ছোট লক্ষ্যেও আফগানদের হারাতে ঘাম ছুটলো ইংল্যান্ডের
দারুণ বোলিংয়ে লক্ষ্যটা নাগালেই রাখেন বোলাররা। কিন্তু আফগানিস্তানের দেওয়া সেই ছোট লক্ষ্য আর ছোট থাকেনি। লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ভালোই বেগ পেতে হলো ইংল্যান্ডকে। যেভাবে জয় মিললো, সেটাকে কষ্টার্জিতই বলতে হবে।
শনিবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সুপার টুয়েলভের ম্যাচে পার্থে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ৫ উইকেটে জিতেছে ইংল্যান্ড। ৫ উইকেট হলেও দাপুটে ব্যাটিং করতে পারেনি ইংলিশরা। ১৯তম ওভার পর্যন্ত ব্যাটিং করতে হয় জস বাটলারের দলকে।
টস হেরে আগে ব্যাটিং করতে নামে আফগানিস্তান। ম্যাচসেরা স্যাম কারেন, বেন স্টোকস, মার্ক উডদের আগুনে বোলিংয়ের সামনে ১৯.৪ ওভারে ১১২ রানে অলআউট হয় তারা। জবাবে এই লক্ষ্য পাড়ি দিতেই ১৮.১ ওভার লেগে যায় ইংল্যান্ডের। ২৯ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে দলকে জেতান লিয়াম লিভিংস্টোন।
জয়ের লক্ষ্যে ব্যাটিং করতে নেমে শুরুটা মন্দ হয়নি ইংল্যান্ডের। ৫ ওভারে ৩৬ রান তোলেন দুই ওপেনার জস বাটলার ও অ্যালেক্স হেলস। কিন্তু এ সময় ভাঙে জুটি। ১৮ বলে ১৮ রান করা বাটলারকে ফেরান আফগান পেসার ফজল হক ফারুকী। হেলসও বেশি পথ পাড়ি দিতে পারেননি। ২০ বলে ১৯ রান করে বিদায় নেন তিনি।
৫২ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারানো ইংল্যান্ড ৬৫ রানে আবারও হোঁচট খায়। ৪ বলে ২ রান করে আউট হন বেন স্টোকস। ধীর স্থির ব্যাটিং করা দাভিদ মালান ৩০ বলে ১৮ রান করে বিদায় নেন। এরপর হ্যারি ব্রুক ফেরেন দ্রুতই। এরপর অবশ্য আর বিপদে পড়তে হয় ইংল্যান্ডকে।
লিভিংস্টোন ও মঈন আলী মিলে দলকে জয়ের বন্দরে নিয়ে যান। তবে ইংল্যান্ডের কোনো ব্যাটসম্যানই টি-টোয়েন্টিসুলভ ব্যাটিং করতে পারেননি। লিভিংস্টোন ২১ বলে ৩টি চারে ২৯ রানে ও মঈন ১০ বলে ৮ রানে অপরাজিত থাকেন। আফগানিস্তানের ফজল, মুজিব, রশিদ, নবী ও ফরিদ একটি করে উইকেট নেন।
এর আগে ব্যাটিং করা আফগানিস্তান পুরো ইনিংসজুড়ে সংগ্রাম করেছে। কেউ-ই পারেননি বড় ইনিংস খেলে দলকে পথ দেখাতে। রহমানউল্লাহ গুরবাজ ১০, ইব্রাহিম জাদরান ৩২, উসমান গণি ৩০ ও নাজিবুল্লাহ জাদরান ১৩ রান করেন। বাকি ৭ ব্যাটসম্যানের কেউ-ই দুই অঙ্কের রান করতে পারেননি।
আগুনে বোলিং করা স্যাম কারেন ৩.৪ ওভারে মাত্র ১০ রানে ৫টি উইকেট নেন, এটা তার টি-টোয়েন্টির ক্যারিয়ার সেরা বোলিং। কেবল তারই নয়, টি-টোয়েন্টিতে ইংল্যান্ডেরই সেরা বোলিং। দেশটির প্রথম বোলার হিসেবে ৫ উইকেট নিলেন বাঁহাতি এই পেসার। স্টোকস ৪ ওভারে ১৯ রানে ২ উইকেট নেন। ৪ ওভারে ২৩ রানে মার্ক উডের শিকারও ২ উইকেট। ক্রিস ওকস ২৪ রানে পান একটি উইকেট ।
