ইরানের সাথে চুক্তি হলে তেলের দাম দ্রুতগতিতে কমবে: ট্রাম্প
ইরানের সাথে একটি সফল সমঝোতা হলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম 'পাথরের মতো' (দ্রুতগতিতে) নিচে নেমে আসবে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এই সম্ভাবনার কথা জানান।
ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, 'ইরানের সাথে চুক্তির একটি অত্যন্ত জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে এর মানে এই নয় যে সবকিছু নিশ্চিত; আমি কোনো কিছুর গ্যারান্টি দিচ্ছি না।'
তিনি আরও দাবি করেন, যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে দুই দেশ বর্তমানে ১৫ দফা নিয়ে আলোচনা করছে। এর মধ্যে প্রথম তিনটি প্রধান শর্তই হলো—ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্রের আকাঙ্ক্ষা পুরোপুরি ত্যাগ করতে হবে।
তবে আলোচনার ইতিবাচক খবরের মাঝেই একটি বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, তিনি ইরানে 'অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে সরকার পরিবর্তন' দেখতে চান।
ইরানের সাথে বড় ধরনের সমঝোতার দাবি ট্রাম্পের
ইরানের সাথে আলোচনায় বড় ধরনের অগ্রগতির দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, দুই দেশের মধ্যে অন্তত ১৫টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে 'ঐকমত্য' প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার গভীর রাত পর্যন্ত দুই শীর্ষ মার্কিন দূতের সঙ্গে আলোচনার পর সোমবার ওয়েস্ট পাম বিচ বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান তিনি।
ট্রাম্প জানান, এই আলোচনার উদ্যোগ ইরানই নিয়েছিল এবং প্রক্রিয়াটি 'নিখুঁতভাবে' এগিয়েছে। তিনি বলেন, 'যদি এই আলোচনাগুলো সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়, তবে দীর্ঘদিনের এই সংঘাতের একটি বড় ধরনের সমাধান হবে।'
সিএনএন-এর কেইটলান কলিন্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, '১৫টি সমঝোতার মধ্যে একটি হলো—ইরান কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।'
তবে ট্রাম্পের অন্যতম শর্ত হলো, ইরানকে তাদের উচ্চ মাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম বা 'পারমাণবিক ডাস্ট' যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দিতে হবে।
ট্রাম্প দাবি করেন, 'আমরা সেটি নিজেদের জিম্মায় নিতে চাই এবং আমার মনে হয় আমরা সেটি পাব। তারা এতে রাজি হয়েছে।'
আলোচনায় কারা অংশ নিচ্ছেন সে বিষয়ে ট্রাম্প জানান, তার ঘনিষ্ঠ দুই প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত আছেন। ইরানের পক্ষ থেকে কে আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন তা স্পষ্ট না করলেও ট্রাম্প তাকে একজন 'শ্রদ্ধেয় নেতা' হিসেবে অভিহিত করেছেন। তবে তিনি এটি নিশ্চিত করেছেন যে, ওই ব্যক্তি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি নন।
পাঁচ দিনের হামলা স্থগিতের বিষয়ে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, 'আমরা পাঁচ দিনের সময় দিয়েছি, দেখি কী হয়। যদি সব ঠিকঠাক থাকে তবে আমরা চূড়ান্ত মীমাংসায় পৌঁছাব। অন্যথায়, আমরা আবারও পুরোদমে বোমাবর্ষণ শুরু করব।'
তিনি আরও জানান, সোমবার আরও কয়েকটি টেলিফোন আলাপ হবে এবং খুব শীঘ্রই একটি সরাসরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ওয়াশিংটনের সাথে কোনো আলোচনা হয়নি: ট্রাম্পের দাবি প্রত্যাখ্যান করল ইরান
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আলোচনার দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। তেহরান জানিয়েছে, ওয়াশিংটনের সাথে তাদের কোনো ধরনের সংলাপ হচ্ছে না। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমগুলো এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের এই দাবি মূলত বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম কমানো এবং নিজেদের সামরিক পরিকল্পনার জন্য সময়ক্ষেপণের একটি অপকৌশল মাত্র।
ইরানি সংবাদমাধ্যম 'মেহর নিউজ' জানায়, আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনে বেশ কিছু প্রতিবেশী দেশ 'উদ্যোগ' নিলেও তেহরানের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, 'আমাদের পক্ষ থেকে সবার প্রতি একটাই জবাব—আমরা এই যুদ্ধ শুরু করিনি। তাই আলোচনার যাবতীয় অনুরোধ বা প্রস্তাব ওয়াশিংটনের কাছেই পাঠানো উচিত।'
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন যে, ইরানের সাথে তাদের অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে এবং এর প্রেক্ষিতে তিনি ৫ দিনের জন্য হামলা স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।
ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা ৫ দিন স্থগিত রাখার ঘোষণা ট্রাম্পের
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার জানিয়েছেন, ইরানের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের 'ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ' আলোচনা হয়েছে। এর প্রেক্ষিতে দেশটির বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও জ্বালানি অবকাঠামোতে পরিকল্পিত সামরিক হামলা আপাতত পাঁচ দিনের জন্য স্থগিত করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, 'আমি আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, গত দুই দিনে মধ্যপ্রাচ্যে আমাদের মধ্যকার বৈরিতার একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।'
তিনি আরও বলেন, 'চলমান বৈঠক ও আলোচনার সফলতার ওপর ভিত্তি করে আমি প্রতিরক্ষা বিভাগকে (ওয়ার ডিপার্টমেন্ট) আগামী পাঁচ দিনের জন্য ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং জ্বালানি অবকাঠামোতে সব ধরনের সামরিক হামলা স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছি।'
স্থল হামলা হলে গোটা পারস্য উপসাগরে সামুদ্রিক মাইন বিছিয়ে দেওয়া হবে: ইরানের প্রতিরক্ষা কাউন্সিল
স্থলপথে কোনো রকম হামলার চেষ্টা হলে গোটা পারস্য উপসাগরজুড়ে সামুদ্রিক মাইন বিছিয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের প্রতিরক্ষা কাউন্সিল।
সোমবার কাউন্সিলের তরফে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, শত্রু দেশ যদি ইরানের উপকূল বা দ্বীপগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার চেষ্টা করে, তবে প্রচলিত সামরিক রীতি মেনেই পারস্য উপসাগরের সমস্ত প্রবেশপথ ও উপকূলবর্তী এলাকায় মাইন বসানো হবে।
অঞ্চলটিতে মার্কিন মেরিন সেনার সম্ভাব্য উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে উদ্বেগ বাড়ছে। সেই পরিস্থিতিতেই এই কড়া বার্তা দিল ইরান।
বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহের পথ সচল রাখতে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে আমেরিকা। ওই লক্ষ্যপূরণে মার্কিন বাহিনী ইরানের কোনো দ্বীপ বা ভূখণ্ড দখল করতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে, ইসরায়েলও এই যুদ্ধে স্থল হামলার সম্ভাবনা উসকে দিয়েছে।
ইরানের অবকাঠামোতে হামলা ইসরায়েলের, বিদ্যুৎহীন বিস্তীর্ণ অঞ্চল
সোমবার ভোরে ইরানের রাজধানী তেহরানের একাধিক এলাকায় ইসরায়েলি বিমান হামলার জেরে বিস্তীর্ণ অঞ্চল বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে।
এদিন তেহরানের অবঠামো লক্ষ্য করে হামলার হুঁশিয়ারি দেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই এ আক্রমণ শুরু করে ইসরায়েল। তবে নির্দিষ্টভাবে কোন কোন জায়গায় আঘাত হানা হয়েছে, তা স্পষ্ট করেনি ইসরায়েল।
ইরানি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, তেহরানের উত্তর, পূর্ব ও পশ্চিম ভাগের বিভিন্ন প্রান্তে মুহুর্মুহু বিস্ফোরণ ঘটেছে। দীর্ঘক্ষণ ধরে চলা এই হামলার জেরে শহরের বড় অংশে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। রোববারই ইরানের বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছিল ওয়াশিংটন। তাই সোমবারের এই ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই ইরানি নাগরিকদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়েছে।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা তেহরানের অবকাঠামো লক্ষ্য করে নতুন দফায় হামলা শুরু করেছে। যদিও অভিযানের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা বা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিয়ে এখনও বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
ভুলবশত নিজেদের গোলায় ইসরায়েলে ১ জনের মৃত্যু
লেবানন সীমান্তে গোলাবর্ষণ করতে গিয়ে 'মারাত্মক ভুল' করেছে ইসসরায়েলের সেনারা। ভুলবশত নিজেদের গোলাই আছড়ে পড়ল দেশের ভূখণ্ডে। আর সেই গোলার আঘাতেই প্রাণ হারিয়েছেন একজন ইসরায়েলি। ইসরায়েলি ব্রডকাস্টিং অথরিটি সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।
ইসরায়েলি ব্রডকাস্টিং অথরিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উত্তর ইজরায়েলের মিসগাভ আম এলাকায় যে ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছিল, তিনি ইসরায়েলি সেনার লক্ষ্যভ্রষ্ট গোলার আঘাতেই মারা গেছেন।
তদন্ত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, লেবাননকে লক্ষ্য করে গোলা ছুড়ছিল ইসরায়েলি বাহিনীর একটি গোলন্দাজ ইউনিট। সেই সময়েই ভুলবশত কয়েকটি গোলা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে মিসগাভ আম কিবুতজ-এর ভেতরে গিয়ে পড়ে।
ঘটনার পরপরই ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছিল, লেবানন থেকে ছোড়া রকেটের আঘাতেই হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু পরে অবস্থান বদল করে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানায়, বিষয়টি খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু করা হয়েছে। সেই তদন্তেই গোলন্দাজ বাহিনীর এই 'ভুল' ধরা পড়েছে।
সৌদি আরবে মার্কিন বিমানঘাঁটি ও বাহরাইনে পঞ্চম নৌবহরে হামলার দাবি ইরানের
সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটি ও বাহরাইনে মোতায়েন আমেরিকার পঞ্চম নৌবহরে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ডস কোর-এর (আইআরজিসি) খাতাম অল-আম্বিয়া হেডকোয়ার্টারের একজন মুখপাত্র বলেন, ড্রোন ও মিসাইল ব্যবহার করে এই অভিযান চালানো হয়েছে।
আইআরজিসির বলেছে, প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটি আমেরিকার নজরদারি ও গোয়েন্দা বিমান চলাচলের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। সেখানে ব্যালিস্টিক মিসাইল ছুড়ে হামলা চালানো হয়েছে। উল্লেখ্য, পশ্চিম এশিয়ায় আমেরিকার সামরিক তৎপরতা ও রণকৌশলগত অবস্থানের নিরিখে এই ঘাঁটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অন্যদিকে, হুথিপন্থী সংবাদ সংস্থা আলমাসিরা এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ইসরায়েলের বেন গুরিয়ান বিমানঘাঁটির অদূরে অবস্থিত একটি অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্টারে হামলা চালিয়েছে হুথিরা। এই হামলায় আরাশ-২ অ্যাটাক ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে।
হুথিদের দাবি, অঞ্চলটিতে মার্কিন ঘাঁটি এবং ইসরায়েলের মধ্য ও দক্ষিণ অঞ্চলে এটি তাদের ৭৪-তম দফার হামলা। এবারের হামলায় আধুনিক সমরাস্ত্র ও রণকৌশলে বদল আনার দাবিও করেছে তারা।
তবে ইরান বা হুথিদের এই দাবির এখনও পর্যন্ত স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। আমেরিকা বা ইসরায়েলের তরফেও এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।
ইরানের ড্রোন উৎপাদন কারখানায় হামলার দাবি যুক্তরাষ্ট্রের
ইরানের ড্রোন ও যুদ্ধবিমানের টারবাইন ইঞ্জিন তৈরির একটি কারখানায় হামলা চালানোর দাবি করেছে আমেরিকা।
মধ্য-ইরানের কুম প্রদেশে অবস্থিত এই কারখানাটি মূলত ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ডস কোর-এর (আইআরজিসি) সমরাস্ত্র তৈরির কাজে ব্যবহৃত হতো বলে দাবি আমেরিকার সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকম-এর।
সমাজমাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে সেন্টকম জানিয়েছে, কুমের ওই কারখানায় অ্যাটাক ড্রোন ও যুদ্ধবিমানের জন্য বিশেষ গ্যাস টারবাইন ইঞ্জিন উৎপাদন করা হতো।
হামলার সপক্ষে ওই অবঠামোর আগের ও পরের কিছু স্যাটেলাইট চিত্রও প্রকাশ করেছে সেন্টকম। ২০২৬ সালের ৬ মার্চের ছবিতে কারখানাটি অক্ষত দেখা গেলেও তিন দিন পরের, অর্থাৎ ৯ মার্চের ছবিতে দেখা যায় সেটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
নিষেধাজ্ঞা শিথিল হতেই ইরান থেকে তেল আমদানির উদ্যোগ চীনের
বিশ্ববাজারে তেলের জোগান স্বাভাবিক রাখতে ইরানের সমুদ্রে থাকা তেল বিক্রির ওপর থেকে সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে ওয়াশিংটন। আমেরিকার তরফে ৩০ দিনের এই 'ছাড়' মেলার পরই ইরান থেকে তেল কেনার তোড়জোড় শুরু করে দিয়েছে চীনের সরকারি তেল শোধনকারী সংস্থাগুলো।
সূত্রের বরাতে মার্কিন সংবাদ সংস্থা ব্লুমবার্গ বলছে, ন্যাশনাল ইরানিয়ান অয়েল কোম্পানি-র প্রতিনিধি ও মধ্যস্থতাকারীরা চীনের পাশাপাশি এশিয়ার অন্যান্য দেশের শোধনকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন।
অবশ্য যুদ্ধ শুরুর আগে থেকেই আমেরিকার রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে ইরানের তেলের প্রধান গ্রাহক হিসেবে নিজেদের জায়গা ধরে রেখেছে বেইজিং। ইরান মোট যে পরিমাণ তেল রপ্তানি করে, তার ৮০ শতাংশেরই গন্তব্য চীন।
কেপলার-এর তথ্যমতে, গত বছর চীন দৈনিক গড়ে ১৩.৮ লাখ ব্যারেল ইরানি তেল আমদানি করেছে। সমুদ্রপথে চীন যে পরিমাণ তেল আমদানি করে, তার প্রায় ১৩.৪ শতাংশই আসে ইরান থেকে।
যুদ্ধের তীব্রতা বাড়ার আশঙ্কায় এশিয়ার শেয়ারবাজারে দরপতন
পারস্পরিক আক্রমণ আরও তীব্র করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে আমেরিকা ও ইরান। এর জেরে সোমবার এশিয়ার প্রধান শেয়ার বাজারগুলোতে বড়সড় দরপতন হয়েছে।
এদিন সকালে লেনদেন শুরু হতেই জাপানের প্রধান সূচক নিক্কেই ২২৫-এর ৩.৪ শতাংশ দরপতন হয়। পাশাপাশি প্রায় ৫ শতাংশ দরপতন দেখা যায় দক্ষিণ কোরিয়ার কোসপি সূচকে।
সোমবার এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য শেয়ারবাজারেও নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। হংকংয়ের শেয়ারবাজারে ২.৫ শতাংশ ও তাইওয়ান ওয়েটেড ইন্ডেক্স-এর ২ শতাংশ দরপতন হয়েছে। পাশাপাশি সাংহাই কম্পোজিট সূচক ২.৩ শতাংশ কমে হয়েছে ৩,৮৬৭.৫১।
সোমবার গ্রিনিচ মান সময় ভোর ৪টার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সিঙ্গাপুরের স্ট্রেইটস টাইমস সূচক ২.১ শতাংশ নেমে ৪,৮৮৪.৭১-এ পৌঁছেছে। পতন দেখা গেছে ফিলিপাইন এবং থাইল্যান্ডের বাজারেও। ফিলিপিন্স স্টক এক্সচেঞ্জ-এর ৩.১৭ শতাংশ ও স্টক এক্সচেঞ্জ অভ থাইল্যান্ড-এর দরপতন হয়েছে ২.১৫ শতাংশ।
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, আক্রমণ ও পাল্টা আক্রমণের ঘটনা সংঘাতের মাত্রাকে আরও কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেবে। ইতিমধ্যেই এই যুদ্ধের ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। পাল্লা দিয়ে বাড়ছে দাম, তৈরি হয়েছে জ্বালানির ঘাটতি।
হরমুজ প্রণালি নিয়ে হুমকির জেরে বেড়ে গেছে তেলের দাম
হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য ইরানকে আল্টিমেটাম দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। নইলে দেশটির জ্বালানি উৎপাদন অবকাঠামো গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি ইসরায়েলও জানিয়েছে, যুদ্ধ চলবে আরও কয়েক সপ্তাহ। এই জোড়া জোরালো বার্তার পরেই সোমবার সকালে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এক ধাক্কায় অনেকটা বেড়ে গেছে।
জিএমটি সময় রাত ১০টায় (২২০০) বাজার খোলার কিছুক্ষণের মধ্যেই মে মাসে সরবরাহের জন্য আমেরিকার অপরিশোধিত তেলের বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট-এর (ডব্লিউটিআই) দাম ১.৮ শতাংশ বেড়ে যায়। এতে ব্যারেলপ্রতি দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়। যদিও পরে তা সামান্য কমে।
এএফপি জানিয়েছে, প্রায় একই হারে দাম বাড়ে মে মাসে সরবরাহের জন্য নির্দিষ্ট নর্থ সি ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলেরও। ব্যারেলপ্রতি দাম পৌঁছায় ১১৩.৪৪ ডলারে। তবে কেনাবেচা শুরুর ৪৫ মিনিটের মাথায় তা কিছুটা কমে ১১১ ডলারের কাছাকাছি নেমে আসে।
ইরানে আমেরিকা-ইসরায়েলের যৌথ হামলা শুরুর ঠিক আগের দিন, অর্থাৎ ২৭ ফেব্রুয়ারি ওই দুই অপরিশোধিত তেলের দাম ছিল যথাক্রমে ৬৭.০২ ডলার ও ৭২.৪৮ ডলার।
ইরানের তীব্র মিসাইল হামলা, ইসরায়েলজুড়ে সতর্কতা
ইরান থেকে একের পর এক মিসাইল হামলা চালানো হচ্ছে ইসরায়েলে। এতে জেরুসালেম ও মধ্য ইসরায়েলসহ বিস্তীর্ণ অংশে জারি হয়েছে সতর্কতা। বাদ যায়নি দক্ষিণাঞ্চলও। ইরানি মিসাইল আঘাত হানার আশঙ্কায় স্থানীয় বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন।
ইতিমধ্যেই বেশ কিছু জায়গায় জোরালো বিস্ফোরণের খবর মিলেছে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এই হামলায় 'ক্লাস্টার বম্ব' বা গুচ্ছ বোমা ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে, যা থেকে একাধিক ছোট ছোট বোমার বিস্ফোরণ ঘটে।
মধ্য ইসরায়েলের অন্তত আটটি জায়গায় মিসাইলের ধ্বংসাবশেষ বা বিস্ফোরক আছড়ে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ছবি ও ভিডিয়োতে ক্ষয়ক্ষতির চিত্রও প্রকাশ্যে এসেছে।
এর আগে উত্তর ইসরায়েলের বেশ কিছু এলাকাতেও সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে। তবে পরে সেই সতর্কতা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।
তবে রোববার থেকেই ইসরায়েলের নানা প্রান্তে এই ধরনের সতর্কবার্তা জারি হওয়ার প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে। বিশেষত উত্তর ইসরায়েলে এই উদ্বেগ সবচেয়ে বেশি। কারণ সেখানে শুধু ইরানের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রই নয়, সীমান্ত পেরিয়ে হামলা চালাচ্ছে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহও।
পূর্ব তেহরানে 'নজিরবিহীন' বিস্ফোরণ
ইরানের রাজধানী তেহরানেও ভয়াবহ বিস্ফোরণের খবর মিলেছে। বিশেষত শহরের পূর্ব দিকের এই বিস্ফোরণের তীব্রতা ও মাত্রাকে 'নজিরবিহীন' বলে উল্লেখ করেছেন আল জাজিরা অ্যারাবিকের স্থানীয় প্রতিনিধি সুহায়েব আল-আসা।
তিনি জানান, শহরের পূর্ব অংশে ইতিমধ্যেই সক্রিয় করা হয়েছে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। সাধারণত তেহরানের আকাশে আমেরিকা বা ইসরায়েলের ড্রোনের আনাগোনা টের পেলেই এই ব্যবস্থা সক্রিয় করে ইরান।
তেহরানে 'ব্যাপক হামলা'র ঘোষণা ইজরায়েলের
তেহরানজুড়ে জোরালো বিস্ফোরণের খবর প্রকাশ্যে আসার কিছুক্ষণ পরেই একটি বিবৃতি জারি করে ইজরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। তারা আনুষ্ঠানিক ভাবে ঘোষণা করেছে, তেহরানে ইরানের সরকারি অবকাঠামো লক্ষ্য করে 'পর্যায়ক্রমিক ও ব্যাপক হামলা' চালানো হচ্ছে।
পরস্পরকে হুঁশিয়ারি ট্রাম্প ও তেহরানের, জল-বিদ্যুৎ সংকটের আশঙ্কায় উপসাগরীয় অঞ্চল
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি ইরানের বিদ্যুৎ সেবার ওপর হামলার হুমকি বাস্তবায়ন করেন, তবে উপসাগরীয় অঞ্চলের জল ও বিদ্যুৎ অবকাঠামোয় পাল্টা আঘাতের হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান।
এই হুমকির জেরে ওই অঞ্চলে ব্যাপক বিপর্যয়ের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কারণ পানীয় জলের জন্য উপসাগরীয় অঞ্চল মূলত সমুদ্রের পানি পরিশোধনের (ডিস্যালিনেশন) ওপরেই নির্ভরশীল।
শনিবার গভীর রাতে তেহরানকে আল্টিমেটাম দিয়ে ট্রাম্প বলেন, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে না দিলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে হামলা চালাবে আমেরিকা। সোমবার জিএমটি সময় রাত ১১টা ৪৫ মিনিটে এই সময়সীমা শেষ হচ্ছে।
বেসামরিক অবকাঠামোতে এই পাল্টা হামলার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক তেলের বাজার আরও অস্থির হয়ে উঠেছে। এশিয়ার বাজার খুলতেই অশোধিত তেলের দামে ব্যাপক ওঠাপড়া দেখা গেছে।
গত তিন সপ্তাহের বেশি সময় ধরে ইরানে লাগাতার বোমাবর্ষণ চালিয়েছে আমেরিকা ও ইসরায়েল। কর্মকর্তাদের দাবি, এর জেরে ইরানের মিসাইল সক্ষমতা অনেকটাই কমে গেছে। তা সত্ত্বেও পাল্টা মার দেওয়ার ক্ষমতা যে তাদের রয়েছে, তা বারবার প্রমাণ করে চলেছে তেহরান।
