দীর্ঘ যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত ইরান, ইতি টানতে পারে কেবল ‘অর্থনৈতিক আঘাত’: সিএনএন-কে ইরানি কর্মকর্তা
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের জন্য ইরান প্রস্তুত বলে সতর্ক করেছেন ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তা কামাল খারাজি। সেই সঙ্গে উপসাগরীয় দেশগুলোতে হামলা অব্যাহত রাখার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি, যাতে এসব দেশ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সংঘাত থেকে সরে আসার জন্য রাজি করাতে চাপ দেয়।
তেহরানে সিএনএনকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার কার্যালয়ের বৈদেশিক নীতি বিষয়ক উপদেষ্টা কামাল খারাজি এসব কথা বলেন। তিনি আপাতত কূটনীতির সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়ে বলেন, এই যুদ্ধের অবসান কেবল অর্থনৈতিক চাপের মাধ্যমেই সম্ভব।
"আমি এখন আর কূটনীতির কোনো সুযোগ দেখি না। কারণ, ট্রাম্প অন্যদের প্রতারিত করেছেন। তিনি প্রতিশ্রুতি রক্ষা করছেন না। আমরা দুবারের আলোচনায় বিষয়টি বুঝতে পেরেছি। যখন আমরা আলোচনায় যুক্ত ছিলাম, তখনই তারা আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে", আজ সোমবার সিএনএনকে বলেন খারাজি।
তিনি আরও বলেন, "যতক্ষণ না অর্থনৈতিক চাপ এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে অন্য দেশগুলো হস্তক্ষেপ করে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি আগ্রাসন বন্ধের নিশ্চয়তা দেয়, ততক্ষণ কোনো সুযোগ নেই।"
তার মতে, উপসাগরীয় দেশগুলোসহ অন্যান্য দেশকে যুদ্ধ বন্ধ করতে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে হবে।
তিনি বলেন, "এই যুদ্ধ অন্যদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে—অর্থনৈতিক চাপ, মূল্যস্ফীতি, জ্বালানির ঘাটতি। যদি এটি চলতে থাকে, তাহলে এই চাপ আরও বাড়বে এবং তখন অন্যদের হস্তক্ষেপ করা ছাড়া উপায় থাকবে না।"
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু করার পর থেকে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে একাধিক হামলা চালিয়েছে। তেহরান দাবি করছে তারা উপসাগরীয় দেশগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থকে লক্ষ্যবস্তু করছে। এছাড়াও আবাসিক ভবন ও বিমানবন্দরেও একাধিক হামলা করা হয়েছে।
