নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন 'পলাতক' আ. লীগ নেতা, আবারও ফিরছেন বিএনপিতে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও 'পলাতক' আওয়ামী লীগ নেতা সৈয়দ এ. কে. একরামুজ্জামান নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) রাতে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় তিনি দাবি করেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন। তার অনুসারীরা ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে দেন।
এদিকে, দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর আওয়ামী লীগে যোগ দেওয়া এই ব্যবসায়ী আবারও বিএনপিতে ফিরছেন। আজ শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) দুপুরে মুঠোফোনে তিনি নিজেই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর কারণ জানতে চাইলে একরামুজ্জামান বলেন, গতকাল বিকেলে গুলশানে তারেক রহমানের সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হয়। এ সময় বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের আশ্বাস দিয়ে তাকে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
তিনি বলেন, 'তারেক রহমানের নির্দেশেই আমি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াচ্ছি। ইতোমধ্যে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের জন্য আমার লোকজনকে পাঠানো হয়েছে। আমি আবারও বিএনপিতে ফিরছি।'
এর আগে গত ২ জানুয়ারি দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা শারমিন আক্তার জাহান যাচাই-বাছাই শেষে একরামুজ্জামানের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন। তবে তিনি বর্তমানে 'পলাতক' থাকায় যাচাই-বাছাইয়ের সময় নিজে উপস্থিত ছিলেন না।
২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের সময় ছাত্র-জনতার ওপর হামলা ও হত্যার মামলার আসামি হয়েও তার মনোনয়ন বৈধ হওয়ায় এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। তার বিরুদ্ধে ওই আন্দোলনে ছাত্রদের ওপর হামলা ও হত্যার অভিযোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও ঢাকা মেট্রোপলিটনের বিভিন্ন থানায় অন্তত সাতটি মামলা রয়েছে। পুলিশের খাতায় 'পলাতক' থাকা সত্ত্বেও মনোনয়ন বৈধ ঘোষণার ঘটনায় নাসিরনগর উপজেলা বিএনপি ক্ষোভ প্রকাশ করে।
নির্বাচন কার্যালয় ও স্থানীয় সূত্র জানায়, এক সময় একরামুজ্জামান বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ছিলেন এবং দীর্ঘদিন দলের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। তবে দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় বিএনপি তাকে প্রাথমিক সদস্যসহ সব পদ থেকে বহিষ্কার করে।
পরে নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর ২০২৪ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকার বোটক্লাবে সাবেক গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি র. আ. ম. উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরীর সঙ্গে নাসিরনগর উপজেলার জনপ্রতিনিধিদের এক মতবিনিময় সভায় আনুষ্ঠানিকভাবে আওয়ামী লীগে যোগ দেন একরামুজ্জামান।
