মানহানির মামলায় কুষ্টিয়া-৩ আসনের এমপি আমির হামজার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর বিরুদ্ধে মানহানিকর মন্তব্যের অভিযোগে দায়ের করা এক মামলায় কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা আমির হামজার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন সিরাজগঞ্জের একটি আদালত।
আজ মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এই আদেশ দেন। সমন পাওয়ার পরও আদালতে হাজির না হওয়ায় তার বিরুদ্ধে এই পরোয়ানা জারি করা হয়।
মামলার বাদী ও সিরাজগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির কর্নেল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করার অভিযোগে জেলা বিএনপির নির্দেশে তিনি বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
তিনি বলেন, 'মামলাটি দায়েরের পর আদালত এমপি আমির হামজার বিরুদ্ধে সমন জারি করেন। তবে সমন পাওয়ার পরও তিনি আদালতে হাজির হননি। নির্ধারিত দিনে আদালতে অনুপস্থিত থাকায় আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন।'
শুনানির সময় আদালতে বাদীপক্ষ জানায়, সমন জারির পরও অভিযুক্ত ব্যক্তি আদালতের নির্দেশ অমান্য করেছেন। এজন্য তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি নির্দেশ দেওয়া প্রয়োজন। এ সময় আদালত জানতে চান, 'সংসদ চলাকালে কোনো সংসদ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব কি না?'
জবাবে বাদীপক্ষ জানায়, কোনো সংসদ সদস্যকে গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে স্পিকারের অনুমতি প্রয়োজন হলেও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারিতে আইনগত কোনো বাধা নেই। পরে আদালত বাদীপক্ষের বক্তব্যে সন্তুষ্ট হয়ে আমির হামজার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।
উল্লেখ্য, গত ২৬ মার্চ কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হাটশ হরিপুর বড় জামে মসজিদে জুমার নামাজের খুতবার আগে আলোচনায় মুফতি আমির হামজা জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে 'নাস্তিক' ও 'ইসলামবিদ্বেষী' বলে মন্তব্য করেন। এর আগেও তার বিরুদ্ধে একাধিকবার আপত্তিকর বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
এই মন্তব্যের জেরে মানহানির মামলা করেন সিরাজগঞ্জ জেলা জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর এবং জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির। পরে চলতি মাসের ২ এপ্রিল আদালতে হাজির হওয়ার জন্য এমপি আমির হামজার বিরুদ্ধে সমন জারি করা হয়।
তবে আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও তিনি হাজির না হওয়ায় আজ আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে এটি প্রথম গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির ঘটনা।
এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে আমির হামজার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুষ্টিয়া-৩ আসন থেকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী হয়ে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মুফতি আমির হামজা।
