নির্বাচনে কোটিপতি প্রার্থীর সংখ্যা ৮৯১; প্রথমবারের মতো প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১,৬৯৬ জন: টিআইবি
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২ হজার ২৮৬ জন প্রার্থীর মধ্যে কোটিপতি প্রার্থীর সংখ্যা ৮৯১ জন, যা আগের সব নির্বাচনের তুলনায় বেশি। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর 'ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ২০২৬: নির্বাচনী হলফনামায় প্রার্থী পরিচিতি' শীর্ষক বিশ্লেষণে এ তথ্য উঠে এসেছে।
আজ বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) টিআইবির মেঘমালা কনফারেন্স রুমে এক সংবাদ সম্মেলনে বিশ্লেষণের তথ্য উপস্থাপন করা হয়। বৈধ প্রার্থীদের অস্থাবর ও স্থাবর সম্পদের বর্তমান মূল্যের ভিত্তিতে এই সংখ্যা নির্ণয় করেছে টিআইবি।
বিশ্লেষণে দেখা গেছে, স্থাবর সম্পত্তির বর্তমান মূল্য অনুযায়ী কোটিপতি ৫৮৭ জন এবং অস্থাবর সম্পত্তির অর্জনকালীন মূল্য অনুযায়ী কোটিপতি ৫৬০ জন।
সংখ্যার দিক থেকে এবার ইসলামী দলগুলোর প্রার্থী বেশি। এছাড়া, মোট প্রার্থীর মধ্যে নারী ৪.০২ শতাংশ এবং পুরুষ ৯৫.৯৮ শতাংশ। নারী প্রার্থীদের মধ্যে জামায়াত জোটে রয়েছেন ৬ জন এবং বিএনপি জোটে ২৪ জন।
বয়সের হিসাবে ২৫ থেকে ৫৪ বছর বয়সী প্রার্থী বেশি। এবার গড় বয়স ৫১ বছর, যা বিগত নির্বাচনগুলোর তুলনায় সবচেয়ে কম।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে প্রথমবারের মতো নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন ১ হাজার ৬৯৬ জন প্রার্থী।
বিশ্লেষণ অনুযায়ী, শিক্ষাগত যোগ্যতার দিক থেকে প্রায় ৭৬.৪২ শতাংশ প্রার্থী স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী—যা আগের যেকোনো নির্বাচনের তুলনায় বেশি। শিক্ষক ও আইনজীবী প্রার্থীর সংখ্যাও এবার বেড়েছে।
আয়ের হিসাবে ২৮ শতাংশের কিছু বেশি প্রার্থী বাৎসরিক আয় দেখিয়েছেন সর্বোচ্চ ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। বছরে ১ কোটি টাকা আয় করেন—এমন প্রার্থী রয়েছেন ১২৪ জন।
টিআইবির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, সম্পদের হিসাবে ৫৮.৮৪ শতাংশ প্রার্থীর সম্পদ ১ কোটির নিচে। ২৭ জন শত কোটি টাকার (স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের মূল্য) মালিক। এ ২৭ জনের মধ্যে ১৮ জনই বিএনপির প্রার্থী, আর বাকি ৯ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী।
এছাড়া, ৬৮.০৫ শতাংশ প্রার্থীর ব্যাংক ঋণ রয়েছে। সবচেয়ে বেশি ঋণগ্রস্ত প্রার্থী বিএনপির। দলটির ৫৯.৪১ শতাংশ প্রার্থীর ব্যাংক ঋণ রয়েছে।
বর্তমানে ৫৩০ জন প্রার্থীর বিরুদ্ধে মামলা চলমান রয়েছে। আর অতীতে মামলা ছিল ৭৪০ জন প্রার্থীর।
বিশ্লেষনে উল্লেখ করা হয়, এবারের নির্বাচনে প্রার্থীদের ঘোষিত মোট নির্বাচনী ব্যয় ৪৬৩ কোটি ৭০ লাখ টাকা। গড়ে প্রতি প্রার্থীর ব্যয় ২২ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
এছাড়া ২১ জন প্রার্থীর দ্বৈত নাগরিকত্ব ছিল, যা তারা ত্যাগ করেছেন। ৩১ জন প্রার্থী বৈদেশিক উৎস থেকে আয় করেন এবং ১৭ জন প্রার্থীর বিদেশে সম্পদ রয়েছে।
