বাংলা কিউআর পেমেন্টে গ্রাহকের কোনো খরচ নেই, পুরো সেবাই ফ্রি
সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাংলা কিউআর পেমেন্টে অতিরিক্ত চার্জ কাটা নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে, অনেকে দাবি করছেন, কোনো গ্রাহক ১ হাজার টাকা পেমেন্ট করলে ১০ টাকা কেটে নেওয়া হবে। এমন প্রচারণা সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে বাংলা কিউআর-এর প্রতি এক ধরনের অনাগ্রহ তৈরি করেছে।
অনেক গ্রাহক মনে করছেন, এই অতিরিক্ত টাকা তাদের পকেট থেকেই দিতে হবে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ ধারণাকে সম্পূর্ণ ভুল বলে জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, 'কেনাকাটার ক্ষেত্রে গ্রাহককে কোনো চার্জ দিতে হবে না। অপনি ক্রেতা হিসেবে শূন্য শতাংশ চার্জ দিয়েই পণ্য কিনতে পারবেন। তবে এই চার্জ দিতে হবে বিক্রেতাকে অর্থাৎ মার্চেন্টকে।'
নিচে ব্যয়ের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরা হলো—
বিক্রেতা বা মার্চেন্টের খরচ: ১ হাজার টাকায় সর্বোচ্চ ১০ টাকা এবং এর ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট, অর্থাৎ সর্বোচ্চ ১ শতাংশ হারে চার্জ প্রযোজ্য হবে। ফলে মোট ১১ টাকা ৫০ পয়সা মার্চেন্টের খরচ হিসেবে গণ্য হবে।
অনেকে প্রশ্ন করতে পারেন, কেন এই খরচ বহন করতে হবে। বর্তমানে অনেক বিক্রেতা, যেমন—আড়ং, মীনা বাজার, ইউসিবি, ইজি ও এ ধরনের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ক্রেডিট কার্ডে নানা ধরনের ছাড় দিয়ে থাকে। তবে ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে অর্থ গ্রহণের জন্য তাদের অতিরিক্ত চার্জ দিতে হয়। এ খরচ বহন করলেও ক্রেডিট কার্ডের ছাড়ের কারণে তাদের বিক্রির পরিমাণ বৃদ্ধি পায়।
সাধারণ গ্রাহকদের জন্য পরামর্শ ও সচেতনতা
ডিজিটাল পেমেন্টসংক্রান্ত গুজবে কান দেবেন না। পণ্য কেনার পর কিউআর কোডের মাধ্যমে পেমেন্ট করার সময় সতর্ক থাকুন।
বিক্রেতা যদি পণ্যের মূল্যের অতিরিক্ত টাকা দাবি করেন, তবে সেটি বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী সম্পূর্ণ অবৈধ ও নিয়মবহির্ভূত, যা নীতিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
কোনো বিক্রেতা এমন দাবি করলে সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক, এমএফএস প্রোভাইডার বা জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে অভিযোগ জানান।
