শহীদ ওসমান হাদির নাম মুছে আগের নামে ফিরছে ‘শেখ মুজিবুর রহমান হল’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ মুজিবুর রহমান হলের প্রধান ফটকে আবারও আগের নামফলক ফিরিয়ে আনা হচ্ছে। 'শহীদ ওসমান হাদি হল' নামফলক সরিয়ে সেখানে 'শেখ মুজিবুর রহমান হল' লেখা নামফলক স্থাপন করা হবে।
আজ বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে হলের প্রধান ফটক থেকে 'শহীদ ওসমান হাদি হল' নামটি সরিয়ে ফেলার কার্যক্রম শুরু হয়।
এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) থেকে হলটির নাম পরিবর্তন করার দাবি উঠলেও, বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেট—এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেয়নি। ফলে হলের প্রধান ফটকে আগের নাম ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী বলেন, "গত সিনেটে স্থাপনাগুলোর নাম আগের মত রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এখন সেটাই করা হচ্ছে।"
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর ইসরাফিল রতন দ্য বিজনেজ স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, "আমি শুনেছি বিষয়টা, তবে প্রক্টর অফিসকে হল প্রশাসন থেকে জানানো হয়নি। আমি প্রক্টরিয়াল টিমকে পাঠিয়েছি বিষয়টা অবজারভ করতে। হল প্রশাসন হয়তো নিজ উদ্যোগে করতে পারে।"
তবে হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামানের সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
এর আগে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে আততায়ীদের গুলিতে ওসমান হাদির মৃত্যুর পর—ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ মুজিবুর রহমান হলের নাম পরিবর্তনের দাবি ওঠে। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরা হলের প্রধান ফটকের পুরোনো নামফলক সরিয়ে সেখানে 'শহীদ ওসমান হাদি হল' নাম লিখে দেন। গত বছরের ২০ ডিসেম্বর রাতে ক্রেন ব্যবহার করে হলের নামফলক পরিবর্তনের কাজ করা হয়েছিল।
এরপর ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় শেখ মুজিবুর রহমান হলের নাম পরিবর্তন করে 'শহীদ ওসমান হাদি হল' করার সুপারিশ করা হয়। একই সভায় বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের নাম পরিবর্তনেরও সুপারিশ করা হয়েছিল। তবে এসব সুপারিশ সিন্ডিকেট অনুমোদন না দিয়ে, ফের সিনেটে সিদ্ধান্তের জন্য পাঠায়।
তবে গত ২৯ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্ষিক সিনেট অধিবেশনে, নাম পরিবর্তনের বিষয়টি অনুমোদন না দিয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম প্রস্তাবটি পুনরায় সিন্ডিকেটে পাঠানোর কথা জানান।
