টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ভেন্যু ইস্যুতে আইসিসির বিরুদ্ধে দ্বিমুখী নীতির অভিযোগ বিসিবির
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ভেন্যু সংক্রান্ত বিষয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) বিরুদ্ধে দ্বিমুখী নীতি অনুসরণের অভিযোগ তুলেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বলেছেন, একদিকে আইসিসি ভারতের অনুরোধে ২০২৫ চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ম্যাচ পাকিস্তানের পরিবর্তে সংযুক্ত আরব আমিরাতে আয়োজনের সুযোগ দিয়েছে, অন্যদিকে আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ম্যাচ ভারত থেকে শ্রীলঙ্কায় সরানোর অনুরোধ তারা প্রত্যাখ্যান করেছে।
জাতীয় ক্রীড়া উপদেষ্টা, বিসিবি এবং জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের সঙ্গে বৈঠকের পর ঢাকায় গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে সরকারের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে আমিনুল ইসলাম বলেন, ভারতকে তাদের সব চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ম্যাচ এক ভেন্যুতে, দুবাইয়ে, খেলার বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়েছিল।
বাংলাদেশের অবস্থান হলো—নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কারণে তারা ভারতে যেতে চায় না।
আমিনুল বলেন, 'আইসিসি বিসিবিকে আগের কয়েকটি ঘটনার উদাহরণ দেখিয়েছে, যেখানে ১৯৯৬ ও ২০০৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়া, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, নিউজিল্যান্ড এবং ইংল্যান্ডের মতো দলগুলো নির্দিষ্ট ভেন্যুতে খেলতে অস্বীকৃতি জানিয়ে তাদের ম্যাচ পরিত্যাগ করেছিল।
আমিনুল বলেন, 'আইসিসি বিভিন্ন সময়ে, ১৯৯৬, ২০০৩, যে ঘটনাগুলো ঘটেছিল, সেগুলো বলার চেষ্টা করেছে। আমরা আইসিসিকে বলেছি যে সম্প্রতি যে ঘটনাগুলো ঘটেছে এবং আইসিসির যে পদক্ষেপগুলো ছিল, সেগুলো তাদেরকে আমরা দেখিয়ে দিয়েছি চোখে আঙুল দিয়ে।
'গত বছর ফেব্রুয়ারি মাসে যখন একটা দেশ নিরাপত্তাজনিত কারণে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি খেলতে যেতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল, তখন সেই দেশের সরকারের অনুমতি নিয়ে আইসিসিকে যখন জানানো হয়েছিল, তখন তাদের জন্য একটা নিরপেক্ষ ভেন্যুর ব্যবস্থা করেছিল। সেই নিরপেক্ষ ভেন্যুতে তারা একটা হোটেলে থেকে, একটা মাঠে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি খেলেছিল। ইট ওয়াজ আ প্রিভিলেজ।'
তিনি আরও বলেন, ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ভেন্যু ও অংশগ্রহণ নিয়ে তিনি আইসিসির সঙ্গে যোগাযোগ চালিয়ে যাবেন, তবে ভারতে খেলবেন না—এই অবস্থানে তিনি অনড়।
তিনি জানান, আইসিসিকে বলা হয়েছে বাংলাদেশকে শ্রীলঙ্কায় খেলতে দেওয়ার জন্য হাইব্রিড মডেল অনুসরণ করা যেতে পারে।
আমিনুল বলেন, 'যে হাইব্রিড মডেলটা যেটা এখন হচ্ছে, আমরা সবাই বলছি যে শ্রীলঙ্কা কো-হোস্ট', আসলে শ্রীলঙ্কা কো-হোস্ট না। শ্রীলঙ্কা হাইব্রিড মডেলের একটা অংশ, যেখানে অন্যান্য দেশের খেলাগুলো হচ্ছে সেখানে। সেইদিকে তাকিয়ে আমরা বলেছিলাম যে, যেহেতু এটা হাইব্রিড মডেলটাও হয়েছে নিরাপত্তার কারণে ও এবং সরকারের অনীহার কারণে, আমরা সেই লাইনেও আইসিসিকে বলার চেষ্টা করেছি এবং বুঝিয়েছি।।'
গত বছর আইসিসি বোর্ড ভোটের মাধ্যমে ২০২৪–২৭ চক্রে বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে ভারত ও পাকিস্তানের ম্যাচের জন্য একটি হাইব্রিড মডেল গ্রহণ করে, যার সূচনা হয় ২০২৫ চ্যাম্পিয়নস ট্রফি দিয়ে। একই মডেল ২০২৫ নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপেও প্রয়োগ করা হয়, যেখানে টুর্নামেন্টটি ভারতে অনুষ্ঠিত হলেও পাকিস্তান তাদের ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় খেলে।
২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু থেকেই সহ-আয়োজিত ইভেন্ট হিসেবে নির্ধারিত ছিল—হাইব্রিড মডেলের ধারণা আসার আগেই। তবে সিদ্ধান্ত হয়েছে, ভারত ও পাকিস্তান যদি গ্রুপ বা নকআউট পর্বে একে অপরের মুখোমুখি হয়, সেই ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত হবে।
আমিনুল বলেন, 'আমরা বাংলাদেশ ক্রিকেট নিয়ে গর্বিত, কিন্তু বিশ্ব ক্রিকেট নিয়ে আমাদের সন্দেহ আছে। যখন ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা কমছে, তখন আইসিসি ২০ কোটি ক্রিকেটপ্রেমী মানুষের একটি দেশকে বঞ্চিত করছে। ক্রিকেট ২০২৮ সালে অলিম্পিকে যাচ্ছে। ভারত অলিম্পিক ও কমনওয়েলথ গেমস আয়োজনের জন্য বিড করছে, কিন্তু বাংলাদেশ যদি বিশ্বকাপে না থাকে, সেটি তাদের ব্যর্থতা হবে। আমরা বিশ্বকাপে খেলার আশা ছাড়ছি না।'
ভারতে খেলবে কি না—এই সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের জন্য আইসিসির দেওয়া ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা মিস করা হবে কি না—এই প্রশ্নের জবাবে আমিনুল বলেন, 'একটি বৈশ্বিক সংস্থা ২৪ ঘণ্টার ডেডলাইন দিতে পারে না। আমরা লড়াই চালিয়ে যাব।'
বুধবার বোর্ড সভার পর দেওয়া এক বিবৃতিতে আইসিসি জানায়, ভারতে বাংলাদেশের জন্য বিশ্বাসযোগ্য কোনো নিরাপত্তা হুমকি নেই, এবং এই মুহূর্তে ভেন্যু পরিবর্তন করলে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন হবে।
আইসিসি বোর্ড আরও বলে, টুর্নামেন্টের এত কাছাকাছি সময়ে ভ্যেনু পরিবর্তন করা সম্ভব নয় এবং বিশ্বাসযোগ্য নিরাপত্তা ঝুঁকি না থাকা সত্ত্বেও সূচি বদলালে ভবিষ্যৎ আইসিসি ইভেন্টগুলোর স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা ক্ষুণ্ন হতে পারে।
আইসিসির অবস্থান হলো—বিসিবি যদি ভারতে সফরে সম্মত না হয়, তাহলে ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের জায়গায় অন্য একটি দলকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
