ঘরের মাঠে জিতে সবার আগে প্লে-অফে মাশরাফির সিলেট
এর চেয়ে আর কতোটাই ভালো হতে পারতো! দুর্বার শুরুর পর জয়ের মালা গেঁথে ঘরের মাঠ সিলেটে খেলতে আসে মাশরাফি বিন মুর্তজার দল সিলেট স্ট্রাইকার্স। এই পর্বের শুরুটা ভালো না হলেও পরের দুই ম্যাচে ঠিকই জয়ের হাসি হাসলো তারা। ঘরের মাঠে দর্শক ঠাসা গ্যালারির সামনে জয় উদযাপন করার তৃপ্তির সাথে মিলে গেল প্লে-অফেরও টিকেট।
সোমবার সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে খুলনাকে ৩১ রানে হারিয়েছে সিলেট স্ট্রাইকার্স। দুর্বার গতিতে ছুটতে থাকা সিলেটের এটা অষ্টম জয়। ১০ ম্যাচে ৮ জয়ে ১৬ পয়েন্ট নিয়ে সবার আগে প্লে-অফ খেলা নিশ্চিত করলো তালিকার শীর্ষে থাকা সিলেট। হার মানা খুলনার প্লে-অফে ওঠার পথ আরও কঠিন হয়ে উঠলো। ৮ ম্যাচে ২ জয়ে ৪ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার ৫ নম্বরে আছে তারা।
টস হেরে আগে ব্যাটিং করতে নামে সিলেট স্ট্রাইকার্স। চোট কাটিয়ে মাঠে ফেরার পর প্রথমবারের মতো ব্যাটকে নিজের মতো করে কথা বলানো তৌহিদ হৃদয় অসাধারণ এক ইনিংস খেলেন। এরপর জাকির হাসানের ঝড়ো হাফ সেঞ্চুরির সুবাদে ৪ উইকেটে ১৯৪ রানের বড় সংগ্রহ গড়ে সিলেট। জবাবে সিলেটের তিন পেসার রুবেল হোসেন, মোহাম্মদ আমির ও রেজাউর রহমান রাজার বোলিং তোপের সামনে ৯ উইকেটে ১৬১ রানে থামে খুলনার ইনিংস।
বিশাল লক্ষ্যে ব্যাটিং করতে নামা খুলনার হয়ে কেউ-ই বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। শেই হোপ ও আজমন খান ঝড় তুললেও তা দীর্ঘ হয়নি। হোপ ২২ বলে ২টি করে চার ও ছক্কায় ৩৩ রান করেন। আজমও থামেন ৩৩ রান করে। তবে তিনি ছিলেন আরও দাপুটে। পাকিস্তানি এই ব্যাটসম্যান তার ১৭ বলের ইনিংসে ৪টি চার ও ২টি ছক্কা মারেন।
এ ছাড়া তামিম ইকবাল ১২, মাহমুদুল হাসান জয় ২০, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ১৩ ও নাসুম আহমেদ ১৩ রান করেন। সিলেটের ডানহাতি পেসার রুবেল হোসেন ৪ ওভারে ৩৭ রান খরচায় ৪টি উইকেট নেন। আমির ও রাজা ২টি করে উইকেট পান। একটি উইকেট নেন ইমাদ ওয়াসিম। চোট পেয়ে মাঠ ছাড়া মাশরাফি ২.১ ওভার বোলিং করেন।
এর আগে ব্যাটিং করা সিলেটের ইনিংসে সবচেয়ে বড় নাম তৌহিদ হৃদয়। শুরুর কয়েক ম্যাচের মতো এদিন তিনি ব্যাট হাতে দুর্বার ছিলেন। ডানহাতি এই ওপেনার ৪৯ বলে ৯টি চারে ৭৪ রানের অসাধারণ এক ইনিংস খেলেন। এর মাঝে জাকির হাসানের সঙ্গে ৬৮ বলে ১১৪ রানের জুটি গড়েন হৃদয়।
ম্যাচসেরা হৃদয়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ব্যাট চালানো জাকির পরে আরও বিধ্বংসী ব্যাটিং করেন। বাঁহাতি তরুণ এই ব্যাটসম্যান ৩৮ বলে ২টি চার ও ৪টি ছক্কায় ৫৩ রানের দারুণ ইনিংস খেলেন। এ ছাড়া রায়ান বার্ল ১১ বলে একটি চার ও দুটি ছক্কায় ২২ ও থিসারা পেরেরা ৭ বলে ২টি চার ও একটি ছক্কায় ১৭ রানে অপরাজিত থাকেন। খুলনার মার্ক দেয়াল ২টি এবং নাহিদুল ইসলাম ও নাহিদ রানা একটি করে উইকেট পান।
