৮.১৭ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ: প্রিমিয়ার ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান ইকবালসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা
বিজ্ঞাপন প্রচারের নামে ৮ কোটি ১৭ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দি প্রিমিয়ার ব্যাংক পিএলসি'র সাবেক চেয়ারম্যান হেফজুল বারি মোহাম্মদ ইকবাল ওরফে এইচবিএম ইকবালসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে পাঁচটি মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) দুদকের মহাপরিচালক আকতার হোসেন সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালে পাঁচটি কার্যাদেশের বিপরীতে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করা হয়। মামলার আসামিদের তালিকায় এইচবিএম ইকবালের পরিবারের সদস্য, ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিজ্ঞাপনী সংস্থা মাইন্ডট্রি লিমিটেডের কর্মকর্তারা রয়েছেন।
দুদকের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, ২০২০ সালে প্রিমিয়ার ব্যাংকের বিজ্ঞাপন বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে প্রচারের জন্য 'মাইন্ডট্রি (মাইওট্রি) লিমিটেড' নামক একটি প্রতিষ্ঠানকে ৯ কোটি ২৫ লাখ টাকার পাঁচটি কার্যাদেশ দেওয়া হয়। চুক্তি অনুযায়ী প্রতিটি চ্যানেলে ১০০ মিনিট করে বিজ্ঞাপন প্রচারের কথা থাকলেও সংশ্লিষ্ট টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর ট্রান্সমিশন সার্টিফিকেট অনুযায়ী প্রকৃতপক্ষে মাত্র ৫০ মিনিট করে বিজ্ঞাপন প্রচার করা হয়েছে।
রেকর্ডপত্র বিশ্লেষণে দেখা যায়, ওই বছর বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে মোট ২ হাজার ৪০০ মিনিট বিজ্ঞাপন প্রচারের চুক্তি হলেও বাস্তবে প্রচার করা হয় মাত্র ১ হাজার ২০০ মিনিট। ভেন্ডর প্রতিষ্ঠান মাইন্ডট্রি লিমিটেডকে প্রকৃতপক্ষে ১ কোটি ৮ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয় এবং বাকি ৮ কোটি ১৭ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়।
দুদকের অনুসন্ধানে আরও ভয়াবহ তথ্য বেরিয়ে এসেছে। ২০১১ সালের ৪ আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের ২৫ মার্চ পর্যন্ত সময়ে এইচবিএম ইকবালের নির্দেশে মাইন্ডট্রি লিমিটেডের নামে বিজ্ঞাপন প্রচারের অজুহাতে মোট ৪৩৮ কোটি ৭১ লাখ ২৮ হাজার ৪৪৪ টাকা অগ্রিম জমা দেওয়া হয়। এর মধ্যে ৩৪২ কোটি ২৯ লাখ ৮৭ হাজার ৪৪৪ টাকা পরবর্তীতে কার্যাদেশ দেখিয়ে সমন্বয় করা হলেও এখনো ৯৬ কোটি ৪১ লাখ ৪১ হাজার টাকা অসমন্বিত অবস্থায় রয়েছে।
মামলার প্রধান আসামিদের মধ্যে রয়েছেন প্রিমিয়ার ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান এইচবিএম ইকবাল, তার দুই ছেলে ও ব্যাংকের পরিচালক মোহাম্মদ ইমরান ইকবাল ও মঈন ইকবাল।
অন্যান্য আসামিরা হলেন: ব্যাংকটির পরিচালক ও সাবেক সংসদ সদস্য আবদুস সালাম মুর্শেদী, সাবেক সংসদ সদস্য ও পরিচালক বজলুল হক হারুন, পরিচালক শফিকুর রহমান, জামাল গুপ্ত আহমেদ, শায়লা শেলী খান, চৌধুরী জাফরুল্লাহ শরাফাত, এএইচএম ফেরদৌস, নব গোপাল বণিক।
এছাড়াও ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এম রিয়াজুল করিম, ডিএমডি ও ক্রয় কমিটির প্রধান সৈয়দ নওশের আলী, এসভিপি মোশফেক আলম খান এবং মাইন্ডট্রি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইকবাল আল মাহমুদকে মামলায় আসামি করা হয়েছে।
দুদক জানিয়েছে, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে অপরাধমূলক বিশ্বাস ভঙ্গ, প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ভুয়া রেকর্ড প্রস্তুত ও ব্যবহার করে এই অর্থ আত্মসাৎ করেছেন।
এ ঘটনায় দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ১০৯ ধারাসহ দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় পাঁচটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।
