নেপালের অনূঢ়া, রবি, বালেন শাহদের উত্থানের ধারায় বাংলাদেশ শামিল হতে পারলো না কেন?
শ্রীলঙ্কার পর নেপালের গণঅভ্যুত্থানোত্তর নির্বাচনের ফল দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক-জন-মানসে পালাবদলের স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলছে।
কলোনিয়াল রাষ্ট্রীয় কাঠামোর ভেতরে থেকেও তার পরিবর্তন চেষ্টায় লিপ্তরা উভয় দেশে সাংগঠনিক ও কৌশলগত দক্ষতার মাধ্যমে ভোটের হিসাব-নিকাশ বেশ পাল্টে দিল।
নেপালে সম্ভাব্য সরকার গঠনকারী দলটি [স্বতন্ত্র পার্টি] গঠিত হয়েছে মাত্র চার বছর আগে সাংবাদিক রবি লামিছানের নেতৃত্বে। প্রথম নির্বাচনে তারা সাতটি আসন পায়। এবার তারা এককভাবে সরকার গঠন করবে বলে ইঙ্গিত মিলছে। সেখানে এবারকার ফলের প্রবণতায় গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো দেশটির সকল প্রদেশে নবীন দলটি এগিয়ে আছে। যা বেশ বিস্ময়কর।
অন্যদিকে, শ্রীলঙ্কায় জেভিপি দল হিসেবে পুরানো হলেও গণঅভ্যুত্থানের আগের দুটি নির্বাচনে তারা ভোট পেতো ৩-৪ শতাংশ করে। কিন্তু গণঅভ্যুত্থানের পর তাদের ভোট বেড়েছে ৪০ শতাংশের উপরে। দুর্নীতিগ্রস্ত 'পুরানো'দের সরিয়ে দেয়ার ব্যাপারে তারা প্রকৃতই দৃঢ় প্রতিজ্ঞ ছিল এবং মাঠ পর্যায়ে পরিবর্তনবাদী ছোট ছোট সামাজিক শক্তিসমূহকে এক সুতোয় গেঁথেছিল তারা।
উভয় দেশে ভোটের ফল পুরানো নেতৃত্বের বিপরীতে রাজনীতির পরিসরে ব্যাপকভাবে তরুণদের আবির্ভাব ঘটিয়েছে। বিশেষ করে নারীরা রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
নেপালের এবারের নির্বাচনে নারী প্রার্থী ছিল দশ শতাংশের উপরে। শ্রীলংকায় জেভিপি ট্রেন্ড বুঝতে পেরে খোদ একজন নারীকে প্রধানমন্ত্রী পদে বসিয়েছে।
প্রশ্ন উঠেছে, বাংলাদেশে উপরোক্ত সামাজিক প্রবণতার ব্যতিক্রম ঘটলো কেন? গণঅভ্যুত্থানকারী ছাত্র নেতৃত্ব ভোটের ক্যালকুলাস বদলে দিতে পারলো না কেন? সংস্কারের প্রশ্নে দৃঢ়তার অভাব? দক্ষিণপন্থার সঙ্গে আপোষ? নৈতিক সংকট? গুপ্ত চরিত্রসমূহের ভুল পরামর্শ? পরিবর্তনবাদীদের পারস্পরিক সামাজিক-যোগাযোগ ঘাটতি? নাকি অন্যকিছু?
আলোচনা হোক।
- মতামত লেখকের নিজস্ব
