টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ সংকট: বাংলাদেশের পক্ষ নিয়ে আইসিসিকে পিসিবির চিঠি
২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে আজ বুধবার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি)। এদিকে, গতকাল মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) আইসিসিকে চিঠি পাঠিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)।
চিঠিতে ভারতের বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে সেখানে খেলতে না চাওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অবস্থানের প্রতি সমর্থন জানানো হয়েছে। ইএসপিএনক্রিকইনফো জানিয়েছে, আইসিসি বোর্ডের সদস্যদেরও পিসিবি চিঠির অনুলিপি পাঠিয়েছে।
বিসিবি নিরাপত্তাজনিত কারণে নিজেদের ম্যাচগুলো ভারতের পরিবর্তে বিকল্প ভেন্যু হিসেবে শ্রীলঙ্কায় আয়োজনের অনুরোধ জানিয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে আজ আইসিসি বোর্ড সভা ডেকেছে। তবে পিসিবির চিঠির কারণে সভা ডাকা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত নয়।
ক্রিকইনফোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, পিসিবির চিঠি প্রকাশের পরও আইসিসির অবস্থানে পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম। তারা এখনো বিশ্বকাপের সূচি পরিবর্তন না করার সিদ্ধান্তে অটল এবং চাইছে বাংলাদেশ সহ-আয়োজক ভারতের মাটিতেই খেলুক। গত সপ্তাহে বিসিবির সঙ্গে আলোচনায় আইসিসি তাদের কঠোর অবস্থান জানিয়ে দিয়েছিল।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ সরকারের সমর্থনে বিসিবি গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলোর জন্য ভারত সফরে যেতে অস্বীকার করেছে। এ নিয়ে আইসিসি ও বিসিবির মধ্যে একাধিক বৈঠক হয়েছে, সর্বশেষ বৈঠকটি গত সপ্তাহে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু কোনো পক্ষই নিজেদের অবস্থান থেকে সরে আসেনি।
বিশ্বকাপ শুরুর তিন সপ্তাহেরও কম সময় বাকি থাকায়, আজ ২১ জানুয়ারি (বুধবার) চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের সময়সীমা হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।
পিসিবি অচলাবস্থা নিরসনে কী ভূমিকা রাখতে পারে তা নিয়ে গত এক সপ্তাহ ধরে নানা গুঞ্জন ছড়াচ্ছে। শোনা গেছে, পিসিবি বাংলাদেশের ম্যাচগুলো পাকিস্তানে আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছে। এমনকি বাংলাদেশের পরিস্থিতি অনুযায়ী পাকিস্তানও বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ পুনর্বিবেচনা করতে পারে। তবে এ বিষয়ে পিসিবি জনসমক্ষে বা সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের জবাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
সংকটের সূত্রপাত ঘটে যখন বিসিসিআই আইপিএল-এ কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর) থেকে মুস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দিতে বলে এবং পরবর্তীতে তাকে দল থেকে বাদ দেওয়া হয়। এর সুনির্দিষ্ট কারণ ব্যাখ্যা না করা হলেও, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে রাজনৈতিক সম্পর্কের অবনতিকে মূল প্রেক্ষাপট হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়, জাতীয় দল ভারতের মাটিতে কোনো ম্যাচ খেলবে না।
