কৃষিতে ১৭ হাজার কোটি টাকার ভর্তুকি বহাল, বাড়ছে উন্নয়ন বরাদ্দ
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে কৃষি খাতে সার ও অন্যান্য কৃষি কার্যক্রমে প্রণোদনা বা ভর্তুকির জন্য ১৭ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। এটি চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মূল ও সংশোধিত বাজেটের সমপরিমাণ। তবে কৃষি উৎপাদন ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে মন্ত্রণালয়ের মোট উন্নয়ন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে উপস্থাপিত বাজেট নথি অনুযায়ী, আগামী অর্থবছরে কৃষি মন্ত্রণালয়ের পরিচালন ব্যয়ের জন্য ২০ হাজার ৯৩৫ কোটি টাকা এবং উন্নয়ন ব্যয়ের জন্য ৭ হাজার ৯৪৬ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কৃষি মন্ত্রণালয়ের মূল পরিচালন বাজেট ছিল ২০ হাজার ৮৯১ কোটি টাকা এবং উন্নয়ন বাজেট ছিল ৬ হাজার ৩৩৩ কোটি টাকা। তবে সংশোধিত বাজেটে উন্নয়ন ব্যয় কমে ৪ হাজার ৪৪ কোটি টাকায় নেমে আসে। অন্যদিকে, সংশোধিত পরিচালন ব্যয় সামান্য কমে ২০ হাজার ৭৮১ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।
প্রস্তাবিত বাজেটে কৃষি মন্ত্রণালয়ের মোট পরিচালন ব্যয়ের সিংহভাগই ব্যয় হবে ভর্তুকি খাতে। সার ও অন্যান্য কৃষি কার্যক্রমে প্রণোদনা বাবদ বরাদ্দ দেওয়া ১৭ হাজার কোটি টাকা মন্ত্রণালয়ের মোট পরিচালন বাজেটের প্রায় ৮১ শতাংশ। আন্তর্জাতিক বাজারে সারের দামের অস্থিরতা, আমদানি ব্যয় এবং কৃষি উৎপাদন খরচ নিয়ন্ত্রণে রেখে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই সরকার এই ভর্তুকি কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ওপর জোর দিয়েছে।
আগামী অর্থবছরে কৃষি মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন বরাদ্দ ৭ হাজার ৯৪৬ কোটি টাকায় উন্নীত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এই বরাদ্দ চলতি অর্থবছরের মূল উন্নয়ন বাজেটের তুলনায় প্রায় ২৫ শতাংশ বেশি এবং সংশোধিত বরাদ্দের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। এর মাধ্যমে কৃষি অবকাঠামো নির্মাণ, গবেষণা কার্যক্রম জোরদার, সেচ ব্যবস্থা সম্প্রসারণ, কৃষিতে যান্ত্রিকীকরণ এবং উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিমুখী প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারের বিশেষ গুরুত্বের প্রতিফলন ঘটেছে।
বাজেট বিশ্লেষকদের মতে, কৃষি ভর্তুকি অপরিবর্তিত রাখার পাশাপাশি উন্নয়ন ব্যয় বাড়ানোর উদ্যোগ উৎপাদন সহায়তা ও দীর্ঘমেয়াদি সক্ষমতা বৃদ্ধির মধ্যে ভারসাম্য আনার প্রচেষ্টার ইঙ্গিত দেয়।
