Skip to main content
  • অর্থনীতি
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • খেলা
  • বিনোদন
  • ফিচার
  • ইজেল
  • মতামত
  • অফবিট
  • সারাদেশ
  • কর্পোরেট
  • চাকরি
  • প্রবাস
  • English
The Business Standard বাংলা

Tuesday
April 21, 2026

Sign In
Subscribe
  • অর্থনীতি
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • খেলা
  • বিনোদন
  • ফিচার
  • ইজেল
  • মতামত
  • অফবিট
  • সারাদেশ
  • কর্পোরেট
  • চাকরি
  • প্রবাস
  • English
TUESDAY, APRIL 21, 2026
যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াতে ‘নীতিগতভাবে সম্মত’ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান: এপি

আন্তর্জাতিক

টিবিএস ডেস্ক
15 April, 2026, 06:20 pm
Last modified: 15 April, 2026, 11:43 pm

Related News

  • ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ‘বেপরোয়া’ খরচ, এ অর্থ বাঁচাতে পারত ৮ কোটি ৭০ লাখ প্রাণ: জাতিসংঘ
  • চুক্তি না হলে ইরানের বন্দর থেকে অবরোধ উঠবে না: ট্রাম্প
  • যুদ্ধের পর চীনের সঙ্গে আরও নৈকট্য বাড়াতে প্রস্তুত উপসাগরীয় দেশগুলো
  • আজই পাকিস্তানে স্বাক্ষরিত হতে পারে ঐতিহাসিক ইরান চুক্তি: ডোনাল্ড ট্রাম্প
  • মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাজার বহুমুখীকরণসহ বিশেষ পদক্ষেপ ঘোষণা সরকারের

যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াতে ‘নীতিগতভাবে সম্মত’ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান: এপি

টিবিএস ডেস্ক
15 April, 2026, 06:20 pm
Last modified: 15 April, 2026, 11:43 pm
ছবি: রয়টার্স

পারস্য উপসাগরে মার্কিন অবরোধ: গতিপথ বদলে ফিরছে একের পর এক জাহাজ

পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরে মার্কিন নৌবাহিনীর কঠোর অবরোধের মুখে পড়ে অন্তত ছয়টি পণ্যবাহী বাণিজ্যিক জাহাজ তাদের নির্ধারিত গতিপথ পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছে। তথ্য ও ডেটা ইন্টেলিজেন্স প্ল্যাটফর্ম 'কেপলার' এবং জাহাজ চলাচলের ট্র্যাকিং তথ্য বিশ্লেষণে এমন চিত্র উঠে এসেছে।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, তাদের নৌ-অবরোধের মুখে ছয়টি বাণিজ্যিক জাহাজ ওমান উপসাগর থেকে পুনরায় ইরানি বন্দরে ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছে।

কেপলার-এর তথ্য অনুযায়ী, গত ১৪ এপ্রিল 'রিচ স্টারি' নামের একটি চীনা মালিকানাধীন জাহাজ—যার ওপর ইরানের সঙ্গে সম্পর্কের কারণে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা রয়েছে—ইরানের সমুদ্রসীমা দিয়ে ওমান উপসাগরে প্রবেশ করে। এরপরই জাহাজটি হঠাৎ গতিপথ পরিবর্তন করে পুনরায় পারস্য উপসাগরের দিকে ফিরে যায়। একইভাবে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা 'এলপিস' নামের আরেকটি জাহাজকেও ওমান উপসাগরের ঠিক একই বিন্দুতে থেমে যেতে দেখা গেছে। এরপরই জাহাজটি তার অবস্থান শনাক্তকারী যন্ত্র বা 'ট্রান্সপন্ডার' বন্ধ করে দেয়।

কেপলার আরও জানিয়েছে, অবরোধ শুরু হওয়ার প্রথম ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পাঁচটি পণ্যবাহী ট্যাঙ্কার সফলভাবে ইরানের টোল করিডোর দিয়ে বেরিয়ে এলেও সেগুলো বর্তমানে ওমান উপসাগরে স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

অবরোধের কার্যকারিতা সম্পর্কে কেপলার জানায়, 'অস্ট্রিয়া' (Ostria) নামের একটি জাহাজ হরমজ প্রণালি দিয়ে পণ্য লোড করার আগেই ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির মতে, সেন্টকম যেভাবে বর্ণনা করেছিল, অবরোধটি সেভাবেই কাজ করছে।

তবে যুক্তরাষ্ট্র অবরোধের মাধ্যমে জাহাজ চলাচলে বাধা দেওয়ার দাবি করলেও ইরান বলছে ভিন্ন কথা। তেহরান দাবি করেছে যে, মার্কিন অবরোধ সত্ত্বেও জাহাজগুলো নিয়মিতভাবে হরমজ প্রণালি পার হয়ে তাদের বন্দরে পৌঁছাচ্ছে।

তথ্যসূত্র: সিএনএন


যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াতে 'নীতিগতভাবে সম্মত' যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান: এপি

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াতে এবং পুনরায় আলোচনা শুরু করতে সফলতার দ্বারপ্রান্তে রয়েছেন মধ্যস্থতাকারীরা। আগামী সপ্তাহে বর্তমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই এটি রক্ষার জন্য জোর কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে। 

আজ বুধবার (১৫ এপ্রিল) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা 'অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস' (এপি) জানিয়েছে, ওয়াশিংটন ও তেহরান যুদ্ধবিরতি দীর্ঘায়িত করতে একটি 'নীতিগত সম্মতিতে' পৌঁছেছে।

ইরানি বন্দরগুলোতে মার্কিন অবরোধ এবং তেহরানের পাল্টা হুমকির মুখে সপ্তাহব্যাপী চলমান এই চুক্তিটি ঝুঁকির মুখে পড়েছিল। তবে আঞ্চলিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কূটনৈতিক আলোচনার পথ প্রশস্ত করতে উভয় পক্ষই আপাতত যুদ্ধবিরতি বজায় রাখতে একমত হয়েছে।

আগামী ২২ এপ্রিল বর্তমান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হবে। তার আগেই গত সপ্তাহের শেষদিকে ভেস্তে যাওয়া সরাসরি আলোচনাকে পুনরায় কার্যকর করতে তিনটি প্রধান অমীমাংসিত বিষয়ে সমঝোতার চেষ্টা করছেন মধ্যস্থতাকারীরা। বিষয়গুলো হলো— ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ এবং যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি বাবদ ক্ষতিপূরণ প্রদান। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এসব তথ্য জানিয়েছেন।


ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি বাড়াতে আনুষ্ঠানিক সম্মতি দেয়নি যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের সাথে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সম্মতি জানায়নি যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) একজন ঊর্ধ্বতন মার্কিন কর্মকর্তা সিএনএন-কে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। 

এর আগে সংবাদ মাধ্যমে খবর ছড়িয়ে পড়েছিল যে, আলোচনার সুবিধার্থে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াতে ওয়াশিংটন ও তেহরান নীতিগতভাবে একমত হয়েছে।

তবে সেই দাবি নাকচ করে দিয়ে ওই মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, 'যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধির বিষয়ে কোনো সম্মতি দেয়নি। তবে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যোগাযোগ ও আলাপ-আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।'

আলোচনার বিষয়ে অবগত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধির বিষয়টি এখনো আলোচনার টেবিলে রয়েছে এবং এটি বাতিল হয়ে যায়নি। তবে ট্রাম্প প্রশাসন বিষয়টিকে দীর্ঘায়িত না করে যত দ্রুত সম্ভব একটি সম্ভাব্য চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছাতে আগ্রহী।

মূলত আলোচনার জন্য সময় নিতে তেহরানের পক্ষ থেকে মেয়াদের দাবি থাকলেও, ওয়াশিংটন চাইছে একটি দ্রুত ও কার্যকর সমাধান। উভয় পক্ষের এই রশি টানাটানির মধ্যেই মধ্যস্থতা ও আলোচনার প্রক্রিয়াটি চলমান রয়েছে।

তথ্যসূত্র: সিএনএন


ওয়াশিংটনের সঙ্গে 'যোগাযোগ' অব্যাহত রেখেছে তেহরান: ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

গত রোববার (১২ এপ্রিল) উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পরও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটনের সঙ্গে 'বার্তা বিনিময়' অব্যাহত রেখেছে তেহরান। 

সোমবার (১৩ এপ্রিল) ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাগাই এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে বাগাই জানান, ইরানের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে এবং পরবর্তী যোগাযোগগুলোতেও এর পুনরাবৃত্তি করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ইসলামাবাদে ইতিঃপূর্বে অনুষ্ঠিত আলোচনার ধারাবাহিকতায় আজই একটি পাকিস্তানি প্রতিনিধি দলকে তেহরানে স্বাগত জানানোর সম্ভাবনা রয়েছে। এই সফরে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের নিজ নিজ অবস্থান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

এ সময় পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির বিষয়ে মার্কিন অভিযোগগুলো সরাসরি নাকচ করে দেন বাগাই। তিনি বলেন, 'ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ।'

আলোচনার সুযোগের বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে বাগাই বলেন, 'ইরানকে অবশ্যই তার প্রয়োজন অনুযায়ী ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ অব্যাহত রাখতে পারতে হবে, তবে সমৃদ্ধকরণের ধরন এবং মাত্রা নিয়ে আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে।'

উল্লেখ্য, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘ আলোচিত পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে তৃতীয় দফার আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এর ঠিক দুই দিন পরই যুদ্ধ শুরু হয়। মূলত এরপর থেকেই দুই দেশের মধ্যে এক ধরনের অচলাবস্থা বিরাজ করলেও পরোক্ষ যোগাযোগ এখনো অব্যাহত আছে।

তথ্যসূত্র: বিবিসি


মধ্যপ্রাচ্যে আরও কয়েক হাজার অতিরিক্ত সেনা পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

মধ্যপ্রাচ্যে উদ্ভূত পরিস্থিতির মধ্যে ওই অঞ্চলে আরও কয়েক হাজার অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই এসব সেনাকে সেখানে পাঠানো হবে বলে জানা গেছে। 

মার্কিন সংবাদমাধ্যম 'দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট'-এর এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনটিতে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটন এই অতিরিক্ত সামরিক শক্তি বৃদ্ধির প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। তবে ঠিক কী কারণে বা কোন সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে এই মুহূর্তে বড় আকারের সেনা মোতায়েন করা হচ্ছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা


ইরানকে অস্ত্র না দিতে শি জিনপিংকে ট্রাম্পের চিঠি

ইরানকে কোনো ধরনের অস্ত্র সরবরাহ না করার অনুরোধ জানিয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে চিঠি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই চিঠির জবাবে শি জিনপিং জানিয়েছেন, বেইজিং তেহরানকে কোনো অস্ত্র দিচ্ছে না। 

আজ বুধবার (১৫ এপ্রিল) ফক্স বিজনেস নেটওয়ার্কের এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প নিজেই এই তথ্য প্রকাশ করেছেন।
মঙ্গলবার রেকর্ড করা এই সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প অবশ্য বিস্তারিত জানাননি যে ঠিক কবে এই চিঠিগুলো বিনিময় করা হয়েছে। 

উল্লেখ্য, গত সপ্তাহেই ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, কোনো দেশ ইরানকে অস্ত্র সরবরাহ করলে তাদের ওপর তাৎক্ষণিকভাবে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে।

ফক্স বিজনেসকে ট্রাম্প বলেন, 'আমি তাকে (শি জিনপিং) একটি চিঠি লিখে অনুরোধ করেছি যেন তিনি তা (অস্ত্র সরবরাহ) না করেন। এর জবাবে তিনি আমাকে একটি চিঠি লিখে জানিয়েছেন যে, মূলত তিনি তেমনটি করছেন না।'

এছাড়া ইরানের যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং ভেনিজুয়েলার পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে বিশ্ব তেলের বাজারে যে অস্থিরতা চলছে, তা আগামী মাসে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তার নির্ধারিত বৈঠকের ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে না বলেও জানান ট্রাম্প। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'তিনি এমন একজন মানুষ যার তেলের প্রয়োজন রয়েছে। আমাদের নেই।'

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা


মার্কিন অবরোধ উপেক্ষা করে হরমুজ প্রণালি পার হলো ইরানি সুপারট্যাঙ্কার

যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও একটি ইরানি সুপারট্যাঙ্কার হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করে ইরানের ইমাম খোমেনি বন্দরের দিকে এগিয়েছে বলে জানিয়েছে ফার্স নিউজ এজেন্সি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা এই ভেরি লার্জ ক্রুড ক্যারিয়ারটি দুই মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বহনে সক্ষম। তবে ট্যাঙ্কারটি পণ্যসহ ফিরছিল কি না, নাকি খালি অবস্থায় ছিল—এ বিষয়ে স্পষ্ট কিছু জানা যায়নি।


ইরান যুদ্ধ নয়, আলোচনা চায়: প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, তার দেশ যুদ্ধ নয়, বরং আলোচনার মাধ্যমে সমাধান চায়।

তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ইরানের ওপর নিজের ইচ্ছা চাপিয়ে দেওয়ার বা দেশটিকে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য করার যে কোনো মার্কিন চেষ্টা ব্যর্থ হবে। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা তার এই বক্তব্য প্রকাশ করেছে।

মাসুদ পেজেশকিয়ান। ফাইল ছবি/রয়টার্স

পেজেশকিয়ান আরও প্রশ্ন তোলেন, 'আন্তর্জাতিক আইন ও মানবিক নীতির কাঠামোর মধ্যে থেকে বেসামরিক নাগরিক, বিশিষ্ট ব্যক্তি ও শিশুদের লক্ষ্যবস্তু করা এবং স্কুল-হাসপাতালসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো ধ্বংস করার পেছনে কী যুক্তি থাকতে পারে?'

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা


চীনের জ্বালানি সম্পদের অভাব পূরণ করতে সক্ষম মস্কো: রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী

বেইজিং সফরকালে চীনা নেতা শি জিনপিংয়ের সঙ্গে এক বৈঠকে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ জানিয়েছেন, চীন বা অন্য যেকোনো দেশ যারা রাশিয়ার সঙ্গে 'সমান এবং পারস্পরিক লাভজনক ভিত্তিতে' কাজ করতে আগ্রহী, তাদের জ্বালানি ঘাটতি মেটাতে রাশিয়া সহায়তা করতে পারে। 

ল্যাভরভ বলেন, মস্কো 'চীনের সম্পদের অভাব পূরণ করতে সক্ষম।'

তবে ওয়ালস্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র এই পরিস্থিতির ভিন্ন ফলাফল চাইছে। তারা চেষ্টা করছে যাতে চীন রাশিয়ার তেল কেনা কমিয়ে তার বদলে আমেরিকান পণ্য ক্রয় করে।

শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বেইজিংয়ে বৈঠক করেন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ। ছবি: রয়টার্স

রুশ রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাস -এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ল্যাভরভ তার দীর্ঘদিনের একটি প্রস্তাবের পুনরাবৃত্তি করে বলেছেন, ইরানের উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুতকে জ্বালানি গ্রেডে রূপান্তর করে অথবা সেগুলো নিজেদের কাছে মজুত রেখে রাশিয়া এ সংক্রান্ত যেকোনো উদ্বেগের সমাধান করতে পারে।

ল্যাভরভের সঙ্গে বৈঠকের পর শি জিনপিং বলেন, 'পরিবর্তনশীল এবং উত্তাল আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে' চীন ও রাশিয়ার সম্পর্কের 'স্থিতিশীলতা এবং নিশ্চয়তা' বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

তথ্যসূত্র: দ্য ওয়ালস্ট্রিট জার্নাল


'ইরান ৪২ হাজার আন্দোলনকারীকে হত্যা করেছে, কেউ কি তাকে বলবেন?': আবারও পোপের সমালোচনা ট্রাম্পের 

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পোপের বিরুদ্ধে তার সমালোচনার সুর আবারও তীব্র করেছেন। গত রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লিখেছেন, 'দয়া করে কেউ কি পোপ লিওকে বলবেন যে ইরান গত দুই মাসে অন্তত ৪২ হাজার নিরপরাধ ও সম্পূর্ণ নিরস্ত্র আন্দোলনকারীকে হত্যা করেছে? এবং ইরানের হাতে পারমাণবিক বোমা থাকা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য।'

বার্তার শেষে তিনি যোগ করেন, 'এই বিষয়ে মনোযোগ দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ। আমেরিকা ফিরে এসেছে!!!'

ছবি: রয়টার্স

চলতি মাসের শুরুর দিকে ইরান যুদ্ধ নিয়ে পোপের মন্তব্যের পর ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেছিলেন, তিনি আমেরিকান পোপের 'খুব একটা ভক্ত নন'। সে সময় তিনি পোপকে 'অপরাধ দমনে দুর্বল এবং পররাষ্ট্রনীতির জন্য ভয়াবহ' বলে অভিযুক্ত করেছিলেন।

এর জবাবে পোপ লিও জানিয়েছিলেন, ট্রাম্প প্রশাসনকে তিনি 'ভয় পান না' এবং তিনি তাঁর বক্তব্য চালিয়ে যাবেন।

পোপের পাশাপাশি ন্যাটোর সমালোচনা করেও পোস্ট দিয়েছেন ট্রাম্প। প্রায় তিন ঘণ্টা আগে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, 'ন্যাটো আমাদের পাশে ছিল না এবং ভবিষ্যতেও তারা আমাদের পাশে থাকবে না!'

তথ্যসূত্র: বিবিসি


যুদ্ধের ক্ষক্ষতি বাবদ ২৭০ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি ইরানের

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় যে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছে, তার বিপরীতে ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে ইরান। দেশটি এখনো নিজের অবস্থানে অনড় রয়েছে এবং আঞ্চলিক শক্তিগুলো এই সংঘাত বন্ধে মধ্যস্থতা চালিয়ে যাচ্ছে।

জাতিসংঘে নিযুক্ত তেহরানের দূত মঙ্গলবার বলেছেন, অঞ্চলের পাঁচটি দেশকে অবশ্যই ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। তিনি অভিযোগ করেন, ওই দেশগুলোর ভূখণ্ড ব্যবহার করেই ইরানের ওপর হামলা চালানো হয়েছে।

ইরান আরও প্রস্তাব করেছে, যুদ্ধের ক্ষতির অর্থ আদায়ে 'হরমুজ প্রণালি প্রটোকল' চালু করা হতে পারে। এর আওতায় এই জলপথ দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজের ওপর বিশেষ কর আরোপ করা হবে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরানের প্রায় ২৭০ বিলিয়ন ডলারের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ক্ষতি হয়েছে। মঙ্গলবার রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা রিয়া নভোস্তি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের সরকারি মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানি এই তথ্য জানান।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা


আগামী দুই দিনের মধ্যে ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনার সম্ভাবনা কম 

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনার জন্য পাকিস্তান আবারও ইসলামাবাদকে ভেন্যু হিসেবে প্রস্তাব করেছে। ইরান এই স্থানে আলোচনায় বসতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও জানিয়েছেন, তার প্রতিনিধিদল ইসলামাবাদেই ইরানিদের সাথে বৈঠক করুক।

তবে আলোচনার সময়সূচি নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী আজ থেকে দেশের বাইরে থাকছেন এবং আগামী ১৮ এপ্রিল তার ফেরার কথা রয়েছে।

যদিও ট্রাম্প দাবি করেছেন, আগামী দুই দিনের মধ্যেই এই আলোচনা শুরু হবে, তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে এটি আরও কয়েক দিন পিছিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অর্থাৎ ঠিক আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই এই বৈঠক হবে—এমনটি নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি একটি চলমান কূটনৈতিক প্রক্রিয়া এবং কূটনীতিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে সাধারণত কিছুটা সময় লাগে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা


ইরানের সাথে আর কোনো যুদ্ধবিরতি নয়, আগামী দুই দিন হবে 'অসাধারণ': ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন যে তিনি ইরানের সাথে চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর কথা ভাবছেন না। তবে এই সংঘাতের সমাধান খুব নিকটবর্তী বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। এবিসি নিউজের প্রতিনিধি জোনাথন কার্লের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানা গেছে।

জোনাথন কার্লের ভাষ্যে, একটি সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন যে বর্তমান সংকটের সমাধান আসন্ন। ট্রাম্প বলেছেন, 'আমি মনে করি আপনারা সামনে দুটি অসাধারণ দিন দেখতে যাচ্ছেন।'

ট্রাম্প উল্লেখ করেন যে, এই যুদ্ধ 'যে কোনো উপায়েই শেষ হতে পারে।' তবে তিনি একটি কূটনৈতিক সমঝোতা বা চুক্তির দিকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। তিনি বলেন, 'আমি মনে করি একটি চুক্তি হওয়াই বেশি ভালো, কারণ তাহলে তারা (দেশটি) পুনর্গঠন করতে পারবে।'

ইরানের বর্তমান পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে দাবি করে ট্রাম্প বলেন, 'তাদের এখন সত্যিই একটি ভিন্ন ধাঁচের সরকার রয়েছে। যাই হোক না কেন, আমরা উগ্রপন্থীদের সরিয়ে দিয়েছি। তারা এখন আর নেই, আমাদের সাথে তারা নেই।'

তথ্যসূত্র: এবিসি


ইরান যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দা ও তীব্র মূল্যস্ফীতির শঙ্কা: আইএমএফ

ওয়াশিংটনে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বসন্তকালীন সভা শুরু হয়েছে। এই সম্মেলনে বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতির আলোকে একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ব অর্থনীতি কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে তার একটি সুনির্দিষ্ট পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

ছবি: সংগৃহীত

আইএমএফের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে যে, যুদ্ধের ফলে বিশ্ব অর্থনীতির যে ক্ষতি হওয়ার তা ইতিমধ্যেই হয়ে গেছে। সংস্থাটি মনে করে, যুদ্ধ যদি আজই থেমে যায়, তবুও বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং তা পূর্বের তুলনায় কিছুটা হলেও হ্রাস পাবে।

তবে যুদ্ধ যদি আরও দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং এর ফলে অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটে, তবে পরিস্থিতি হবে ভয়াবহ। আইএমএফ সতর্ক করে বলেছে, দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের ফলে চলতি বছর বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমে মাত্র ২ শতাংশে নেমে আসতে পারে। এর পাশাপাশি আগামী বছর বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি ৬ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এই অর্থনৈতিক মন্দার আঘাত সব দেশে সমান হবে না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর ওপর এর চরম নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রের মতো উন্নত দেশগুলোর তুলনায় উন্নয়নশীল দেশগুলো এই সংকটে অনেক বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আইএমএফের ধারণা অনুযায়ী, উন্নয়নশীল দেশগুলোতে এই যুদ্ধের প্রভাব হবে যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা


মার্কিন নৌ-অবরোধের প্রথম দিন: হরমুজ দিয়ে পার হলো অন্তত ৮ জাহাজ

ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধের প্রথম দিনেও সচল ছিল হরমুজ প্রণালি। তবে গত মঙ্গলবার এই জলপথ দিয়ে ইরান-সংশ্লিষ্ট তিনটিসহ মাত্র আটটি জাহাজ পার হয়েছে, যা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য।

গত সপ্তাহে পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত রবিবার এই নৌ-অবরোধের ঘোষণা দেন।

ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এক বার্তায় জানিয়েছে, 'অবরোধের প্রথম ২৪ ঘণ্টায় কোনো জাহাজই এটি অতিক্রম করতে পারেনি।' সেন্টকম আরও জানায়, ৬টি জাহাজকে ইরানের বন্দরে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দিলে তারা তা মেনে নিয়ে গতিপথ পরিবর্তন করে।

তবে শিপিং তথ্য পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ইরান-সংশ্লিষ্ট তিনটি জাহাজ এই প্রণালি পার হতে পেরেছে। এর কারণ ছিল তাদের গন্তব্য ইরানের কোনো বন্দর ছিল না, ফলে তারা এই অবরোধের আওতায় পড়েনি।

হরমুজ প্রণালি। ছবি: সংগৃহীত

এলএসইজি এবং কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, 'পিস গালফ' নামক পানামার পতাকাবাহী একটি মাঝারি পাল্লার ট্যাঙ্কার সংযুক্ত আরব আমিরাতের হামরিয়াহ বন্দরের দিকে যাচ্ছিল। এই জাহাজটি সাধারণত এশিয়ার দেশগুলোতে রপ্তানির জন্য ইরানি নাফথা (পেট্রোলিয়ামের একটি উপজাত) বহন করে থাকে।

এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত 'মুরলী কিষাণ' নামক একটি ট্যাঙ্কার জ্বালানি তেল নিতে ইরাকের দিকে যাচ্ছিল। এর আগে জাহাজটি রাশিয়া ও ইরানের তেল পরিবহনে ব্যবহৃত হয়েছে।

সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো 'রিচ স্টারি' নামক জাহাজটি। এটিই প্রথম কোনো জাহাজ যা অবরোধ শুরুর পর সফলভাবে পারস্য উপসাগর ত্যাগ করতে পেরেছে। ২ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল মিথানল বহনকারী এই জাহাজটির মালিকানা একটি চীনা কোম্পানির এবং এতে কর্মরত নাবিকরাও চীনা নাগরিক।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স


ইরানের আটটি তেলের ট্যাঙ্কারকে 'ফিরে যেতে' বাধ্য করল মার্কিন নৌবাহিনী

সোমবার থেকে এখন পর্যন্ত ইরান-সংশ্লিষ্ট অন্তত আটটি তেলের ট্যাঙ্কারকে তাদের গতিপথ বদলে ফিরে যেতে বাধ্য করেছে মার্কিন নৌবাহিনী। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এ খবর জানিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র–ইরান যুদ্ধবিরতির পর হরমুজ প্রণালি পার হচ্ছে একটি জাহাজ। ৮ এপ্রিল ২০২৬। ছবি: শ্যাডি আলাসার/আনাদোলু

কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে পত্রিকাটি জানিয়েছে, প্রতিটি ক্ষেত্রে মার্কিন নৌবাহিনী রেডিওর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট জাহাজের ক্রুদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এবং তাদের ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, সবগুলো ট্যাঙ্কারই মার্কিন নির্দেশ মেনে নিয়ে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। এ সময় কোনো জাহাজে ওঠার প্রয়োজন পড়েনি।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা


ইরানের সাথে ছোট কোনো সমঝোতা নয়, 'বড় চুক্তি' করতে চান ট্রাম্প: ভ্যান্স

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সাথে ছোট কোনো সমঝোতায় আগ্রহী নন, বরং তিনি চান 'বড় ধরনের একটি চুক্তি'—এমনটাই জানিয়েছেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।

জেডি ভ্যান্স। ফাইল ছবি/সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ায় কনজারভেটিভ সংগঠন 'টার্নিং পয়েন্ট ইউএসএ'-এর এক সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে ভ্যান্স এ কথা বলেন। ইসলামাবাদে ইরানের সঙ্গে আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেওয়া ভ্যান্স জানান, ইরান যদি 'স্বাভাবিক দেশের মতো আচরণ' করতে রাজি হয়, তবে তাদের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে প্রস্তুত রয়েছে ওয়াশিংটন।

তিনি বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের মূল লক্ষ্য হচ্ছে তেহরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখা।

বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ভ্যান্স বলেন, 'ছয় বা সাত দিন আগে যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে, সেটি এখনো টিকে আছে।' তবে তিনি স্পষ্ট করে জানান, ট্রাম্প ছোটখাটো সমঝোতায় সন্তুষ্ট নন। তার ভাষায়, 'প্রেসিডেন্ট ছোট কোনো চুক্তি করতে চান না, তিনি একটি বড় চুক্তি করতে চান।'

মধ্যপ্রাচ্য নীতির বিষয়ে তরুণ ভোটারদের মধ্যে যে অসন্তোষ রয়েছে, সেটিও স্বীকার করেন ভ্যান্স। তিনি বলেন, 'আমি জানি, তরুণ ভোটাররা আমাদের মধ্যপ্রাচ্য নীতিকে খুব একটা পছন্দ করে না।'

তবে ভিন্নমত থাকলেও রাজনৈতিক প্রক্রিয়া থেকে দূরে না সরে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। ভ্যান্স বলেন, 'আমি বলছি না যে সব বিষয়ে আমার সঙ্গে একমত হতে হবে। কিন্তু একটি বিষয়ে দ্বিমত থাকলেই যেন আপনারা সম্পূর্ণভাবে দূরে সরে না যান। বরং আরও বেশি অংশগ্রহণ করুন এবং নিজেদের মতামত জোরালোভাবে তুলে ধরুন।'

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা


ইরান যুদ্ধ প্রায় শেষের পথে, ওরা এখন মরিয়া হয়ে চুক্তি করতে চায়': ফক্স নিউজে ট্রাম্প

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স বিজনেস নেটওয়ার্কের অনুষ্ঠান 'মর্নিংস উইথ মারিয়া'-তে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, ইরানের সাথে চলা যুদ্ধ এখন সমাপ্তির পথে।

সাক্ষাৎকারের প্রকাশিত একটি অংশে ট্রাম্পকে বলতে শোনা যায়, 'আমার মনে হয় এটি প্রায় শেষ হয়ে এসেছে, হ্যাঁ। আমি বলতে চাচ্ছি, আমি এটিকে শেষের খুব কাছাকাছি দেখছি।' 

ইরানের ওপর বর্তমান চাপের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, 'আমি যদি এখনই পিছু হটি, তবে তাদের দেশটি পুনর্গঠন করতে অন্তত ২০ বছর সময় লাগবে। আমাদের কাজ এখনো শেষ হয়নি। আমরা দেখব কী ঘটে। আমার মনে হয় তারা এখন মরিয়া হয়ে একটি চুক্তি করতে চায়।'

তথ্যসূত্র: এপি


দুদিনের মধ্যে ইরানের সাথে ফের শান্তি আলোচনা শুরু হতে পারে: ট্রাম্প

গত সপ্তাহে পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত আলোচনা কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হওয়ায় ওয়াশিংটন ইরানি বন্দরগুলোতে নৌ-অবরোধ আরোপ করেছে। এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, আগামী দুই দিনের মধ্যে পাকিস্তানে পুনরায় শান্তি আলোচনা শুরু হতে পারে।

পাকিস্তান, ইরান এবং পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের কর্মকর্তারাও জানিয়েছেন, দুই দেশের প্রতিনিধি দল চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে পাকিস্তানে ফিরতে পারেন। তবে ইরানের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আলোচনার জন্য এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট তারিখ নির্ধারিত হয়নি।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

নিউ ইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, 'আপনাদের সেখানে (পাকিস্তানে) থাকা উচিত, কারণ আগামী দুই দিনের মধ্যে কিছু একটা ঘটতে পারে এবং আমরা সেখানে যাওয়ার জন্য বেশি আগ্রহী।'

পরবর্তীতে জর্জিয়াতে এক অনুষ্ঠানে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে একটি 'মহা-চুক্তি' করতে চান, তবে দুই দেশের মধ্যে চরম আস্থার সংকট রয়েছে। ভ্যান্স বলেন, 'আপনি এই সমস্যার সমাধান রাতারাতি করতে পারবেন না।'

যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধের ফলে ইরানের পক্ষ থেকে কড়া প্রতিক্রিয়া এলেও পুনরায় কূটনৈতিক আলোচনার আভাসে বিশ্ববাজারে তেলের দাম কিছুটা কমেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলারের নিচে নেমে এসেছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই ইরান কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং জ্বালানি পরিবহনের প্রধান পথ 'হরমুজ প্রণালি' কার্যকরভাবে বন্ধ করে রেখেছে। চলমান এই সংঘাতে এ পর্যন্ত প্রায় ৫ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।

গত সপ্তাহে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত আলোচনা কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হওয়ায় দুই সপ্তাহের যে যুদ্ধবিরতি চলছিল, তার স্থায়িত্ব নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। এই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আর মাত্র এক সপ্তাহ বাকি।

আলোচনার প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি। এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র চেয়েছিল ইরান তাদের সকল পারমাণবিক কার্যক্রম অন্তত ২০ বছরের জন্য স্থগিত রাখুক। অন্যদিকে, তেহরান এই সময়সীমা ৩ থেকে ৫ বছরের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার প্রস্তাব দিয়েছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে যে, ইরানে মজুদকৃত সমস্ত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সে দেশ থেকে সরিয়ে ফেলতে হবে।

পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত আলোচনার সাথে জড়িত একটি সূত্র জানিয়েছে, গত সপ্তাহান্ত থেকে চলা পর্দার আড়ালের (ব্যাকচ্যানেল) আলোচনায় দুই দেশের অবস্থানের মধ্যকার দূরত্ব কিছুটা কমেছে। এর ফলে পরবর্তী দফার আলোচনায় একটি ঐকমত্যে পৌঁছানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স


 

Related Topics

টপ নিউজ

ইরান যুদ্ধ

Comments

While most comments will be posted if they are on-topic and not abusive, moderation decisions are subjective. Published comments are readers’ own views and The Business Standard does not endorse any of the readers’ comments.

MOST VIEWED

  • ছবি: হিন্দুস্তান টাইমস
    ২৬ বিলিয়ন ডলার খরচে মেট্রোরেল তৈরি করেছে ভারত; কিন্তু প্রত্যাশা অনুযায়ী মিলছে না যাত্রী
  • ছবি: সংগৃহীত
    দীর্ঘ বিলম্ব কাটিয়ে চট্টগ্রামে গতি পাচ্ছে চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রকল্প
  • ছবি: সংগৃহীত
    সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ: মনোনীত হলেন যারা
  • মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: রয়টার্স
    ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের প্রকাশ্যে বীরত্ব, আড়ালে কার্টারের মতো পরাজিত হওয়ার ভয়
  • মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: রয়টার্স
    অধৈর্য আচরণের ভয়: ইরানে অভিযানের সময় ট্রাম্পকে ‘যুদ্ধকক্ষে’ ঢুকতে দেননি সহযোগীরা
  • মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি; এনবিসি নিউজ
    আজই পাকিস্তানে স্বাক্ষরিত হতে পারে ঐতিহাসিক ইরান চুক্তি: ডোনাল্ড ট্রাম্প

Related News

  • ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ‘বেপরোয়া’ খরচ, এ অর্থ বাঁচাতে পারত ৮ কোটি ৭০ লাখ প্রাণ: জাতিসংঘ
  • চুক্তি না হলে ইরানের বন্দর থেকে অবরোধ উঠবে না: ট্রাম্প
  • যুদ্ধের পর চীনের সঙ্গে আরও নৈকট্য বাড়াতে প্রস্তুত উপসাগরীয় দেশগুলো
  • আজই পাকিস্তানে স্বাক্ষরিত হতে পারে ঐতিহাসিক ইরান চুক্তি: ডোনাল্ড ট্রাম্প
  • মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাজার বহুমুখীকরণসহ বিশেষ পদক্ষেপ ঘোষণা সরকারের

Most Read

1
ছবি: হিন্দুস্তান টাইমস
আন্তর্জাতিক

২৬ বিলিয়ন ডলার খরচে মেট্রোরেল তৈরি করেছে ভারত; কিন্তু প্রত্যাশা অনুযায়ী মিলছে না যাত্রী

2
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ

দীর্ঘ বিলম্ব কাটিয়ে চট্টগ্রামে গতি পাচ্ছে চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রকল্প

3
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ

সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ: মনোনীত হলেন যারা

4
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: রয়টার্স
আন্তর্জাতিক

ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের প্রকাশ্যে বীরত্ব, আড়ালে কার্টারের মতো পরাজিত হওয়ার ভয়

5
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: রয়টার্স
আন্তর্জাতিক

অধৈর্য আচরণের ভয়: ইরানে অভিযানের সময় ট্রাম্পকে ‘যুদ্ধকক্ষে’ ঢুকতে দেননি সহযোগীরা

6
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি; এনবিসি নিউজ
আন্তর্জাতিক

আজই পাকিস্তানে স্বাক্ষরিত হতে পারে ঐতিহাসিক ইরান চুক্তি: ডোনাল্ড ট্রাম্প

EMAIL US
contact@tbsnews.net
FOLLOW US
WHATSAPP
+880 1847416158
The Business Standard
  • About Us
  • Contact us
  • Sitemap
  • Privacy Policy
  • Comment Policy
Copyright © 2026
The Business Standard All rights reserved
Technical Partner: RSI Lab

Contact Us

The Business Standard

Main Office -4/A, Eskaton Garden, Dhaka- 1000

Phone: +8801847 416158 - 59

Send Opinion articles to - oped.tbs@gmail.com

For advertisement- sales@tbsnews.net