তেলের দাম বাড়ার পর ফিলিং স্টেশনে কমেছে লাইনের চাপ, অপেক্ষার সময় কমছে রাজধানীতে
ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের অস্থিরতা দেখা দেওয়ায় এর প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশেও। কয়েকদিন আগেও রাজধানীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে গিয়ে ভোগান্তির চিত্র ছিল চরমে—সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে চালকদের।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই গত শনিবার রাতে সরকার সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ১৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানোর ঘোষণা দেয়। দাম বৃদ্ধির পরপরই কিছুটা স্বস্তির খবর মিলছে রাজধানীর বিভিন্ন পাম্প থেকে।
মঙ্গলবার সরেজমিনে দেখা গেছে, আগের তুলনায় তেলের লাইনে ভিড় কমেছে এবং অপেক্ষার সময়ও কিছুটা কমে এসেছে। রাজধানীর আসাদ গেট এলাকার একটি ফিলিং স্টেশনে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে মোটরসাইকেলের লাইন থাকলেও তা দুই দিন আগের তুলনায় প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে।
কল্যাণপুর, টেকনিক্যাল ও গাবতলী এলাকার কয়েকটি পাম্প ঘুরেও একই চিত্র দেখা গেছে।
টেকনিক্যাল এলাকার মোহনা ফিলিং স্টেশন থেকে তেল নিতে আসা মোটরসাইকেল চালক হামিদুল ইসলাম জানান, "আগে তেল পেতে প্রায় ১০ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হতো, এখন দুই ঘণ্টার মধ্যেই পাওয়া যাচ্ছে। দাম বাড়ানোর পর ভিড় কিছুটা কমেছে।"
পাম্প কর্তৃপক্ষ জানায়, বর্তমানে ডিজেলের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও অকটেনের ঘাটতি রয়েছে। মঙ্গলবার সকালে অকটেনবাহী গাড়ি আসার পর দুপুর ১২টা থেকে বিক্রি শুরু হয়।
মোহনা ফিলিং স্টেশনে সকাল সাড়ে ১১টা থেকে সাড়ে ১২টার মধ্যে ওই পাম্পে প্রায় ৩০টি মোটরসাইকেল ও মূল সড়কে প্রায় ৩০টি প্রাইভেটকার তেলের জন্য অপেক্ষা করতে দেখা গেছে।
প্রাইভেটকার চালক ফিরোজ ভূঁইয়া বলেন, "আগের তুলনায় এখন অনেক কম সময় লাগছে। প্রায় ৪০ মিনিট ধরে লাইনে আছি, সামনে প্রায় ৩০টি গাড়ি আছে।"
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দাম বৃদ্ধির ফলে চাহিদা কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসায় লাইনের চাপ কমেছে। তবে সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বস্তিদায়ক হবে না।
