বিশ্বকাপে বাংলাদেশের না থাকা ক্রিকেটের জন্য দুঃখজনক: ওয়ার্ল্ড ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশন
আগামী মাসের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশের বাদ পড়া ক্রিকেটের জন্য একটি দুঃখজনক মুহূর্ত। এই ঘটনাটিকে শিক্ষা হিসেবে নিয়ে সংশ্লিষ্ট সবার উচিত খেলাটিকে বিভক্ত না করে ঐক্যের পথে এগিয়ে নেওয়া। রোববার (২৫ জানুয়ারি) এক বিবৃতিতে এমন মন্তব্য করেছে ওয়ার্ল্ড ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশন (ডব্লিউসিএ)।
এশীয় প্রতিবেশী দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্কের অবনতির জেরে নিরাপত্তা শঙ্কার কারণে ভারত সফরে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল বাংলাদেশ। এর ফলে শনিবার ২০ দলের এই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের পরিবর্তে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
বাংলাদেশ তাদের ম্যাচগুলো টুর্নামেন্টের সহ-আয়োজক শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ জানালেও ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি তা প্রত্যাখ্যান করে। সংস্থাটি জানায়, আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি টুর্নামেন্ট শুরুর আগমুহূর্তে সূচি পরিবর্তন করা সম্ভব নয়।
ডব্লিউসিএর প্রধান নির্বাহী টম মোফাট এক বিবৃতিতে বলেন, 'টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশের প্রত্যাহার এবং ক্রিকেটের এই আন্তর্জাতিক ইভেন্টে একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেট খেলুড়ে জাতির অনুপস্থিতি আমাদের খেলা, বাংলাদেশি খেলোয়াড় ও ভক্তদের জন্য একটি দুঃখজনক মুহূর্ত। এই বিষয়টি নিয়ে গভীর ভাবনার প্রয়োজন রয়েছে।'
তিনি আরও বলেন, 'বিভাজন বা ব্হিষ্কারের সংস্কৃতিকে প্রশ্রয় না দিয়ে আমরা ক্রিকেটনেতাদের আহ্বান জানাই—গভর্নিং বডি, লিগ এবং খেলোয়াড়সহ সংশ্লিষ্ট সকলের সঙ্গে কাজ করে খেলাটিকে বিভক্ত না করে ঐক্যবদ্ধ করুন।'
সাম্প্রতিক এসব ঘটনা দক্ষিণ এশীয় ক্রিকেটে বিদ্যমান উত্তেজনাকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের রাজনৈতিক বৈরিতার কারণে আইসিসি এর আগে একটি বিশেষ ব্যবস্থা করেছিল, যেখানে পাকিস্তান কোনো বৈশ্বিক টুর্নামেন্ট আয়োজন করলে ভারত নিরপেক্ষ ভেন্যুতে খেলার সুযোগ পায়।
আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের সব ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) প্রধান মহসিন নকভি শনিবার জানিয়েছেন, তাদের অংশগ্রহণের বিষয়টি এখনো নিশ্চিত নয়।
পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা নকভি সাংবাদিকদের বলেন, 'প্রধানমন্ত্রী এখন পাকিস্তানে নেই। তিনি ফিরলে আমি আমাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে পারব।'
টম মোফাট উল্লেখ করেন, ক্রিকেটে বিভিন্ন চুক্তি না মানা এবং খেলোয়াড় ও তাদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে অর্থবহ আলোচনার অভাব নিয়ে ডব্লিউসিএ ক্রমশ উদ্বিগ্ন হয়ে উঠছে।
তিনি যোগ করেন, 'এটি বৈশ্বিক পর্যায়ে গেমসের বর্তমান পরিচালনা মডেলের উল্লেখযোগ্য সমস্যাগুলোকে সামনে এনেছে। এসব সমস্যার সমাধান না করা হলে তা আমাদের ভালোবাসার এই খেলার বিশ্বাস, ঐক্য এবং শেষ পর্যন্ত এর ভবিষ্যৎ ও সুস্থতাকে দুর্বল করে দেবে।'
