আমাকে সমর্থন করুন, না হলে তহবিল হারাবেন: ফিফা সদস্যদের ৫৩ দিনের আল্টিমেটাম ইনফান্তিনোর
চাপের মুখে থাকা ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো সদস্য দেশগুলোর সামনে ৫৩ দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন। বিশ্বকাপের অংশীদারিত্ব বিক্রির তার পরিকল্পনায় সমর্থন না দিলে সম্ভাব্য অর্থায়নের ৭৫ শতাংশ হারানোর ঝুঁকিতে পড়তে হবে বলে সতর্ক করেছেন তিনি।
ফিফার ২১১টি সদস্য সংস্থার কাছে পাঠানো এক চিঠিতে ইনফান্তিনো জানান, তার প্রস্তাব অনুমোদিত হলে ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকেই সর্বোচ্চ ১০ বিলিয়ন ডলারের সুবিধা উন্মুক্ত করা হবে। পাশাপাশি নতুন 'ফিফা ফরওয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ' প্রস্তাবের আওতায় প্রতিটি সদস্য সংস্থা সর্বোচ্চ ৪ কোটি ডলার পর্যন্ত অর্থায়নের সুযোগ পেতে পারে।
তবে ইনফান্তিনো সতর্ক করে বলেছেন, ফিফার এই বেসরকারি বিনিয়োগ পরিকল্পনা শেষ পর্যন্ত সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে অনুমোদিত হলেও, যেসকল সদস্য দেশ এটির বিরোধিতা করবে তাদের এই নতুন অর্থায়ন কাঠামোর বাইরে রাখা হবে। এমন পদক্ষেপ কার্যকর হলে বিশ্ব ফুটবলে অর্থায়নের ক্ষেত্রে একটি দ্বি-স্তরীয় ব্যবস্থা তৈরি হবে, যা খেলায় আর্থিক ক্ষমতার ভারসাম্যকে পুরোপুরি বদলে দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করবে।
সিদ্ধান্তের সময়
ফিফার ২১১টি সদস্য সংস্থার কাছে পাঠানো ওই চিঠিতে ইনফান্তিনো সদস্য সংস্থাগুলোকে আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন। ফিফার বাণিজ্যিক স্বত্বের ২০ থেকে ৩০ শতাংশ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করার এই পরিকল্পনায় তারা সম্মত কি না, তা এই সময়ের মধ্যেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
চিঠিতে ইনফান্তিনো লিখেছেন, এই প্রস্তাবটি নিয়ে এগিয়ে যাওয়া হবে কি হবে না, সেই সিদ্ধান্ত পুরোপুরি আপনাদের।
তিনি আরও লিখেছেন, আপনারা যদি এতে এগিয়ে যেতে চান, তবে ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে এই ১০ বিলিয়ন ডলারের প্যাকেজটি পাওয়া যাবে, যা আমাদের একসাথে চলার পরবর্তী ধাপের সূচনা করবে। এর বিনিময়ে শুধু আপনাদের ধারাবাহিক আস্থা প্রয়োজন—বাকি সবকিছু একই থাকবে।
তিনি যোগ করেছেন, আর আপনারা যদি বর্তমান ব্যবস্থা বহাল রাখতে চান এবং এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন, তাহলেও আগে ঘোষিত ২ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের ফিফা ফরওয়ার্ড কর্মসূচির সম্প্রসারণ অব্যাহত থাকবে, যা আমাদের খেলার উন্নয়ন ও বিকাশে কাজ করে যাবে। আমরা একসঙ্গে আরও অনেক ভালো কাজ করে যাব।
ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনসহ (এফএ) ফিফার অধিকাংশ সদস্যের অগোচরেই ইনফান্তিনোর এমন প্রস্তাব সামনে আসায় বিশ্বজুড়ে এর তীব্র প্রতিক্রিয়া ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
তবে ইনফান্তিনো দাবি করেছেন, এই ভোটাভুটি হবে সদস্য সংস্থাগুলোর হাতে থাকা একটি সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত এবং এটি পাস হতে সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রয়োজন হবে।
তিনি আরও যোগ করেন, আমাদের গণতান্ত্রিক নীতির সাথে সংগতি রেখে, ফিফা ফরওয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ বাস্তবায়ন সম্পূর্ণভাবে দুটি ধাপের ওপর শর্তাধীন থাকবে—
১. নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে প্রক্রিয়াটিতে অংশগ্রহণকারী ফিফা সদস্য সংস্থাগুলোর সংখ্যাগরিষ্ঠের সমর্থন।
২. ফরওয়ার্ড প্রোগ্রামে প্রয়োজনীয় সমন্বয় আনার জন্য ফিফা কাউন্সিলের স্পষ্ট অনুমোদন।
বিরোধীরা বলছেন 'ঘুষ'
চিঠিটির বিষয়ে বিরোধীরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এদের মধ্যে এক কর্মকর্তা 'দ্য টাইমস'-কে বলেছেন, এটি 'বিশুদ্ধ ঘুষ দেওয়া ছাড়া আর কিছুই নয়।
২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিতর্কিত সেপ ব্ল্যাটার পদত্যাগ করার পর সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া ইনফান্তিনো তার সময়কালে ফিফার তহবিল বৃদ্ধির বিষয়টি চিঠিতে তুলে ধরেছেন। ব্ল্যাটারের অধীনে ১১ বছরে যেখানে প্রতিটি সদস্য দেশ প্রায় ৩ মিলিয়ন করে পেয়েছিল, সেখানে ইনফান্তিনো তার এই স্বত্ব বিক্রির পরিকল্পনায় সমর্থন দিলে ২০২৭ সাল থেকে শুরু হওয়া পরবর্তী সমপরিমাণ সময়ে সদস্য দেশগুলোকে প্রায় ৮৫ মিলিয়ন ডলারের বেশি দেওয়ার প্রস্তাব করছেন।
ইনফান্তিনো বলেন: 'প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে ফরওয়ার্ড ফান্ডিং বৃদ্ধির মাধ্যমে সদস্য সংস্থাগুলো নিচের সুবিধাগুলো পাবে:
১. ফিফা ফরওয়ার্ড – ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া সাইকেলে প্রতিটি সদস্য সংস্থার জন্য ২০ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ থাকবে, যা সমানভাবে ২১১টি সদস্য সংস্থার মধ্যে বণ্টন করা হবে।
এটি প্রতিটি সাইকেলে বাড়তে থাকবে; ২০৩১-২০৩৪ সালের জন্য ২২ মিলিয়ন ডলার, ২০৩৫-২০৩৮ সালের জন্য ২৪ মিলিয়ন ডলার এবং একইভাবে সামনে এগোবে।
২. ফিফা ফাস্ট-ফরওয়ার্ড (একটি নতুন প্রোগ্রাম) – এটি শুধু অংশগ্রহণ করতে ইচ্ছুক সদস্য সংস্থাগুলোর জন্য একটি অনন্য ও একক অর্থায়নের সুযোগ, যেখানে প্রতিটি সংস্থা ২০ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত পাবে। এজন্য ২০২৬ সালের ১৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে হবে যাতে আমরা আগাম পরিকল্পনা করতে পারি এবং ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকেই তহবিল এককালীন পাওয়া যাবে।
কোনো ধরনের নিয়ন্ত্রণ হস্তান্তর না করে, সতর্কতার সাথে বাছাই করা দীর্ঘমেয়াদি বাহ্যিক বিনিয়োগকারীদের কাছে 'ফিফা ফরওয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ'-এর একটি সংখ্যালঘু শেয়ার বিক্রি করে ফিফা এটি অর্থায়ন করবে।
২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে শুরু হতে যাওয়া আসন্ন সাইকেলে এই প্রস্তাবের অধীনে প্রতিটি সদস্য সংস্থার মোট ৪০ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত পাওয়ার সুযোগ থাকবে।
