এমপি প্রার্থীদের হলফনামার অসঙ্গতি খতিয়ে দেখবে দুদক: চেয়ারম্যান
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থীদের নির্বাচনি হলফনামায় দেওয়া সম্পদের বিবরণী খতিয়ে দেখার পাশাপাশি তাতে কোন অসঙ্গতি বা সন্দেহজনক তথ্য পাওয়া গেলে তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে বলে জানিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এর চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মোমেন।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) দুদকের প্রধান কার্যালয়ে রিপোর্টার্স অ্যাগেইন্টস করাপশন (র্যাক) এর নবনির্বাচিত কমিটির সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
মোমেন বলেন, 'আমি নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ করেছি, আপনারা নিজেরা পরীক্ষা করুন। যদি কোনো সম্পদ বিবরণী সন্দেহজনক মনে হয়, তাহলে আমাদের অবগত করুন।'
সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, 'সাংবাদিক ভাইদের প্রতিও অনুরোধ, যদি কোথাও বড় ধরনের কারচুপি বা অসঙ্গতির প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে তা সামনে আনুন।'
আইনগত সীমাবদ্ধতা থাকলেও সুনির্দিষ্ট তথ্য ও প্রমাণ পেলে দুদক বিষয়গুলো খতিয়ে দেখবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, হলফানামা সংক্রান্ত তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের কাজ চালিয়ে যেতে প্রয়োজনে দুদকের অন্যান্য কার্যক্রম কিছুটা এই সময় কমানো হবে।
দুদক চেয়ারম্যান বলেন, দুদকের অনুসন্ধান ও তদন্তের জন্য আইনে নির্ধারিত সময়সীমা রয়েছে। ফলে এখন কাজ শুরু করলেও নির্বাচনের আগেই সব তদন্ত শেষ করা সম্ভব হবে, এমনটি ভাবার কোনো কারণ নেই। তবে যদি কেউ সুনির্দিষ্ট তথ্য ও প্রাথমিক প্রমাণ নিয়ে আসে, তাহলে যত দ্রুত সম্ভব আইনানুগভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।
নির্বাচনি হলফনামা যাচাইয়ের জন্য আলাদা কমিটি গঠন করা হবে কি না, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, শুধু কমিটি গঠন করলেই সমস্যার সমাধান হয় না।
অতীতে অনেক কমিটি কাজ না করেই সেগুলো শেষ হওয়ার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, 'আমরা সময় নিয়ে দেখছি কীভাবে কার্যকরভাবে কাজ করা যায়। আমাদের পক্ষ থেকে এটুকু আশ্বাস, আমরা কাজ করব।'
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন দুদকের কমিশনার (তদন্ত) মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী, কমিশনার (অনুসন্ধান) অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হাফিজ আহসান ফরিদ এবং সংস্থাটির সচিব মোহাম্মদ খালেদ রহীম। এছাড়া কমিশনের চারজন মহাপরিচালকসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় সংগঠনের সভাপতি শাফি উদ্দিন আহমদ ও সাধারণ সম্পাদক তাবারুল হক শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন।
