ধামরাইয়ের ‘ভুতুড়ে হাসপাতাল’: ৪০ বছরের একটি অসমাপ্ত স্বপ্ন
ঢাকার ধামরাই উপজেলার এক প্রান্তে ফসলের মাঠের মাঝখান থেকে অপ্রত্যাশিতভাবে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে বিশাল এক কংক্রিটের স্থাপনা। গ্রামীণ এই প্রাকৃতিক পরিবেশে এত বড় একটি স্থাপনা যেন একেবারেই বেমানান।
দূর থেকে এর অবয়ব দেখলে মনে হয়, এটি এমন একটি প্রতিষ্ঠান যেখানে অ্যাম্বুলেন্সের ছুটে আসা-যাওয়া, চিকিৎসকদের ব্যস্ততা এবং জরুরি বিভাগের বাইরে উদ্বিগ্ন স্বজনদের ভিড় থাকার কথা। কিন্তু বাস্তবে কয়েক দশক ধরে সেটি নীরব পড়ে আছে। স্থাপনাটি সম্পূর্ণরূপে বন্ধ এবং পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে।
চারতলা ভবনগুলো মরিচা ধরা ফটকের আড়ালে দাঁড়িয়ে আছে। দেয়ালজুড়ে ধরেছে ফাটল, আর ঘন লতাগুল্মে পুরো ভবন ছেয়ে গেছে। শ্যাওলার সবুজ আস্তরণে কংক্রিটের গায়ের রং বদলে গেছে। যেসব জায়গায় একসময় হাসপাতালের বাগান করার পরিকল্পনা ছিল, সেসব স্থানেও এখন গাছপালা জন্মেছে। হাসপাতালসংলগ্ন মসজিদ এবং মূল ভবনের বাইরের খোলা স্থানও ঘন ঝোপঝাড়ে ঢেকে গেছে।
একসময়ের প্রশস্ত আঙিনা এখন বুনো ঝোপঝাড়ে হারিয়ে গেছে। কৌতূহলী দর্শনার্থীদের চলাচলে তৈরি হওয়া সরু পথগুলো এখন অনিচ্ছাকৃতভাবে গড়ে ওঠা এক ছোট্ট জঙ্গলের ভেতর দিয়ে আঁকাবাঁকা হয়ে চলে গেছে।
স্থানীয়রা অনেক আগেই এটিকে হাসপাতাল বলা বন্ধ করে দিয়েছেন। এখন তারা একে 'ভুতুড়ে হাসপাতাল' নামেই চেনেন।
চৌহাট ইউনিয়নের রাজাপুর ও পাইকপাড়া গ্রামের মাঝামাঝি প্রায় ১৬ একর জমির ওপর বিস্তৃত এই পরিত্যক্ত ইউনুস খান ক্যানসার মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এখন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় অসমাপ্ত স্বাস্থ্যসেবা প্রকল্পগুলোর একটি।
এই বিশাল কমপ্লেক্সে শুধু বহুতল হাসপাতাল ভবনই নয়, চিকিৎসকদের আবাসন, মেডিকেল শিক্ষার্থীদের থাকার ব্যবস্থা, একটি মসজিদ, একটি পুকুর এবং আরও কয়েকটি সহায়ক ভবন রয়েছে।
তবুও এত বিশাল প্রকল্প হওয়া সত্ত্বেও এখানে আজ পর্যন্ত একজন রোগীকেও চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়নি। কোনো চিকিৎসক কখনো এখানে রোগী দেখার কক্ষ খুলেননি। এই ভবনের ভেতরে কখনো কোনো অস্ত্রোপচারও হয়নি।
ভবনের ভেতরে ঢুকলে দেখা যায়, যেসব স্থানে হাসপাতালের শয্যা থাকার কথা ছিল, সেসব মেঝে এখন ধুলার পুরু স্তরে ঢেকে আছে। করিডোরগুলো ভৌতিক নীরবতায় ফাঁকা পড়ে রয়েছে। অসমাপ্ত দেয়ালে কয়েক দশক আগের প্লাস্টারের চিহ্ন এখনো দেখা যায়। ভাঙা জানালা দিয়ে বৃষ্টির পানি ভেতরে চুইয়ে পড়ে। সিঁড়িগুলো দিয়ে ওয়ার্ডে যাওয়া গেলেও সেসব আসলে কার্যত ওয়ার্ড হয়ে উঠতে পারেনি।
এই কমপ্লেক্সের ভেতর দিয়ে হেঁটে গেলে মনে হবে না যে আপনি একটি পরিত্যক্ত ভবনে এসেছেন। বরং মনে হয়, বহু আগের কারও এক বিস্মৃত স্বপ্নের মধ্যে এসে পড়েছেন।
ছাদে দাঁড়ালে চারদিকে মাইলের পর মাইল বিস্তৃত কৃষিজমি চোখে পড়ে। প্রকল্পটি যদি শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হতো, তাহলে ধামরাই, টাঙ্গাইল, মানিকগঞ্জ ও গাজীপুরের হাজার হাজার মানুষ উন্নত চিকিৎসাসেবা পেতে অনেক কম দূরত্ব অতিক্রম করেই এখানে আসতে পারতেন। কিন্তু বিশাল এই স্থাপনাটি প্রায় চার দশক ধরে একাকীত্বের মধ্যেই ধীরে ধীরে জরাজীর্ণ হয়ে পড়ছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, মাদকাসক্তরা নিয়মিত ভবনের ভেতরে জড়ো হয়। আবার অনেকেই সতর্ক করেন, ঘন ঝোপঝাড়ের নিচে বিষধর সাপ লুকিয়ে থাকে। তাই সূর্য ডুবে যাওয়ার পর প্রবেশদ্বার পেরিয়ে ভেতরে যাওয়ার সাহস খুব কম মানুষই করেন।
গত আট বছর ধরে পুরো কমপ্লেক্সটির দেখভালের দায়িত্বে থাকা তত্ত্বাবধায়ক মামুন বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভবনটির পরিবর্তন আরও দ্রুত হয়েছে।
একটি প্রবেশপথের তালা খুলতে খুলতে তিনি বলেন, 'আমি যখন প্রথম এখানে আসি, তখন এতটা গাছপালায় ঢেকে যায়নি। মালিক বেঁচে থাকাকালে তখনো কাজ চলছিল। কিন্তু তিনি মারা যাওয়ার পর সবকিছুই থেমে যায়।'
তার ভাষ্য, সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের শাসনামলে নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল এবং মালিক নিজে তদারকি করায় কাজ এগিয়েও চলছিল।
কিন্তু তার মৃত্যুর পর সেই গতি হারিয়ে যায়। যন্ত্রপাতি থেমে যায়, শ্রমিকেরা চলে যান এবং অসমাপ্ত হাসপাতালটি ধীরে ধীরে সময়ের কাছে নিজেকে সঁপে দেয়।
বাবার স্মৃতিতে নির্মিত
এই প্রকল্পের সূচনা হয়েছিল এক ছেলের হৃদয়বিদারক অভিজ্ঞতা থেকে। তিনি নিজের বাবাকে ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করে হারাতে দেখেছিলেন এবং একটি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, যা শেষ পর্যন্ত পুরো এলাকার চিত্র বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেখিয়েছিল।
উনিশশো আশির দশকের শুরুতে চৌহাট গ্রামের প্রখ্যাত ব্যবসায়ী পরিবারের কর্ণধার ইউনুস খান ক্যানসারে আক্রান্ত হন। তার ছেলে শিল্পপতি খান মোহাম্মদ ইকবাল বাবার চিকিৎসার জন্য তাকে বিদেশে একের পর এক হাসপাতালে নিয়ে যান। আধুনিক চিকিৎসা হয়তো তার বাবার জীবন কিছুটা দীর্ঘায়িত করতে পারবে—এই আশায় তারা বিভিন্ন দেশে ছুটে বেড়িয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই চেষ্টা সফল হয়নি।
পরিবারের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের ভাষ্য, জীবনের শেষ সময়ে ইউনুস খান একটি ইচ্ছার কথা প্রকাশ করেছিলেন। তিনি চেয়েছিলেন, বাংলাদেশের মানুষ যেন ক্যানসারের চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে বা বিপুল অর্থ ব্যয় করতে বাধ্য না হয়। তার মৃত্যুর পরও সেই ইচ্ছা দীর্ঘদিন খান মোহাম্মদ ইকবালের মনে গেঁথে ছিল।
বাবার সেই ইচ্ছা পূরণে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হয়ে ইকবাল একটি অত্যন্ত উচ্চাভিলাষী বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রকল্প হাতে নেন। ১৯৮৫ সালে পরিবারের মালিকানাধীন প্রায় ১৬ একর জমির ওপর ইউনুস খান ক্যানসার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নির্মাণকাজ শুরু হয়।
পরিকল্পনাটি শুধু একটি সাধারণ হাসপাতাল নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। মূল হাসপাতাল ভবনের পাশাপাশি চিকিৎসকদের আবাসন, মেডিকেল শিক্ষার্থীদের ছাত্রাবাস, একটি মসজিদ, কর্মচারীদের আবাসন, একটি পুকুর এবং অন্যান্য সহায়ক অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনাও ছিল। বর্তমানে প্রকল্পটির তত্ত্বাবধানে থাকা ইকবাল আহমেদ ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, বছরের পর বছর ধরে এই প্রকল্পে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে।
এরশাদ মিয়া নামের একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, তিনি প্রায় ২৫ বছর আগে এই নির্মাণস্থলে আসা নির্মাণ শ্রমিকদের একজন ছিলেন। তিনি প্রায় ছয় বছর ধরে কমপ্লেক্সের বিভিন্ন অংশে রাজমিস্ত্রির কাজ ও প্লাস্টার করার কাজ করেছেন।
যদিও তিনি নির্মাণকাজের একেবারে প্রাথমিক পর্যায়গুলো দেখেননি, তবে তার মনে আছে যে প্রকল্পটি খুব দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছিল।
তবে একটি নির্দেশনা দুই দশকেরও বেশি সময় পরও তার মনে স্পষ্টভাবে গেঁথে আছে। এরশাদ বলেন, 'আমাদের বলা হয়েছিল, বিদেশ থেকে মানুষ আসবেন। তাই বাইরের অংশ যেন সম্পূর্ণ দেখায়, সে বিষয়েই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। আমরা মূলত বাইরের প্লাস্টারের কাজ করেছি। ভেতরের বেশির ভাগ ইটের গাঁথুনি তখনই সম্পন্ন ছিল, কিন্তু সবকিছু শেষ করার প্রয়োজন ছিল না।'
সেই বিদেশি অতিথিরা শেষ পর্যন্ত কখনো এসেছিলেন কি না, তা তিনি বলতে পারেন না।
প্রকল্পের প্রবেশমুখের কাছে একটি গোলাকার কংক্রিটের প্ল্যাটফর্ম নির্মাণের কথাও তার মনে আছে।
মৃদু হাসি দিয়ে এখনো মূল সড়কের পাশে টিকে থাকা সেই জীর্ণ কাঠামোর দিকে ইশারা করে তিনি বলেন, 'আমাদের বলা হয়েছিল, এখানে হেলিকপ্টার অবতরণ করবে।'
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এরশাদ মিয়ার অনেক স্মৃতিই ঝাপসা হয়ে গেছে। নির্মাণকাজ ঠিক কারা তদারকি করতেন কিংবা কেন শেষ পর্যন্ত কাজের গতি কমে গিয়েছিল, তা তিনি আর মনে করতে পারেন না।
ইকবাল আহমেদ ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপক মোর্শেদ চৌধুরী বলেন, ২০১৭ সালে খান মোহাম্মদ ইকবালের মৃত্যুর পর প্রকল্পটি তার মূল চালিকাশক্তি হারায়। তিনি বলেন, 'শিল্পপতির মৃত্যুর পর পুরো প্রকল্পই বন্ধ হয়ে যায়। তবে সরকার কিংবা কোনো ব্যক্তি যদি এটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেন, তাহলে মালিকপক্ষ সহযোগিতা করতে প্রস্তুত রয়েছে।'
একটি অপূর্ণ প্রতিশ্রুতি
আজ এই কমপ্লেক্সটি একই সঙ্গে একটি স্থাপত্যগত বিস্ময় এবং একটি অপূর্ণ প্রতিশ্রুতির প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। চৌহাট ইউনিয়নের আশপাশে বসবাসকারী মানুষের কাছে পরিত্যক্ত এই হাসপাতালটি কেবল ঘন গাছপালার আড়ালে লুকিয়ে থাকা একটি কৌতূহলের বিষয় নয়। এটি তাদের কাছে এমন এক স্বপ্নের স্মারক, যা বাস্তবে রূপ পেতে পারত, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা আর সম্ভব হয়নি।
প্রতিদিন ধামরাই থেকে রোগীবাহী বাস ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়। তাদের অনেকেই ক্যানসার গবেষণা ও হাসপাতাল কিংবা রাজধানীর অন্যান্য বিশেষায়িত চিকিৎসাকেন্দ্রে চিকিৎসা নিতে যান। চিকিৎসার ব্যয়ের পাশাপাশি যাতায়াত ও থাকার খরচ বহন করতে গিয়ে পরিবারগুলোকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা পথ পাড়ি দিতে হয়। কয়েক দশক ধরে খালি পড়ে থাকা এই বিশাল হাসপাতাল কমপ্লেক্সের দিকে তাকিয়ে অনেক বাসিন্দার মনেই প্রশ্ন জাগে—যদি কোনো দিন এই হাসপাতালের ওয়ার্ডগুলো চালু হতো, তাহলে তাদের জীবন কতটাই না ভিন্ন হতে পারত।
স্থানীয় বাসিন্দা এবং চিকিৎসাবিজ্ঞানের শিক্ষার্থী রহিমা মিমা বলেন, 'এই হাসপাতালটি ধামরাই, মানিকগঞ্জ, টাঙ্গাইল ও গাজীপুরের মানুষের সেবা দিতে পারত। এত বড় একটি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান হাজার হাজার মানুষের উপকারে আসত।'
অন্যরা তাদের হতাশার কথা আরও সরাসরি প্রকাশ করেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা রাজন আহমেদ বলেন, 'প্রতিষ্ঠাতার উদ্দেশ্য ছিল এলাকার মানুষের সেবা করা। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর বাস্তবায়িত হয়নি। এই অবকাঠামোটি যেন শেষ পর্যন্ত মানুষের কাজে লাগানো যায়, সে জন্য সরকারের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া উচিত।'
আরেক স্থানীয় বাসিন্দা সুমন ইসলাম বলেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই কমপ্লেক্সটি এলাকার স্বাভাবিক দৃশ্যের অংশ হয়ে গেছে। তবে মানুষের উপকারে আসার কারণে নয়, বরং বছরের পর বছর ধরে এটিকে ধীরে ধীরে ধ্বংস হতে দেখতেই মানুষ অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে।
তবে কয়েক দশকের অবহেলার পরও ভবনগুলোর মূল কাঠামো এখনো দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে রয়েছে। প্রধান হাসপাতাল ভবনটি এখনো পুরো কমপ্লেক্সের কেন্দ্রীয় স্থাপনা হিসেবে মাথা উঁচু করে আছে। আবাসিক ভবনগুলোর বেশির ভাগই এখনো অক্ষত রয়েছে। মসজিদটি এখনো পুরো প্রাঙ্গণের দিকে তাকিয়ে আছে। আর কমপ্লেক্সের পেছনের পুকুরের জলে প্রতিফলিত হয় সেই ভবনগুলোর ছবি।
দীর্ঘদিন প্রকৃতির প্রভাবে অবকাঠামোর কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও পুরো ক্যাম্পাসের বড় একটি অংশ এখনো টিকে রয়েছে। এটি প্রমাণ করে, প্রকল্পটির পেছনে একসময় কত বড় বিনিয়োগ করা হয়েছিল।
এখন আর মূল প্রশ্নটি এই নয় যে প্রকল্পটি কেন ব্যর্থ হয়েছিল। বরং প্রশ্ন হলো, এই প্রকল্পটি কি এখনো নতুন করে জীবন ফিরে পাওয়ার যোগ্য?
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এ বিষয়ে আলোচনা ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে।
ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল মামুন বলেন, 'হাসপাতালটি চালু করার জন্য আমরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে বিষয়টি জানিয়েছি।'
সরকার অথবা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান যদি এই প্রকল্পটি পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ নেয়, তাহলে মালিকপক্ষ সহযোগিতা করতে প্রস্তুত রয়েছে বলেও তারা জানিয়েছে।
হাসপাতালটির অবস্থান এমন একটি স্থানে, যেখান থেকে চারটি জেলার মানুষ সহজেই এখানে পৌঁছাতে পারবে। বড় একটি চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় ভৌত অবকাঠামোর বড় অংশই এই কমপ্লেক্সে ইতোমধ্যে রয়েছে।
নিশ্চয়ই এটিকে আবার বাঁচিয়ে বা সচল করে তুলতে প্রচুর বিনিয়োগ, কাঠামোগত মূল্যায়ন এবং বছরের পর বছর ধরে কঠোর পরিশ্রমের প্রয়োজন হবে, তাই এর বিকল্প হতে পারে, বাংলাদেশের অন্যতম বৃহত্তম বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবার স্বপ্নকে লতাগুল্ম আর শ্যাওলার নিচে চিরতরে হারিয়ে যেতে দেওয়া।