মগবাজার সড়ক: বিশৃঙ্খল, ধীরগতির নির্মাণকাজে ভোগান্তি পোহাচ্ছেন যাতায়াতকারীরা

দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে ঢাকার অন্যতম ব্যস্ত এলাকা মালিবাগ থেকে মগবাজার পর্যন্ত আউটার সার্কুলার রোডে খোঁড়াখুঁড়ির কাজ চলছে ধীরগতিতে। এতে চলাচল করতে গিয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এখনও সংস্কারকাজ শেষ করতে পারেনি, ফলে সড়কে চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে।
বর্তমানে চলমান খননকাজের কারণে গাড়িচালক ও যাত্রীদের এক লেন দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। রাস্তার বিভিন্ন স্থানে তৈরি হয়েছে খানাখন্দ, যা বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।
বুধবার সরেজমিনে দেখা যায়, রাস্তায় ইটের খোয়া বিছানোর কাজ করছে ১০-১৫ জন শ্রমিক। কিন্তু কাটা রাস্তার পাশে কোনো নিরাপত্তা বেষ্টনী নেই।
মাটি ও বালু ছড়ানো-ছিটানো থাকার কারণে যানবাহনের চাকার সাথে মিশে আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে ধূলা। রাস্তা অসমতল হওয়ায় যানবাহন চলাচলে সমস্যা হচ্ছে। একইসঙ্গে রাস্তা সংকীর্ণ হয়ে যাওয়ায় দীর্ঘ যানজট লেগে থাকতে দেখা যায়।
জনদুর্ভোগ
স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা নির্মাণকাজের বিশৃঙ্খল অবস্থা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন। তারা সমালোচনা করে বলেন, পরিকল্পনা ও সমন্বয়ের অভাবে কাজ চলছে এলোমেলোভাবে।
কাজ যেন চলছে এলোমেলোভাবে। নির্মাণকাজ সম্পন্ন করারও কোনো স্পষ্ট সময়সীমা নেই। এছাড়া যথাযথ সাইনবোর্ড বা বিকল্প সড়কের ব্যবস্থা না থাকায় যানবাহন চলাচলে দেখা দিয়েছে চরম বিশৃঙ্খলা।
অনেকেই দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়ে বলেন, যানজট কমানোর জন্য কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও সংস্কারকাজ দ্রুত শেষ করা প্রয়োজন।
তবে ক্রমবর্ধমান অভিযোগের মুখে দক্ষিণ সিটির কর্মকর্তারা বলছেন, আগামী সপ্তাহের মধ্যেই রাস্তা যানবাহন চলাচলের উপযোগী করা হবে এবং আগামী মাসে পুরো প্রকল্প শেষ হতে।
সিদ্ধেশ্বরী এলাকার কাজ এবং মৌচাক মার্কেট থেকে বড় মগবাজার পর্যন্ত পাইপলাইন স্থাপনের জন্য খোঁড়ার শুরু হয় জানুয়ারিতে। সেই কাজও বিলম্বের মুখে পড়েছে।
প্রথমদিকে খনকাজের জন্য রাস্তা কয়েক দিন বন্ধ রাখা হয়েছিল। কিন্তু পাইপলাইন বসানোর পরও কাজ চলছে শ্লথ গতিতে।

এই সড়ক দিয়ে নিয়মিত চলাচলকারী আদিলুর রহমান দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, 'এমন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার কাজ শেষ করতে যদি মাসের পর মাসই লাগে, তাহলে এই এলাকার জনগণের জন্য ভিন্ন রাস্তা ব্যবহারের সুযোগ দিত। এক মাসের মতো পুরো রাস্তা খুঁড়ে রেখেছিল, যেকোনো সময় ঘটতে পারত দুর্ঘটনা।
'এখনও বেশ কয়েকটি স্থানে গর্ত রয়েছে। এই এলাকা দিয়ে হেঁটে গেলে ধূলায় ঢেকে যেতে হয়। সিটি করপোরেশন পানিও ছিটায় না।'
গাড়িচালক শাহজাহানও একই অভিযোগ করে বলেন, 'রাস্তা খুঁড়ে রাখার কারণে গত এক মাস পার্কিংয়ে গাড়ি রাখতে পারিনি। অন্য এক স্থানে পার্কিং ভাড়া করে রাখতে হয়েছিল। কিছুদিন ধরে বাসার গলিতে গাড়ি নিয়ে যেতে পারছি, কিন্তু ভাঙাচোরার কারণে গাড়ির বিভিন্ন ক্ষতি হচ্ছে।'
সংশ্লিষ্ট এলাকায় একটি ভবনের নিরাপত্তারক্ষী আবদুল মান্নান বলেন, 'ধূলায় অতিষ্ঠ হতে হয়। কাজ কিছুদিন করে, আবার বন্ধ রাখে। মাঝে মাঝে দেখি রিকশা, সিএনজি উল্টে যায়, কারণ কাটা অংশে কোনো নিরাপত্তা বেষ্টনী নেই।'
আরও বিলম্বিত হতে পারে
এই প্রকল্পে কাজ করা নির্মাণকর্মী রাবি হোসেন জানান, ঢালাই দিতে আরও দেরি হবে। কিছুদিন কাজ বন্ধ রাখার পর গত তিনদিন ধরে আবার কাজ চলছে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের জোন-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম জয় টিবিএসকে বলেন, 'রাস্তার ওই অংশে বর্ষাকালে জলাবদ্ধতার ভোগান্তি ছিল এবং বৃষ্টির পানি অপসারণের পাইপলাইন অনেকটাই বন্ধ হয়েছিল। তাই এই অংশের পাইপলাইনের কাজ হচ্ছে। এ পর্যন্ত আমরা এখানে ৮৬টি পাইপ পরিবর্তন করেছি।'
তিনি আরও বলেন, 'নিচের কাজ শেষ করে মাটি ভরাট করে ইটের খোয়া বিছানোর কাজ চলমান আছে। আগামী সপ্তাহে রাস্তা মোটামুটি সমান হয়ে গেলে গাড়ি চলাচল করতে পারবে।
'মাটির নিচে ড্রেনেজ পাইপ স্থাপন করতে গিয়ে কিছুটা সময় বেশি লেগেছ। আমরা চেষ্টা করেছি নিরাপত্তা নিশ্চিত করে কাজ করার। এখন নিরাপত্তা বেষ্টনী দেওয়া হলেও সেগুলো অপ্রতুল, আমরা নিরাপত্তা আরও বাড়ানোর চেষ্টা করব।'
ধূলা নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে দক্ষিণ সিটির এই প্রকৌশলী বলেন, 'ধূলা নিবারণের জন্য যে পরিমাণ পানি ছিটানো প্রয়োজন, সেটা আমাদের পক্ষে সম্ভব হয় না। পুরো দক্ষিণ সিটিতে পানি ছিটানোর জন্য ১০টি গাড়ি আছে। তাই একবারের বেশি পানি ছিটানো যায় না। এই এলাকায় আরও বেশি পানি ছিটানোর চেষ্টা করবো।'