২০ ছোট দল মিলে ১০২ মনোনয়ন জমা, ১০০-এর ওপরে প্রার্থী রয়েছে মাত্র ৫ দলের
আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে ২০টি ছোট রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা মোট ১০২টি মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এ ছাড়া ২০টি রাজনৈতিক দল ১০টির কম করে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে। এর মধ্যে তিনটি দল মাত্র একটি করে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে। দলগুলো হলো—গণতন্ত্রী পার্টি, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (বাংলাদেশ ন্যাপ) এবং বাংলাদেশ সমঅধিকার পার্টি (বিইপি)।
আসন্ন নির্বাচনে ৫১টি রাজনৈতিক দল থেকে মোট ২,৫৬৮টি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ৩৩১টি মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। এরপর রয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী (২৭৬টি), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (২৬৮টি), জাতীয় পার্টি—জাপা (২২৪টি) এবং গণঅধিকার পার্টি (১০৪টি)।
মাত্র পাঁচটি রাজনৈতিক দলই ১০০টির বেশি মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে।
মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের সময় ইতোমধ্যে কিছু মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। তবে এসব বাতিলের বিরুদ্ধে আগামী ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত আপিল করার সুযোগ রয়েছে।
একক সংখ্যায় মনোনয়ন জমা দেওয়া ২০টি দলকে ঘিরে এখন নানা প্রশ্ন উঠেছে। কয়েকটি দল জানিয়েছে, নতুন নিবন্ধিত হওয়ায় তারা মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত সময় পায়নি। আবার কিছু দল বলেছে, নির্বাচনী ব্যয় বেশি হওয়ায় তারা সব আসনে প্রার্থী দিতে পারেনি।
এই দলগুলোর মধ্যে তিনটি দল একটি করে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে। একটি দল দুইটি, চারটি দল তিনটি করে, দুটি দল পাঁচটি করে, দুটি দল ছয়টি করে, চারটি দল সাতটি করে, একটি দল আটটি এবং তিনটি দল নয়টি করে মনোনয়ন জমা দিয়েছে।
তবে নিবন্ধিত সব ৫১টি রাজনৈতিক দলই মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে। এ ছাড়া ৪৭৮ জন স্বতন্ত্র প্রার্থীও মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। মোট এই সংখ্যা ২০২৪ সালের নির্বাচনে জমা পড়া ২,৭৪১টি মনোনয়নের তুলনায় কিছুটা কম। ওই নির্বাচন বিএনপি ও তাদের জোটসঙ্গীরা বর্জন করেছিল। আর ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট মনোনয়নপত্র জমা পড়েছিল ৩,০৬৫টি।
বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি—বাংলাদেশ ন্যাপ মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে (টিবিএস) বলেন, বর্তমান নির্বাচনী বাস্তবতায় ছোট দলগুলোর পক্ষে অনেক আসনে প্রার্থী দেওয়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।
শুরুতে দলটির ৭০টি আসনে নির্বাচন করার পরিকল্পনা ছিল। তবে আর্থিক সামর্থ্য ও সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় শেষ পর্যন্ত মাত্র একটি আসনে প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, 'শুধু মনোনয়নপত্র জমার ৫০ হাজার টাকার জামানতই নয়, প্রচার–প্রচারণাসহ অন্যান্য অতিরিক্ত খরচও বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ কারণে সবাই মিলে দলের চেয়ারম্যানের নির্বাচনী আসনটিকেই অগ্রাধিকার দিয়ে সেখানে সম্মিলিতভাবে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।'
নীলফামারী–১ আসন থেকে দলের চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গাণি দলটির একমাত্র প্রার্থী।
নির্বাচন সংস্কার কমিশনের সদস্য এবং নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সাবেক অতিরিক্ত সচিব জেসমিন তুলি টিবিএসকে বলেন, বড় দলগুলোর মতো সব ছোট দলের ৩০০টি আসনে বিস্তৃত সাংগঠনিক নেটওয়ার্ক নেই।
তিনি বলেন, 'বড় দলগুলো সাধারণত সারা দেশে নির্বাচন করে, আর ছোট দলগুলো সীমিত পরিসরে অংশ নেয়। এটি তাদের বাস্তব সক্ষমতারই প্রতিফলন।'
বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের শেষ দিকে নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন পায়।
দলের কেন্দ্রীয় সহকারী মহাসচিব এবং সুনামগঞ্জ–১ আসনের প্রার্থী মাওলানা মুজ্জামিল হক তালুকদার বলেন, শেষ মুহূর্তে নিবন্ধন পাওয়ায় খুব অল্প সময়ের মধ্যেই নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে হয়েছে।
তিনি বলেন, 'খুব কষ্ট করে আমরা এটা করেছি। সময়টা একেবারেই কম ছিল।'
দলের প্রস্তুতি সম্পর্কে তিনি বলেন, 'আমরা মোট ছয়টি আসনে প্রার্থী দিতে পেরেছি। এর মধ্যে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারও রয়েছে।'
মুজ্জামিল হক আরও বলেন, পর্যাপ্ত সময় পেলে প্রার্থীর সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারত।
তিনি বলেন, 'আমাদের প্রস্তুত প্রার্থী প্রায় ৫০ জন ছিলেন।' দলটি জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় নির্বাচনী জোটের অংশ।
কমসংখ্যক প্রার্থী দেওয়া দলগুলোর মধ্যে রয়েছে—গণতন্ত্রী পার্টি (১ জন), জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল—জাসদ (৭ জন), জাকের পার্টি (৭ জন), বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (৩ জন), বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন (১১ জন), জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ (৫ জন), গণফ্রন্ট (৬ জন), বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (৫ জন), বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি (৩ জন), ইসলামী ঐক্য জোট (৩ জন), জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি—জাগপা (৩ জন), বাংলাদেশ বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি (৭ জন), বাংলাদেশ মুসলিম লীগ (৭ জন), বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট—বিএনএফ (৯ জন), ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক মুভমেন্ট—এনডিএম (৮ জন) এবং বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল।
