১৪টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার অনুমোদন দিল বিমান বাংলাদেশ
মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের কাছ থেকে ১৪ টি উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স।
মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থাটির পরিচালনা পর্ষদের এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নীতিগত অনুমোদন পেয়েছে বলে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে জানিয়েছেন বিমানের মুখপাত্র বোসরা ইসলাম।
পর্ষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, উড়োজাহাজের মূল্যসহ অন্যান্য শর্ত ও বিষয়ে বোয়িংয়ের সঙ্গে এখন আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হবে।
এর আগে, আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারস্পরিক শুল্ক নিয়ে আলোচনার সময় সরকার বোয়িংয়ের কাছ থেকে ২৫টি উড়োজাহাজ কেনার প্রতিশ্রুতি দেয়।
সম্প্রতি বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, এই প্রতিশ্রুতি ওয়াশিংটনের সঙ্গে একটি বৃহত্তর বাণিজ্য ব্যবস্থার অংশ।
বর্তমানে বিমানের বহরে বোয়িংয়ের উড়োজাহাজই বেশি। মোট ১৯টি উড়োজাহাজের মধ্যে ১৪টিই বোয়িংয়ের।
বিমানের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পরিচালনা পর্ষদ ২০২৫ সালের ২৪ নভেম্বর তারিখের বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ বিক্রয় প্রস্তাব এবং ২০ ডিসেম্বর ২০২৫ জমা দেওয়া সংশোধিত খসড়া চুক্তি পর্যালোচনা করেছে।
প্রস্তাবে বোয়িং জানায় যে তারা ২টি বোয়িং ৭৮৭-৯, ৮টি বোয়িং ৭৮৭-১০ এবং ৪টি বোয়িং ৭৩৭-৮ উড়োজাহাজ সরবরাহে আগ্রহী।
পরিচালনা পর্ষদ প্রস্তাবটিকে নীতিগত অনুমোদন দেয় এবং আলোচনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার অনুমতি দেয়।
সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই অনুমোদন কেবল আনুষ্ঠানিক আলোচনার সূচনা হিসেবে গণ্য হবে, এবং চুক্তি স্বাক্ষর না হওয়া পর্যন্ত বিমানের উপর কোনো আর্থিক বা আইনগত বাধ্যবাধকতা থাকবে না।
এদিকে, বোয়িং ক্রয়ের বিষয়ে বাণিজ্য সচিবের মন্তব্যের পর, ইউরোপীয় কূটনীতিকরা বাংলাদেশে এয়ারবাসের উড়োজাহাজ বিপণনে তাদের প্রচেষ্টা আরও জোরদার করেছেন।
১০টি এয়ারবাস উড়োজাহাজ ক্রয়ের সম্ভাব্য আলোচনা পূর্ববর্তী সরকারের আমল থেকেই শুরু হয়েছিল। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে ঢাকায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকের পর, ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ উড়োজাহাজগুলো কেনার প্রতিশ্রুতির জন্য প্রকাশ্যে বাংলাদেশকে ধন্যবাদ জানিয়েছিলেন।
বর্তমানে এয়ারবাস তাদের কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক তৎপরতা বাড়িয়ে দিয়েছে। অন্যদিকে, দ্রুত বর্ধনশীল এভিয়েশন বাজারে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স তাদের বহর সম্প্রসারণের জন্য ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক ও কার্যক্রমগত চাপের মুখে রয়েছে। উল্লেখ্য যে, এই বাজারে দেশীয় এয়ারলাইন্সগুলোর অংশীদারিত্ব বর্তমানে মাত্র ২৫ শতাংশ।
