নারীরা আমাদের মাথার তাজ, তাদের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে: দিনাজপুরে জামায়াত আমির
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জামায়াত এমন এক বাংলাদেশ গড়তে চায় যেখানে নারীরা ঘরে, রাস্তাঘাটে এবং কর্মস্থলে পূর্ণ নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিয়ে বসবাস করতে পারবেন।
তিনি নারীদের জাতির 'মাথার তাজ' হিসেবে অভিহিত করে দেশ গঠনে তাদের মেধা ও যোগ্যতার পূর্ণ ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) দুপুরে দিনাজপুরের ঐতিহাসিক গোর-এ-শহীদ ময়দানে ১০-দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সমালোচনার জবাবে শফিকুর রহমান বলেন, 'একদল দুর্বৃত্ত অপপ্রচার চালায় যে জামায়াত ক্ষমতায় আসলে নারীদের ঘরে বন্দি করে রাখা হবে। এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমরা নারীদের যোগ্য মর্যাদা দিতে চাই। তারা তাদের পূর্ণ মেধা ও যোগ্যতা নিয়ে দেশ গড়ার কাজে অবদান রাখবেন এবং প্রশাসন ও রাষ্ট্র তাদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।'
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নারীদের অসামান্য বীরত্বের কথা স্মরণ করে জামায়াত আমির বলেন, 'জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে আমাদের মা-বোনেরা যে সাহস দেখিয়ে রাজপথে নেমেছিলেন, তা অবিস্মরণীয়। তারা জালিমের ভিত কাঁপিয়ে দিয়েছিলেন। তাদের সেই ত্যাগ ও সাহসের কারণেই আজ আমরা স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারছি।'
দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক ছাত্র সংসদ নির্বাচনের ফলাফলের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, 'তরুণ প্রজন্মের নারী শিক্ষার্থীরা প্রমাণ করেছেন তারা জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের রাজনীতিকে নিরাপদ মনে করেন। তারা তাদের আস্থার জায়গা হিসেবে আমাদের বেছে নিচ্ছেন কারণ আমরা নারীর মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অঙ্গীকারবদ্ধ।'
দিনাজপুরের আঞ্চলিক উন্নয়নের রূপরেখা তুলে ধরে শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াত দেশ পরিচালনার সুযোগ পেলে বৃহত্তর দিনাজপুরের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে দিনাজপুর শহরকে সিটি কর্পোরেশনে রূপান্তর করা হবে।
তিনি আরও বলেন, 'দিনাজপুরের আম ও লিচুর বিশ্বজুড়ে কদর রয়েছে। আমরা এখানে উন্নত মানের ফুড প্রসেসিং ইন্ডাস্ট্রি গড়ে তুলব, যাতে জুস ও অন্যান্য প্রক্রিয়াজাত পণ্য বিদেশে উচ্চমূল্যে রপ্তানি করা যায়। এতে এই অঞ্চলের যুবকদের ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।'
দিনাজপুরকে দেশের শস্যভাণ্ডার উল্লেখ করে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, উত্তরবঙ্গকে কৃষি শিল্পের রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলা হবে। কৃষিকে আধুনিকায়ন করার পাশাপাশি কৃষকদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে শস্য সংরক্ষণাগার বা কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণ করা হবে।
জনসভায় ১০-দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দসহ হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
