উৎপাদন বাড়াতে ১২৭ চা বাগানে ভর্তুকি মূল্যে সার দিচ্ছে সরকার: সংসদে বাণিজ্যমন্ত্রী
একসময় বিশ্বে চা রপ্তানিকারক দেশগুলোর মধ্যে শীর্ষস্থানীয় অবস্থানে থাকা বাংলাদেশ বর্তমানে অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে সীমিত পরিসরে চা আমদানি করছে। তবে উৎপাদন বাড়াতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
এ বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, 'দেশীয় চা শিল্প সুরক্ষায় চা আমদানিকে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। উৎপাদন বাড়াতে দেশের ১৭২টি চা বাগানে ভর্তুকি মূল্যে রাসায়নিক সার দেওয়া হচ্ছে৷'
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে কুমিল্লা-১০ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এ কথা জানান।
সংসদ সদস্য তার প্রশ্নে উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ একসময় বিশ্বে চা রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে পঞ্চম স্থানে থাকলেও বর্তমানে আমদানিকারকের তালিকায় এসেছে। এরপর তিনি জানতে চান, চা উৎপাদন বাড়াতে সরকার কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেবে কি না।
জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, 'দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও মানুষের জীবনমান বৃদ্ধির ফলে চায়ের অভ্যন্তরীণ চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এ কারণে আগের তুলনায় রপ্তানি কমেছে। ২০২৫ সালে দেশে ৯৪ দশমিক ৯৩ মিলিয়ন কেজি চা উৎপাদিত হয়েছে। অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণের পর ওই বছর ১ দশমিক ৬৪ মিলিয়ন কেজি চা রপ্তানি করা হয়েছে। একই সময়ে মাত্র শূন্য দশমিক শূন্য ৫ মিলিয়ন কেজি চা আমদানি করা হয়েছে।'
মন্ত্রী বলেন, ' ভর্তুকি মূল্যে রাসায়নিক সার দেওয়ার পাশাপাশি উত্তরাঞ্চলে ক্ষুদ্র চা চাষিদের প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তাও দেওয়া হচ্ছে।'
তিনি জানান, চা উৎপাদন, গুণগত মান এবং রপ্তানি বৃদ্ধির জন্য করণীয় নির্ধারণে গত ৭ জুন একটি টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। ওই টাস্কফোর্সের সুপারিশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এদিকে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মোসাম্মৎ শাম্মী আক্তারের এক প্রশ্নের জবাবে শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, 'হবিগঞ্জের চুনারুঘাট ও মাধবপুর উপজেলার চা বাগানগুলোতে শ্রম আইন বাস্তবায়নে নিয়মিত পরিদর্শন চালানো হচ্ছে।'
তিনি জানান, শ্রম আইনের ১২৩ ধারা অনুযায়ী মজুরি পরিশোধে অনিয়মের অভিযোগে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তিনটি চা বাগান কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে শ্রম আদালতে মামলা করা হয়েছে। এছাড়া পরিদর্শনের পর সংশোধনমূলক কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং স্থানীয় প্রশাসন, মালিকপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নিয়ে নিয়মিত উদ্বুদ্ধকরণ সভা আয়োজন করা হচ্ছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, 'প্রভিডেন্ট ফান্ড, পেনশন বা স্বাস্থ্যবিমা বাস্তবায়ন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সরাসরি দায়িত্বের আওতায় না থাকলেও বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে দুর্ঘটনায় মৃত্যু, দুরারোগ্য রোগের চিকিৎসা, শ্রমিকদের মেধাবী সন্তানের শিক্ষা এবং মাতৃত্বকালীন সময়ে এককালীন আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।'
