বিশ্ব ফুটবল পরিচালনায় নতুন কাঠামো তৈরিতে কাজ করছেন ইনফান্তিনোর বিরোধীরা
বিশ্ব ফুটবল পরিচালনায় নতুন একটি কাঠামো তৈরির উদ্যোগ নিয়েছেন জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিরোধীরা। ইনফান্তিনো ১০ বছর আগে সেপ ব্লাটারের কাছ থেকে দায়িত্ব নেওয়ার পর ফিফায় যে পৃষ্ঠপোষকতাভিত্তিক ব্যবস্থা গড়ে তুলেছেন, যেখানে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার প্রবণতা রয়েছে বলেই মনে করেন তারা।
ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা, উত্তর ও মধ্য আমেরিকা এবং ক্যারিবীয় অঞ্চলের ফুটবল সংস্থা কনকাকাফ এবং এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি) ফিফার পরিচালনা ব্যবস্থা নিয়ে স্বাধীন পর্যালোচনার দাবি জানিয়ে আসছে। কিন্তু দুই সপ্তাহ আগে ইনফান্তিনোর বিশ্বকাপের ২১ শতাংশ অংশ বিক্রির পরিকল্পনা প্রকাশ্যে আসার পরও তিনি তাদের আহ্বানে সাড়া দেননি। এখন এই তিন সংস্থা নিজেরাই উদ্যোগ নিয়েছে।
বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র দ্য গার্ডিয়ানকে জানিয়েছে, তিন কনফেডারেশন মিলে একটি নীতিগত নথি তৈরির কাজ করছে। এতে ভবিষ্যতে ফিফাকে কীভাবে পরিচালনা করা যেতে পারে, তার একটি রূপরেখা থাকবে। এই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের ফিফার ভবিষ্যৎ নিয়ে মৌলিক কিছু প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে বলা হয়েছে। ফিফার সুনির্দিষ্ট ভূমিকা কী হওয়া উচিত, সংস্থাটির কাঠামো কেমন হবে এবং কী ধরনের পরিচালনব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত—এসব বিষয়ও এতে অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
সদস্য দেশগুলোর মধ্যে ফিফার অর্থ কীভাবে বণ্টন করা হবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে ফিফার প্রায় ৫০০ কোটি ডলার রিজার্ভ কীভাবে সবচেয়ে কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।
ইনফান্তিনো আলোচনায় বসতে অস্বীকৃতি জানালে আগামী বছরের ফিফা সভাপতি নির্বাচনে তার কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী এই নতুন কাঠামো গ্রহণ করতে পারেন। এমনকি এটি ফিফা থেকে বেরিয়ে নতুন কোনো সংগঠন তৈরির ভিত্তিও হতে পারে।
সোমবার এক যৌথ বিবৃতিতে উয়েফা, কনকাকাফ ও এএফসি বলেছিল, ফুটবলের জন্য কাজ করবে, ফুটবলকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করবে না—এমন নেতৃত্ব প্রয়োজন। এরপর তারা জানায়, ফিফার নেতৃত্বের সঙ্গে এই বিরোধ অব্যাহত থাকলে নতুন প্রতিযোগিতা আয়োজনের বিষয়েও প্রাথমিক আলোচনা শুরু করেছে।
বর্তমানে আগামী মাসে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া অনূর্ধ্ব-২০ নারী বিশ্বকাপ ইউরোপীয় দলগুলোকে ছাড়াই হতে পারে। উয়েফা জানিয়েছে, ফিফা বিশ্বকাপের অংশীদারত্ব বিক্রির বিতর্ক নিয়ে দ্রুত স্বাধীন তদন্তের ব্যবস্থা না করলে এবং ভবিষ্যতে এমন উদ্যোগ আর নেওয়া হবে না—এমন আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক নিশ্চয়তা না দিলে তাদের সদস্য দেশগুলো এই টুর্নামেন্ট বয়কট করবে।
এই মুহূর্তে ইনফান্তিনোর সবচেয়ে সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে কনকাকাফের সভাপতি ভিক্টর মন্তাগলিয়ানির নাম আলোচনায় রয়েছে। তবে জুনে দ্য গার্ডিয়ানকে তিনি বলেছিলেন, আগামী বছর উত্তর ও মধ্য আমেরিকার ফুটবল কনফেডারেশনের সভাপতি হিসেবে পুনর্নির্বাচিত হওয়াই এখন তার প্রধান লক্ষ্য।
তবে সোমবার প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে মন্তাগলিয়ানির বক্তব্যের সঙ্গে মিল পাওয়া গেছে। চলতি বছর ভ্যাঙ্কুভারে ফিফা কংগ্রেসে তিনি বলেছিলেন, 'সোজা কথা বলি, নেতৃত্ব মানে ক্ষমতা নয়।'
ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ কেলেঙ্কারি প্রকাশ্যে আসার পর এবারই প্রথম ইউরোপীয় ফুটবলের শীর্ষ কর্মকর্তারা সরাসরি বৈঠকে বসছেন। আগামী দুই দিনে সালজবুর্গে বেশ কয়েকটি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। বুধবার সেখানে উয়েফা সুপার কাপের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে।
উয়েফার সভাপতি আলেকসান্ডার সেফেরিন ইউরোপিয়ান ফুটবল ক্লাবসের চেয়ারম্যান নাসের আল-খেলাইফির সঙ্গে বৈঠক করবেন। ফিফার শীর্ষ নেতৃত্বে পরিবর্তনের দাবিতে ইউরোপীয় ফুটবলের ঐক্য আরও জোরদার করাই হবে এই বৈঠকের অন্যতম লক্ষ্য।
ফিফার প্রতিযোগিতা বয়কটের সিদ্ধান্তে এখনো অনড় রয়েছে উয়েফা। বর্তমান সংকটের কারণ হওয়া বিষয়গুলোর পুনরাবৃত্তি আর হবে না—এমন কাঙ্ক্ষিত নিশ্চয়তা এখনো ফিফার কাছ থেকে পায়নি তারা।
