বিদ্যুতায়ন সত্ত্বেও কৃষিকাজ এখনও ব্যাপকভাবে ডিজেলের ওপর নির্ভরশীল
সাম্প্রতিক সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বছরের পর বছর ধরে বিদ্যুতায়ন চললেও ডিজেল এখনও বাংলাদেশের যান্ত্রিক কৃষির মূল চালিকাশক্তি রয়ে গেছে। এমনকি কিছু গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতির ক্ষেত্রে ডিজেলের ব্যবহার আবারও বাড়তে দেখা গেছে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ইয়ারবুক অভ অ্যাগ্রিকালচারাল স্ট্যাটিস্টিকস ২০২৫-এর তথ্যমতে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১৪ লাখেরও বেশি শ্যালো টিউবওয়েল (অগভীর নলকূপ) চালু ছিল। এর মধ্যে ৯ লাখ ৫১ হাজার ৪৮টি ডিজেলচালিত ও ৪ লাখ ৪৯ হাজার ৩৪০টি বিদ্যুৎচালিত।
কৃষিকাজে ব্যবহৃত অন্যান্য যন্ত্রপাতির ক্ষেত্রে ডিজেলের আধিপত্য আরও বেশি। দেশের মোট ৩ লাখ ৩৫ হাজার ৭৪৭টি পাওয়ার টিলারের মধ্যে ৩ লাখ ৩৩ হাজার ৯২৮টিই ডিজেলে চলে, আর বিদ্যুতে চলে মাত্র ১ হাজার ৮১৯টি। অন্যদিকে দেশে ব্যবহৃত ২১ হাজার ৯৮৯টি ট্রাক্টরের সবগুলোই ডিজেলচালিত।
ডিপ টিউবওয়েল বা গভীর নলকূপের ক্ষেত্রেও ডিজেলের ব্যবহার ফের বাড়তে দেখা গেছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরের তুলনায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ডিজেলচালিত গভীর নলকূপের সংখ্যা ৭৭৯টি থেকে প্রায় ৬০ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ২৪৯টিতে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে ট্রাক্টরের সংখ্যা ১৮ হাজার ৯৩৯টি থেকে প্রায় ১৬ শতাংশ বেড়ে ২১ হাজার ৯৮৯টি হয়েছে।
তবে সব ধরনের যন্ত্রপাতির ক্ষেত্রে একই প্রবণতা দেখা যায়নি। আলোচ্য সময়ে ডিজেলচালিত শ্যালো টিউবওয়েল, লো-লিফট পাম্প (এলএলপি) ও পাওয়ার টিলারের সংখ্যা যথাক্রমে প্রায় ৯ শতাংশ, ১২ শতাংশ ও ১২ শতাংশ কমেছে।
গত পাঁচ বছরে বিদ্যুতায়নের অগ্রগতি হলেও তা এখনো ডিজেলের জায়গা পুরোপুরি নিতে পারেনি। ২০২০-২১ অর্থবছরে ডিজেলচালিত শ্যালো টিউবওয়েলের সংখ্যা ছিল ১০ লাখ ৩১ হাজার ৪৬৪টি, যা ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কমে ৯ লাখ ৫১ হাজার ৪৮টিতে নেমেছে। বিপরীতে এই সময়ে বিদ্যুৎচালিত শ্যালো টিউবওয়েলের সংখ্যা ৩ লাখ ৭৮ হাজার ২২৫টি থেকে বেড়ে ৪ লাখ ৪৯ হাজার ৩৪০টি হয়েছে।
ডিজেলচালিত গভীর টিউবওয়েলের পরিসংখ্যানে বেশ ওঠানামা দেখা গেছে। ২০২০-২১ অর্থবছরে এই টিউবওয়েলের সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৮৯৬টি। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তা কমে ৭৭৯টিতে নেমে আসে। কিন্তু গত অর্থবছরে এটি আবার বেড়ে ১ হাজার ২৪৯টিতে দাঁড়ায়।
তথ্যের সম্ভাব্য অসংগতি খতিয়ে দেখবে বিবিএস
বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) ক্ষুদ্র সেচ উইংয়ের প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ বদিউল আলম সরকার টিবিএসকে বলেন, ডিজেলচালিত গভীর টিউবওয়েলের এই আকস্মিক বৃদ্ধি বিবিএসের ইয়ারবুকে তথ্যের অসংগতির কারণে হতে পারে। কয়েক বছর ধরেই ডিজেলচালিত যন্ত্রপাতির ব্যবহার ধারাবাহিকভাবে কমছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিবিএসের কৃষি উইংয়ের যুগ্ম পরিচালক মো. সাইদুর রহমান বলেন, প্রকাশিত পরিসংখ্যানগুলো পর্যালোচনা ও ফের যাচাই করে দেখা হবে।
ডিজেলের বিকল্প হিসেবে সৌরবিদ্যুৎচালিত সেচ পাম্পের বিষয়ে বদিউল বলেন, সরকারি প্রণোদনা থাকা সত্ত্বেও প্রাথমিক খরচ বেশি হওয়ায় প্রান্তিক কৃষকরা এদিকে ঝুঁকতে চাইছেন না। পাশাপাশি বাংলাদেশে সৌর পাম্প স্থাপন তুলনামূলকভাবে নতুন প্রযুক্তি হওয়ায় দক্ষ টেকনিশিয়ানের অভাবের কথাও তিনি তুলে ধরেন।
