ব্যবসায়ী শক্তির কাছে জিম্মি নির্বাচন কমিশন: টিআইবি
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, 'ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের দেওয়া হলফনামায় অস্বচ্ছতা রয়েছে। এছাড়া, নির্বাচন কমিশন আইন সংস্কার যখন করে তখন সে যেই শক্তির কাছে জিম্মি ছিল তারমধ্যে ব্যবসাভিত্তিক রাজনীতি অন্যতম।'
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) টিআইবির কার্যালয়ে 'নির্বাচনি হলফনামায় প্রার্থী পরিচিতি ২০২৬' শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
হলফনামায় দেওয়া তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, 'দ্বৈত নাগরিকত্ব রয়েছে ২১ জনের। তারা নাগরিকত্ব ত্যাগ করার ঘোষণা দিলেও টিআইবির কাছে দুজনের তথ্য আছে যারা এখনো ব্রিটিশ নাগরিকত্ব বহাল রেখেছেন। এছাড়াও একজন প্রার্থীর ঘোষিত নির্ভরশীলের নামে ২০১৩ সালে যুক্তরাজ্যে কেনা ১ দশমিক ৪ মিলিয়ন পাউন্ড বা ২১০ কোটি টাকা মূল্যের বাড়ির সম্পৃক্ততার তথ্য রয়েছে, যা ওই প্রার্থী হলফনামায় উল্লেখ করেননি।
নির্ভরযোগ্য তথ্য অনুযায়ী টিআইবি বলছে, বাড়িটি কেনার ক্ষেত্রে শেল কোম্পানির আশ্রয় নেওয়া হয়েছিল, যার মূল মালিকানা কোম্পানির নিবন্ধন দেখানো হয়েছে আরব আমিরাতের দুবাইতে। এছাড়া একজন প্রার্থী বিদেশে তার নিজের কোনো সম্পদের তথ্য জমা দেননি কিন্তু স্ত্রীর নামে দুবাইতে তার ফ্ল্যাট রয়েছে।'
টিআইবির প্রতিবেদনে জানানো হয়, এবারের নির্বাচনে ইসলামপন্থী দলগুলোর প্রার্থীদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ইফতেখারুজ্জামান বলেন, 'মোট প্রার্থীর ৩৬ ভাগের বেশি ইসলামপন্থী দলগুলোর। বিগত ৫টি নির্বাচনের মধ্যে এই হার সর্বোচ্চ। এছাড়া, প্রতিবারের মতো এবারও নারী প্রার্থীদের অংশগ্রহণ ৫ শতাংশের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারেনি।'
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে নারীর অংশগ্রহণ মাত্র ৪ দশমিক ২ শতাংশ (৮০ জন)। নারী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোর ব্যর্থতার কারণ হিসেবে অর্থনৈতিক ও ধর্মীয় উপাদানকে দায়ী করেছে টিআইবি।
প্রার্থীদের ঋণের পরিমাণ তুলে ধরে ড. ইফতেখারুজ্জামান আরও বলেন, 'ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট প্রার্থীর সাড়ে ২৫ শতাংশেরই কোনো না কোনো ঋণ বা দায় আছে। প্রার্থীদের সর্বমোট ঋণের পরিমাণ ১৮ হাজার ৮৬৮ দশমিক ৫২ কোটি টাকা। সর্বশেষ পাঁচ নির্বাচনের মধ্যে এবার ঋণ বা দায়গ্রস্ত প্রার্থী সবচেয়ে কম হলেও তাদের মোট ঋণের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। এর মধ্যে ব্যাংক ঋণের পরিমাণ ১৭ হাজার ৪৭১ দশমিক ৬৭ কোটি টাকা।'
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, হলফনামায় তথ্য গোপনের এই প্রবণতা নির্বাচনী স্বচ্ছতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে এবং নির্বাচন কমিশনের উচিত এসব তথ্যের যথাযথ যাচাই নিশ্চিত করা।
